রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতা শহর যেন ফিরে গেল সুরের এক অন্য জগতে। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি সেতারশিল্পী পণ্ডিত রবি শঙ্করের কন্যা অনুষ্কা শঙ্কর, জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং এবং তবলা বাদক বিক্রম ঘোষ। সুরের মেলবন্ধনে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন হাজার হাজার দর্শক। মঞ্চে উঠে নিজের কৈশোরের স্মৃতিচারণা করে অনুষ্কা জানান, ১৪ বছর বয়সে এই মঞ্চেই প্রথম অনুষ্ঠান করেছিলেন তিনি। তিন দশক পর সেই একই জায়গায় ফিরে এসে আবেগে ভেসে যান শিল্পী, আর তাঁর কথার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরাও যেন ফিরে যান অতীতে।
এই সন্ধ্যার আর এক আকর্ষণ ছিলেন অরিজিৎ সিং। অনুষ্কার সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দি দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি, প্লে-ব্যাক থেকে অবসর নেওয়ার পর মঞ্চে ফিরে আসা বিক্রম ঘোষকে প্রণাম জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন অরিজিৎ। সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে এই সন্ধ্যা হয়ে ওঠে স্মরণীয়। অনুষ্কা শঙ্করের ‘ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর অংশ হিসেবেই কলকাতার এই অনুষ্ঠান, যেখানে আগেই জল্পনা ছিল অরিজিৎ সিং বিশেষ অতিথি হতে পারেন। রবিবারের অনুষ্ঠানে সেই জল্পনাই বাস্তব রূপ নেয়।
কিন্তু এই আনন্দিত সন্ধ্যার আড়ালেই তৈরি হয় এক তিক্ত বিতর্ক। অনুষ্ঠান ঘিরে অপমান ও সম্মানহানির অভিযোগ তুলে মুখ খুললেন প্রখ্যাত শিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব প্রথমে তাঁর ওপরই ছিল। আয়োজকদের তরফে তাঁকে ‘মাস্টার অফ সেরিমনি’ হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং ইমেইল করে পারিশ্রমিকের কথাও হয়ে গিয়েছিল। এমনকি অনুষ্ঠান পরিকল্পনার নানা স্তরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাহায্য করেছিলেন বলেও জানান সুজয়।
সুজয়ের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের ঠিক এক ঘণ্টা আগে তাঁকে জানানো হয় যে তিনি মঞ্চে উঠতে পারবেন না। কারণ হিসেবে দেখানো হয় অনুষ্কা শঙ্করের টিমের তথাকথিত ‘কমিউনিকেশন ডিরেক্টিভ’, যেখানে নাকি সঞ্চালক না রাখার নির্দেশ ছিল। সুজয়ের বক্তব্য, আয়োজকরা এই তথ্য আগে থেকেই জানতেন, অথচ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি। এই আচরণকে চূড়ান্ত অপেশাদারিত্ব ও সমন্বয়হীনতা বলে উল্লেখ করেন তিনি। সমাজমাধ্যমে সুজয় লেখেন, জনসমক্ষে যে মানসিক যন্ত্রণা ও সম্মানহানির মধ্যে দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে, তা কোনওভাবেই পূরণীয় নয়।
আরও পড়ুনঃ আবার তৃতীয় ব্যক্তি, আবার সেই প’রকীয়ার গন্ধ! বিয়ে করেও শান্তি নেই কমলিনীর জীবনে! মেয়েদের লাইন লেগেই আছে স্বতন্ত্রর পেছনে! নতুন নারীর আগমনে ফের তোলপাড় ‘চিরসখা’!
সুজয়ের কথায়, প্রচারের জন্য নয়, ভবিষ্যতে যাতে অন্য শিল্পীরা সতর্ক থাকেন, সেই কারণেই তিনি নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বহু অনুরাগী শুধুমাত্র তাঁর সঞ্চালনা শোনার আশায় টিকিট কেটেছিলেন—তাঁদের কাছেও ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি তার কথার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন দিয়েছেন, একজন শিল্পীকে যখন কোনও কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেই মুহূর্ত থেকেই তাঁর ভেতরে কাজটি নিয়ে প্রস্তুতি ও ভাবনাচিন্তা শুরু হয়ে যায়। সেই মানসিক প্রস্তুতি, পরিকল্পনা আর সৃষ্টিশীল চিন্তাধারায় যে সময় ও শ্রম ব্যয় হয়, তা কোনও পারিশ্রমিকের অঙ্ক দিয়েই মাপা বা কেনা সম্ভব নয়। এই কারণেই ঘটনাটিকে তিনি শুধুমাত্র পেশাগত নয়, বরং একজন শিল্পীর আত্মসম্মান ও সৃজনশীলতার উপর আঘাত বলেই মনে করছেন।






