বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় এমন কিছু মুখ থাকে, যাদের ছাড়া গল্প এগোয় না, অথচ তারা কখনও নায়িকার আলোয় থাকেন না। বছরের পর বছর নিজের অভিনয় দক্ষতায় ধারাবাহিককে সমৃদ্ধ করেও থেকে যান আড়ালে। ঠিক তেমনই এক পরিচিত নাম সোমজিতা ভট্টাচার্য। প্রায় দুই দশক ধরে ছোট পর্দায় সক্রিয় এই অভিনেত্রী আজও সমান সাবলীল, সমান প্রাণবন্ত। দর্শক তাঁকে কখনও বাড়ির কাজের লোক, কখনও কাকিমা-জেঠিমা, আবার কখনও কমিক চরিত্রে দেখে অভ্যস্ত।
হুগলির চন্দননগরেই কেটেছে সোমজিতার শৈশব। প্রাথমিক পড়াশোনা চন্দননগরের কৃষ্ণভাবিনী নারী শিক্ষানিকেতন থেকে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়-এ। খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল তাঁর। স্কুল-কলেজের অনুষ্ঠানে নিয়মিত মঞ্চে উঠতেন। অভিনয় শেখার জন্যও নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সুযোগ আসে ছোট পর্দায়—প্রথমে দু-একটি ধারাবাহিক ও টেলিফিল্ম, তারপর ধীরে ধীরে বড় সুযোগ।
তৎকালীন ইটিভি বাংলার ‘মেঘ বালিকা’ ধারাবাহিক তাঁকে দর্শকের নজরে আনে। তবে আসল মোড় ঘোরে ‘সুবর্ণলতা’ ধারাবাহিকে সুবালা চরিত্রে অভিনয়ের পর। সেই চরিত্র তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় ধারাবাহিক—‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘সীমারেখা’, ‘সাত পাকে বাঁধা’, ‘এখানে আকাশ নীল’, ‘ভূতু’, ‘প্রেমের কাহিনী’, ‘কন্যাদান’, ‘তোমাদের রানী’, ‘তোমার খোলা হাওয়া’, ‘খেলাঘর’, ‘আলোর ঠিকানা’, ‘প্রথম কদমফুল’—সবেতেই নিজস্ব ছাপ রেখেছেন তিনি। বড় চরিত্র না হয়েও অভিনয়ের জোরেই দর্শকের মনে জায়গা পেয়েছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দেওয়াতেও সমান আগ্রহী সোমজিতা। তাঁর নিজস্ব অভিনয় শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে, যা তিনি স্বামী সুমিত দামের সঙ্গে মিলেই পরিচালনা করেন। সুমিতও টলিউডের সঙ্গে যুক্ত—তিনি পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার, পাশাপাশি কয়েকটি ধারাবাহিক প্রযোজনাও করেছেন। কাজের সূত্রেই তাঁদের পরিচয়, সেখান থেকেই বন্ধুত্ব, প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত বিবাহ।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণার পরই কালীঘাটে কোয়েল মল্লিক! রাজনীতির ময়দানে নামার আগে, মাতৃশক্তির আশীর্বাদ নিলেন সপরিবারে! নতুন অধ্যায়ের শুরু নিয়ে কী বললেন টলি কুইন?
দুজনেই কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তবু সুযোগ পেলেই সময় বের করে নেন নিজেদের জন্য। ভ্রমণ ভালোবাসেন, নতুন জায়গা ঘুরে দেখতে পছন্দ করেন। সন্তান না থাকলেও তাঁদের সংসার পরিপূর্ণ বলেই মনে করেন ঘনিষ্ঠরা। আড়ালে থেকে, বড় আলো ছাড়াই, নিরলস পরিশ্রমে নিজের জায়গা তৈরি করে নেওয়া সোমজিতা ভট্টাচার্য আসলে প্রমাণ করে দেন—অভিনয় বড়, চরিত্রের আকার নয়।






