“আমি অনেকদিন আগে আমার কলকাতা হারিয়ে ফেলেছি!” “শহরটা ক্রমশ অবাসযোগ্য হয়ে উঠছে, কলকাতার প্রাণটা নিভে আসছে…” দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে হটাৎ প্রিয় শহরকে নিয়ে কেন আক্ষেপের সুর প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের গলায়? বাচিকশিল্পীর সঙ্গে কি আপনিও একমত? সত্যিই কি হারিয়ে যাচ্ছে চেনা কলকাতার ঐতিহ্য?

কলকাতা সংস্কৃতি, শিল্প, থিয়েটার, সাহিত্য ও মানুষের আবেগে গড়ে ওঠা এই শহরকে ঘিরে বাঙালির নস্টালজিয়া বরাবরই গভীর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে শহরের চেহারা বদলেছে, বদলেছে মানুষের জীবনযাপন ও পারস্পরিক সম্পর্কও। যানজট, ব্যস্ততা, রাস্তায় উত্তেজনা থেকে শুরু করে মানুষের মধ্যে দূরত্ব শহরকে ঘিরে এমন নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন ওঠে, সত্যিই কি আগের সেই কলকাতা আর আছে? সম্প্রতি এই শহর নিয়েই নিজের দীর্ঘদিনের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।

বাংলা বিনোদন জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। অভিনয়, থিয়েটার, কবিতা আবৃত্তি এবং একক পারফরম্যান্স, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজ। থিয়েটারকেই নিজের প্রথম ভালোবাসা বলে মনে করেন তিনি। ২০১৫ সালে ‘বেলাশেষে’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় পরিচিতি পান। পরবর্তীতে ‘যোগাযোগ’, ‘বিদায় ব্যোমকেশ’, ‘শাহজাহান রেজেন্সি’, ‘বেলাশুরু’, ‘শহরের উষ্ণতম দিনে’-সহ একাধিক কাজে দেখা গিয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি নিজের সামাজিক পরিচয় ও এলজিবিটিকিউ (LGBTQ+) অধিকার নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।

তবে সম্প্রতি কলকাতাকে নিয়ে তাঁর বক্তব্যে উঠে এল একরাশ আক্ষেপ। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সুজয় প্রসাদ বলেন, “বর্তমানে আর ভালো লাগে না আমার কলকাতা। আমি অনেকদিন আগে আমার কলকাতা হারিয়ে ফেলেছি।” তাঁর কথায়, এই শহরের সঙ্গে তাঁর যে আবেগের সম্পর্ক ছিল, সময়ের সঙ্গে কোথাও যেন সেই পরিচিত শহরটাকেই হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। ফলে কলকাতার বর্তমান পরিস্থিতি তাঁর কাছে শুধুমাত্র পরিবর্তনের গল্প নয়, বরং ব্যক্তিগত কষ্টেরও কারণ।

শহরের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে আরও বিস্তারিত বলতে গিয়ে অভিনেতা বলেন, “এখন আর ভালো লাগে না, এই শহর ক্রমশ অবাসযোগ্য হয়ে উঠছে। এটা আমার একটা বিরাট কষ্টের জায়গা।” তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের পরিবর্তনের প্রসঙ্গ। সুজয় প্রসাদের কথায়, “কোথাও না কোথাও মানুষের মধ্যে মানুষ ব্যাপারটা আর নেই।” অর্থাৎ তাঁর অভিজ্ঞতায়, ব্যস্ত শহুরে জীবনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও মানবিক যোগাযোগের জায়গাটিও যেন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ “দিলীপ কুমারের যেমন ছিলেন সায়রা বানু, আমিও দীপঙ্করের জীবনে তেমনই হয়ে থাকতে চাই” মনের কথা খুলে বললেন দোলন রায়! অভিনেতার বড় মেয়ের থেকেও ছোট, বয়সের চূড়ান্ত ব্যবধান পেরিয়ে চুটিয়ে করেছেন প্রেম ও সহবাস! পরিবার ও সমাজের আপত্তিও টলাতে পারেনি সেই সম্পর্ক, সব বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে কীভাবে ২৩ বছর পর দীপঙ্কর দে-র সঙ্গেই হল অভিনেত্রীর বিয়ে?

এরপর কলকাতার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সুজয় প্রসাদ বলেন, “প্রচুর পরিমাণে রোড রেজ বেড়ে গেছে।” তাঁর মতে, এই ধরনের পরিবর্তন শুধু রাস্তায় চলাচলের সমস্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শহরের সামগ্রিক পরিবেশকেও প্রভাবিত করছে। সবশেষে নিজের আক্ষেপের জায়গাটি আরও স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমাদের কলকাতার শহরের প্রাণটা নিভে আসছে, যত দিন যাচ্ছি এটাই আমার মনে হচ্ছে।” তাঁর এই মন্তব্যে তাই উঠে এল এক শিল্পীর চোখে বদলে যাওয়া কলকাতার ছবি যে শহর একসময় তাঁর কাছে আপন ছিল, সেই শহরকেই আজ কেন এতটা অচেনা মনে হচ্ছে, সেটাই ভাবাচ্ছে তাঁর বক্তব্যের পর অনেককে।

You cannot copy content of this page