ওখানে খুব মশা! যোগ্যতা দিয়ে থাকা আরবানার খুঁত ধরলেন সুজয় প্রসাদ! ‘কলকাতার রাস্তায় থাকতে গেলেও কি এবার যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে?’ রচনাকে প্রশ্ন ছুঁড়লেন তিনি

রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরবানা’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিনেত্রী-সাংসদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা, সমালোচনা এবং কটাক্ষ। কেউ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর মন্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে। বিশেষ করে ‘কোথায় থাকা উচিত’ বা ‘কোন এলাকায় কার থাকার যোগ্যতা রয়েছে’ এমন ইঙ্গিতপূর্ণ ব্যাখ্যা ঘিরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ, অনেকেই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। ফলে একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হিসেবে শুরু হওয়া মন্তব্য ধীরে ধীরে জনপরিসরের বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

রচনার বক্তব্য সামনে আসার পর সমাজমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এটিকে নিছক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে দেখেছেন, আবার অনেকের মতে এই মন্তব্যের মধ্যে শ্রেণিগত বিভাজনের ইঙ্গিত রয়েছে। বিভিন্ন পোস্ট, ভিডিও এবং আলোচনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসের ক্ষেত্রে আদৌ কোনও ‘যোগ্যতা’ থাকতে পারে কি না। এই বিতর্ক যত এগিয়েছে, ততই বেড়েছে প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রথমেই মজার ছলে কথা শুরু করেন সুজয়। তিনি বলেন, “ওখানে নাকি খুব মশা আছে, এমনটাই জানি।” এরপর হাসতে হাসতেই যোগ করেন, তাঁর দু-তিনজন বন্ধুর বাড়ি ওই এলাকায় রয়েছে এবং তিনি মাঝেমধ্যেই সেখানে যান। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি জানান, আরবানাকে তাঁর কখনও কোনও ব্যতিক্রমী বা রহস্যময় জায়গা বলে মনে হয়নি। বরং এটি একটি একেবারে স্বাভাবিক আবাসন, যেখানে অন্যান্য জায়গার মতোই মানুষ বসবাস করেন, নিজেদের জীবনযাপন করেন। তাঁর কথায়, বাইরে থেকে যেভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, বাস্তবে সেখানে তেমন কোনও অসাধারণত্ব তিনি খুঁজে পাননি।

এরপর রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য প্রসঙ্গে এসে সুজয় আরও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আজকাল কোথাও থাকতে গেলেও যদি ‘যোগ্যতা’ লাগে, তাহলে সেই যোগ্যতার মানদণ্ড কী, সেটাই তো জানা দরকার। তাঁর প্রশ্ন, কলকাতার কোনও রাস্তায় বা কোনও আবাসনে বসবাস করার জন্য আলাদা করে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় নাকি? যদি হয়, তাহলে সেই যোগ্যতা কিসের ভিত্তিতে মাপা হয় অর্থ, সামাজিক অবস্থান, পেশা নাকি অন্য কিছু? এই প্রসঙ্গেই তিনি খানিক কটাক্ষের সুরে বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনযাত্রার পেছনে আলাদা গল্প থাকে। কারও বাবা-মা আগে থেকে কিছু গড়ে দিয়ে গিয়েছেন, আবার কেউ নিজের পরিশ্রমে নিজের জায়গা তৈরি করছেন। তাই কে কোথায় থাকবে, তা নিয়ে বিচার করার অধিকার অন্য কারও থাকা উচিত নয় বলেই তাঁর মত।

আরও পড়ুনঃ “ক্ষমতায় যে দলই আসুক, গরীব মানুষের দুঃখ একমাত্র সিপিএম বোঝে!” “অন্যদের মতো চোখে নাকে গোলাপি রং লাগিয়ে ড্রামাটা পারি না” সরকার বদল, ইন্ডাস্ট্রির দুর্নী’তি থেকে টেকনিশিয়ান স্টুডিওর কান্না নিয়ে বি’স্ফোরক শ্রীলেখা মিত্র!

সবশেষে সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে তিনি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত ভালো বন্ধু হিসেবে দেখেন এবং তাঁর নিজের মতামত প্রকাশ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে সেই মতামতকে অন্যদের জন্য মানদণ্ড হিসেবে ধরা উচিত নয় বলেও তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্য, রচনা হয়তো নিজের অভিজ্ঞতা বা নিজের অবস্থান থেকে কথা বলেছেন, কিন্তু সেটি দিয়ে অন্য কারও জীবন বা থাকার জায়গা বিচার করা যায় না। একইসঙ্গে তিনি জানান, গোটা বিষয়টিকে তিনি খুবই ছোট এবং গুরুত্বহীন একটি বিতর্ক বলে মনে করেন। তাঁর কথায়, “যার যা মনে হয়েছে, সে সেটা বলেছে। এটা নিয়ে এত বড় আলোচনা হওয়ারও কিছু নেই।” তাই শেষ পর্যন্ত এই বিতর্ককে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার পরামর্শই দিয়েছেন তিনি।

You cannot copy content of this page