দীর্ঘ বিরতির পর আবার টেলিভিশনের পর্দায় ফিরেছেন অভিনেত্রী অহনা দত্ত। এই মুহূর্তে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-তে। নতুন কাজ মানেই বাড়তি চাপ, তার উপর ব্যক্তিগত জীবনে এসেছে বড় পরিবর্তন। সদ্য মা হয়েছেন অহনা। একদিকে নতুন ধারাবাহিকের নিয়মিত শুটিং, অন্যদিকে ছোট্ট মেয়েকে আগলে রাখা— এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা যে সহজ নয়, তা অভিনেত্রী নিজেও স্বীকার করছেন। তবু সব চ্যালেঞ্জের মাঝেই নিজের কাজে মন দিয়ে নতুনভাবে দর্শকের সামনে ধরা দিতে চাইছেন তিনি।
টলিপাড়ায় অহনার অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই নেতিবাচক চরিত্রে তাঁর পরিচিতি। টেলিভিশন ও বড়পর্দা দুই জায়গাতেই একাধিক খলচরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন তিনি। তবে বারবার একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে করতে একসময় একঘেয়েমি আসে বলেই মনে করেন অহনা। তাই এই নতুন ধারাবাহিকে তাঁর চরিত্র একেবারেই আলাদা। লুক থেকে শুরু করে চরিত্রের গঠন সব কিছুতেই রয়েছে নতুনত্ব। অভিনেত্রীর কথায়, এই পরিবর্তন তাঁকে মানসিকভাবে নতুন উদ্দীপনা দিচ্ছে।
এই সবের মাঝেই বাড়িতে রয়েছে ছয় মাসও না হওয়া মেয়ে মীরা। দিনে প্রায় চোদ্দ ঘণ্টা শুটিংয়ের ব্যস্ততায় মেয়েকে কী ভাবে সামলাচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল অনেকের। অহনা জানিয়েছেন, এই সময় স্বামী দীপঙ্কর রায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মেয়ের খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব এখন মূলত তাঁর কাঁধেই। মা হিসেবে দূরে থাকতে হলেও সন্তানের প্রয়োজনের সঙ্গে কোনও আপস করছেন না তিনি।
মীরা এতদিন মায়ের দুধেই অভ্যস্ত ছিল। শুটিংয়ের কারণে দূরে থাকতে হওয়ায় চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করেই ফর্মুলা দুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোন দুধ শিশুর পক্ষে ভালো, কী ভাবে খাওয়াতে হবে— সবটাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলছে পরিবার। অহনা জানিয়েছেন, বাবা ও মা দুজনের উপস্থিতিই সন্তানের জন্য জরুরি। তাই আপাতত দীপঙ্করকে বাড়িতেই থাকার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ জনপ্রিয় প্রেক্ষাগৃহ নবীনার সামনে অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলার মুখ অক্ষ’ত রেখে, ক্ষ’তিগ্র’স্ত করা হলো শরী’রের একাধিক অংশ! নতুন ছবির উত্তেজনার মাঝেই অদ্ভুত পরিণতি! কেন এবং কে জড়িয়ে এমন ঘটনায়?
কাজের ফাঁকে ফাঁকে ভিডিও কলে মেয়ের মুখ দেখা এখন অহনার রোজকার অভ্যাস। একদিকে অভিনেত্রী হিসেবে নতুন চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা, অন্যদিকে মা হিসেবে প্রতিটা মুহূর্তকে আগলে রাখা— এই দুই ভূমিকাই সমান গুরুত্ব দিয়ে পালন করছেন তিনি। নতুন ধারাবাহিক, নতুন জীবন আর নতুন দায়িত্ব মিলিয়ে অহনা দত্তের এই সময়টা যেন এক অনন্য অধ্যায়।






