“এই জিতুকে আমি চিনি না…’এই ফোট ফোট, সরে যা হাওয়া এনে দে’ কোন শ্রেনীর দর্শক ওঁর, যাদের এন্টারটেন করতে এমন ক্যারেক্টার প্লে করছে?” “একটা বয়ঃজ্যেষ্ঠ মানুষকে যেভাবে কান ধরে উঠবস করিয়েছে, আমি পারতাম না!” বিগ বসের ঘরে জিতু কমলের আচরণে বিরক্ত, পুরনো বন্ধুর ব্যক্তিত্ব বদলে নিয়ে সরব বিশ্বজিৎ ঘোষ! বিনোদনের নামে কি সীমা ছাড়াচ্ছেন অভিনেতা, কী বললেন তিনি?

বাংলার টেলিভিশনের অন্যতম চর্চিত রিয়্যালিটি শো বিগ বস বাংলা ঘিরে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। কখনও প্রতিযোগীদের ঝগড়া, কখনও টাস্ক ঘিরে বিতর্ক, আবার কখনও একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন আলোচনা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে জিতু কমল, সৃজলা, রাজবীর, মনামী এবং অন্যান্য প্রতিযোগীদের আচরণ নিয়ে সমাজমাধ্যমেও চলছে নানা চর্চা। কে কেমন খেলছেন, কে কৌশলে এগোচ্ছেন, আর কে বিনোদনের নামে সীমা অতিক্রম করছেন, তা নিয়েই এখন দর্শকদের মধ্যে মতভেদ।

এবার বিগ বস বাংলা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রতিযোগীদের খেলার ধরন নিয়ে নিজের মতামত জানাতে গিয়ে সরাসরি জিতু কমলকে নিশানা করেন তিনি। বিশেষ করে বিগ বসের ঘরে জিতুর আচরণ, কথা বলার ধরন এবং অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না অভিনেতা। শুধু তাই নয়, জিতু ও সৃজলার বন্ধুত্ব এবং তাঁদের ফিসফিস করে কথা বলা নিয়েও নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। এমনকী পুরনো বন্ধুকে বিগ বসের ঘরে দেখে যে তিনি অবাক, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিশ্বজিৎ।

জিতু কমলকে নিয়ে বলতে গিয়ে বিশ্বজিৎ জানান, জিতুর সঙ্গে তাঁর বহুদিনের পরিচয়। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে একসঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন, কাজ করেছেন, ভালো বন্ধুত্বও ছিল তাঁদের। কিন্তু বিগ বসের ঘরে যে জিতুকে তিনি দেখছেন, সেই মানুষটিকে যেন চিনতেই পারছেন না। তাঁর কথায়, জিতু যেভাবে বয়স্ক প্রতিযোগীদের সঙ্গে আচরণ করছেন, বিশেষ করে একটি টাস্কে ভারত কলকে দিয়ে যেভাবে চাকরের মতো খাটানো এবং ওঠবস করানো হয়েছে, তা তাঁর একেবারেই ভালো লাগেনি। ভারত কল নিজের মতো করে খেলাটি মেনে নিলেও বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি বিশ্বজিৎ। এমনকী মনামীকে নাম ধরে ডাকার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অভিনেতার মতে, বিগ বসের খেলা তিন মাসের হলেও বাইরে ফিরে আবার সেই মানুষগুলোর সঙ্গেই কাজ করতে হবে। তাই বিনোদনের নামে কাউকে অসম্মান করা বা নিজের ব্যক্তিত্ব ভুলে যাওয়া উচিত নয়। জিতুর উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “এই ক্যারেক্টারটা কার জন্য প্লে করছে?” তাঁর মতে, দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য এমন রুক্ষ আচরণ করার কোনও প্রয়োজন নেই। শুধু কথার লড়াই নয়, কাউকে উস্কে দেওয়াও তাঁর কাছে আরও বেশি আপত্তিকর। খেলার চাপ থাকলেও নিজের বিবেক ও ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দেওয়া উচিত নয় বলেই মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে, জিতু কমল ও সৃজলার বন্ধুত্ব নিয়েও বিশেষ সন্তুষ্ট নন বিশ্বজিৎ। তাঁদের ফিসফিস করে কথা বলা এবং ইশারায় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার বিষয়টি তাঁর কাছে বেশ অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিগ বসের ঘরে যেখানে প্রতিযোগীদের নিজেদের খেলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করার কথা, সেখানে তাঁরা ভিয়েতনামের গল্প করছেন! তাঁদের মধ্যে ঠিক কী সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, সেটাও তাঁর কাছে পরিষ্কার নয়। সৃজলাকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেছেন অভিনেতা। তাঁর মতে, সৃজলা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং অনেক সময় অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখান। তাই তাঁকে নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি। পাশাপাশি জিতু-সৃজলার এই ঘনিষ্ঠতার পিছনে কোনও বিশেষ কৌশল রয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশ্বজিৎ। তবে তাঁদের সম্পর্কের প্রকৃত সমীকরণ নিয়ে কোনও নিশ্চিত দাবি করেননি তিনি।

আরও পড়ুনঃ “আমি যদি সামনে থাকতাম না, তাহলে…” রাজবীরের গায়ে বারবার হাত তুলছেন ‘টক্সিক গার্লফ্রেন্ড’ নন্দিনী, অভিনেত্রী এহেন আচরণেই বিরক্ত ভরত কল! বিগ বসের বাড়িতে থাকলে কী করতেন জানালেন? মনামীকেও ছাড়লেন না অভিনেতা, নিলেন একহাত?

সব মিলিয়ে বিগ বসের প্রতিযোগীদের নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিশ্বজিৎ ঘোষ। তাঁর মতে, রাজবীরের খেলার মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে, সৌরভকে আরও আগে শোয়ে আনা উচিত ছিল এবং সোনামণি নিজের সম্মান বজায় রেখে ভালো খেলছেন। অন্যদিকে, জিতুর মতো পুরনো বন্ধুর এমন আচরণ তাঁকে হতাশ করেছে। বিশ্বজিতের কথায়, বিগ বস জিততে গিয়ে কাউকে অসম্মান করা, খাবার নষ্ট করা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে উস্কে দেওয়া কখনওই সমর্থনযোগ্য নয়। আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন, বিনোদন ও জয়ের লড়াইয়ে কি ব্যক্তিগত সম্মানবোধের কোনও জায়গা থাকা উচিত নয়?

You cannot copy content of this page