“রাস্তাঘাটে মেয়েদের ধূম’পান-মদ্য’পান বেড়েই যাচ্ছে, বাধা দিলেই ফেমিনিজমের দোহাই” ‘ম্যাসকুলিনিটি’ ও ‘ফেমিনিজমে’র ভুল ব্যাখ্যা ছড়াচ্ছে সমাজ! ছেলে বা মেয়ে, বড় হওয়া মানে অবাধে নে’শা করা নয়! স্বাধীনতার নামে বিপজ্জনক পথে নতুন প্রজন্ম, মত অভিনেতার ববি চক্রবর্তীর!

সময়ের সঙ্গে সমাজ বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে জীবনযাপন, ভাবনা-চিন্তা আর স্বাধীনতার সংজ্ঞাও। কিন্তু এই পরিবর্তনের মাঝেই কোথাও যেন তৈরি হচ্ছে নতুন বিতর্ক। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জীবনধারা, নেশা এবং স্বাধীনতার ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। সম্প্রতি এমনই এক স্পর্শকাতর বিষয়ে সরব হয়েছেন অভিনেতা ববি চক্রবর্তী, যা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

২০০২ সাল থেকে অভিনয় জগতে যুক্ত ববি চক্রবর্তী। টেলিভিশন, সিনেমা এবং থিয়েটার সব ক্ষেত্রেই কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবার দিকেও তাঁর সমান মনোযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নেশা বিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ‘I Am The King of My Mind’ নামের একটি উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি ছাত্রছাত্রীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, কীভাবে নেশা জীবনের ক্ষতি করে। তাঁর এই সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই সচেতনতারই অংশ যেখানে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, স্বাধীনতা মানে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নয়, বরং নিজের এবং পরিবারের দায়িত্ব নেওয়াই আসল বড় হওয়া।

আরও পড়ুনঃ “সাপ হাতে নিয়ে শুটিং করেতে হয়েছে…চোখের সামনে বিদীপ্তা বিদ্যুৎস্পৃ’ষ্ট হয়ে হাসপাতালে, বাঁচবে কিনা ঠিক ছিল না” রাহুলের মৃ’ত্যু নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন অপরাজিতা আঢ্য! “ম্যাজিক মোমেন্টস শিল্পীদের যথেষ্ট সম্মান দেয়, তবে…” লীনার সঙ্গে কাজের কোন অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন তিনি?

সম্প্রতি তিনি সরাসরি বলেন, আজকাল ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে অনেকেই মদ, গাঁজা বা সিগারেটকে আধুনিকতার অংশ বলে মনে করছেন। কেউ যদি এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন সেটাকে ‘ফেমিনিজম’ বা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুলভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সমাজে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, “ছেলে হলে মদ খাবে, এটা ভুল ধারণা। আবার মেয়েরা কিছু বললেই তাকে স্বাধীনতার নামে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।” এই মানসিকতাকে তিনি সমাজের জন্য বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন।

অভিনেতার কথায়, বড় হওয়া মানে কখনই নেশা বা অবাধ জীবনযাপন নয়। বরং দায়িত্ব নেওয়াটাই আসল বিষয়। তিনি বলেন, একজন মানুষের বড় হওয়া তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন সে নিজের পরিবার বিশেষ করে বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে শেখে। এই প্রসঙ্গে তিনি ‘ম্যাসকুলিনিটি’ এবং ‘ফেমিনিজম’-এর ভুল ব্যাখ্যার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই দুই ধারণাকেই ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে।

এই মতামতের পিছনে রয়েছে তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা। ছোটবেলায় নিজের বাড়িতে কিছু কঠিন পরিস্থিতি দেখেছেন বলেই তিনি এই বিষয়ে আরও সচেতন হয়েছেন। তিনি জানান, সেই সময় থেকেই তিনি ঠিক করেন, সুযোগ পেলে মানুষকে সচেতন করবেন।তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ হিসেবে এসব কথা বললে অনেকেই গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু একজন পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি দায়িত্ববোধ থেকেই এই বার্তা দিতে চান, যাতে তরুণরা ভুল পথে না যায়।

You cannot copy content of this page