বিয়ের প্রস্তুতি মানেই আনন্দ, ব্যস্ততা আর নতুন জীবনের স্বপ্ন। ঠিক সেই আবহেই দিন গুনছে অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই, ১৪ ফেব্রুয়ারি, চার হাত এক হওয়ার কথা তাঁর। তবে খুশির এই কাউন্টডাউনের মাঝেই আচমকা চিন্তা বাড়িয়েছে তাঁর শারীরিক অসুস্থতার খবর। সূত্র অনুসারে কয়েকদিন ধরেই শরীর ভাল যাচ্ছিল না অভিনেতার। শীত বিদায়ের মুখে শহরের বদলে যাওয়া আবহাওয়া, কখনও ঠান্ডা, কখনও গরম—এই মিশ্র পরিস্থিতিতেই খানিক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি।
কয়েকদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে নিজেই বিষয়টি জানান রণজয়। গলায় মাফলার জড়িয়ে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তখনই অভিনেতা বলেছিলেন, শরীর একেবারেই সায় দিচ্ছে না। বিয়ের আগে এই ধরনের শারীরিক সমস্যা স্বাভাবিক হলেও, কাজের চাপ আর আবহাওয়ার বদল একসঙ্গে ধাক্কা দিয়েছে তাঁকে। তবে আপাতত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে বিশ্রামেই রয়েছেন অভিনেতা, যাতে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখার আগে নিজেকে সুস্থ করে তুলতে পারেন।
এরই মাঝে সম্প্রতি আবার একটি সাক্ষাৎকারে রণজয় ফিরে তাকিয়েছেন নিজের অভিনয় জীবনের দিকেও। ‘কোন গোপনে মন ভেসেছে’ ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পর থেকে তাঁকে আর টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়নি। কেন এই বিরতি, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও, অভিনেতা জানালেন ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব ছবিটা ঠিক কতটা কঠিন। অভিনয়ের শুরুতেই স্টার জলসার একটি ধারাবাহিকের জন্য তাঁর লুক প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। চরিত্রের জন্য নিজেকে তৈরি করতে কম খাটনি করেননি তিনি।
সেই সময় অভিনয়ের পাশাপাশি রণজয় শিখেছিলেন রিভার রাফটিংয়ের মতো কঠিন বিষয়ও। তখন নিয়ম ছিল, ধারাবাহিক শুরু হওয়ার আগে পাইলট শুট করে ১৫ দিনের জন্য চ্যানেলে জমা দিতে হতো। সেই পাইলট শুটও তিনি দিয়েছিলেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রোজেক্ট থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, কেন তাঁকে রিজেক্ট করা হল, সেই কারণও কেউ জানায়নি।
আরও পড়ুনঃ “সোশ্যাল মিডিয়ার পরিবার আমার পাশে দাঁড়ান,আজ আপনাদের খুব প্রয়োজন!” মিমির আবেদনে ফের সামনে এল তাঁর মানবিক সত্তা! হঠাৎ এমন অনুরোধ কেন অভিনেত্রীর?
এই ধাক্কার পরপরই আরও বিপদ নেমে আসে অভিনেতার জীবনে। সেই সময় পক্সে আক্রান্ত হন রণজয়। ফলে কলেজ যাওয়া বন্ধ, টিউশন করেও উপার্জনের সুযোগ ছিল না। হাতে কোনও কাজ নেই, আয়ও বন্ধ—এই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েই তাঁকে যেতে হয়েছিল। আজ বিয়ের মুখে দাঁড়িয়ে সেই পুরনো লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে রণজয়ের গলায় ছিল বাস্তবের ছাপ। জীবনের ওঠানামার গল্পই যেন আজ তাঁর শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।






