“সোশ্যাল মিডিয়ার পরিবার আমার পাশে দাঁড়ান,আজ আপনাদের খুব প্রয়োজন!” মিমির আবেদনে ফের সামনে এল তাঁর মানবিক সত্তা! হঠাৎ এমন অনুরোধ কেন অভিনেত্রীর?

আবারও মানবিক উদ্যোগে নজর কাড়লেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। পথকুকুরদের পাশে দাঁড়ানোয় তিনি যে বারবার নিজের দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানালেন তিনি। চার মাস বয়সি এক উদ্ধার করা কুকুরছানার জীবন বাঁচাতে এই আবেদন ঘিরেই ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা। পশুপ্রেমী মহল থেকে শুরু করে অনুরাগীদের একাংশ তাঁর পাশে দাঁড়ালেও, নেটদুনিয়ায় দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

মিমি তাঁর পোস্টে জানান, রিন্টি নামে ওই কুকুরছানাটি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। অল্প বয়সেই একাধিক কঠিন শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। এর আগে টিক ফিভার এবং গুরুতর লিভারের অসুখে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছিল রিন্টি। কিন্তু নতুন করে বিপদ নেমে এসেছে তার জীবনে। অভিনেত্রীর কথায়, রিন্টি একটি শক্ত বস্তু গিলে ফেলেছে, যা শরীরের ভিতরে ফুসফুসের কাছাকাছি আটকে রয়েছে। এর ফলে তার গলা ফুলে গিয়েছে এবং সে কিছুই খেতে পারছে না।

পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে গত কয়েক দিন ধরে রিন্টিকে আইভি ড্রিপে রাখা হয়েছে। তরল খাবার খেলেও সঙ্গে সঙ্গে বমি হয়ে যাচ্ছে। এক্স রে রিপোর্ট হাতে আসার পর চিকিৎসকেরা দ্রুত ইউএসজি করার পরামর্শ দেন। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকদের স্পষ্ট মত, অবিলম্বে অপারেশন করে ওই বস্তুটি বের করা না গেলে রিন্টির জীবন বাঁচানো সম্ভব নয়। তবে বয়স কম হওয়া এবং শরীর অত্যন্ত দুর্বল থাকায় এই অস্ত্রোপচার ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।

মিমি তাঁর পোস্টে আরও জানান, যে সংস্থার মাধ্যমে এই চিকিৎসা করা হচ্ছে তারা সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য। শুধু আবেদন জানানোই নয়, তিনি নিজেও ওই সংস্থায় আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগে ইতিমধ্যেই বহু মানুষ এগিয়ে এসেছেন সাহায্যের হাত বাড়াতে। বহু অনুরাগী অভিনেত্রীর প্রশংসা করে লিখেছেন, সমাজের অবহেলিত প্রাণীদের জন্য এই ধরনের উদ্যোগ সত্যিই অনুপ্রেরণার।

আরও পড়ুনঃ বসন্তের হাওয়ায় টলিপাড়ায় প্রেমের ছোঁয়া! আর বন্ধুত্ব নয়, প্রেমদিবসের আগেই সম্পর্কে সিলমোহর জুটির! কোন দুই পরিচিত মুখ এবার জড়ালেন সম্পর্কে?

তবে এর পাশাপাশি কিছু কটাক্ষও উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়েও কেন তিনি সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্য চাইছেন। এই বিতর্কের মাঝেও মিমির মানবিক দিকটাই বেশি করে সামনে এসেছে। পথকুকুরের প্রাণ বাঁচাতে তাঁর এই উদ্যোগ যে আরও অনেককে সচেতন করবে, তা বলাই যায়।

You cannot copy content of this page