“ভারতীয় সেনাবাহিনীর মতো শ্রদ্ধার পেশার নাম ভাঙিয়ে এমনটা আশা করিনি!” “দেশরক্ষকদের ঢাল করার কঠোর শাস্তি প্রয়োজন!” ফোনের ওপারে যা শুনলেন, তাতেই স্তম্ভিত মাফিন চক্রবর্তী! ভিডিও বার্তায় জানালেন কোন অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা?

দুই দশকেরও বেশি তাঁর অভিনয় জীবন। মাঝে দীর্ঘদিন পর্দা থেকে দূরে ছিলেন, তবুও অভিনেত্রী ‘মাফিন চক্রবর্তী’র (Mafin Chakraborty) নাম বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে একেবারে অচেনা নয়। একসময় একের পর এক ধারাবাহিকে, বিশেষ করে খল চরিত্রে, তাঁর উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। বর্তমানে তাঁকে দেখা যাচ্ছে স্টার জলসার ‘গৃহপ্রবেশ’ ধারাবাহিকে। এখন অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নাচ শেখানো নিয়েও ব্যস্ত। নিজের ‘নবরঙ ড্যান্স অ্যাকাডেমি’ চালান, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সেই সূত্রেই সম্প্রতি এমন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, যা তাঁকে সতর্ক তো করেছেই বরং অন্যদেরও সাবধান হতে বলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিয়েছে! ঘটনার কথা জানাতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, কিছুদিন আগে একটি ফোনে তাঁকে জানানো হয়, আর্মি পাবলিক স্কুলের তরফে দু’মাসের একটি নাচের কর্মশালার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। সপ্তাহে দু’দিন ক্লাস নিতে হবে এবং পারিশ্রমিকও বেশ আকর্ষণীয়। প্রস্তাবটা লোভনীয় শোনালেও কথাবার্তার ধরনে তাঁর একটু সন্দেহ জাগে।

তবু প্রাথমিকভাবে রাজি হয়ে নিজের পরিচয়পত্রের ছবি ও একটি সেলফি পাঠান, তবে আধার কার্ডের শেষ কয়েকটি সংখ্যা আড়াল করে দেন। পাল্টা তারাও নিজেদের পরিচয় পত্র পাঠান, যেখানে স্পষ্ট করে আর্মি সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া ছিল। পরে তাঁকে জানানো হয়, উচ্চপদস্থ এক আধিকারিক ভিডিও কলে বিস্তারিত কথা বলবেন। কলেও একজনকে সেনাবাহিনীর পোশাকে দেখা যায়, যদিও কিছুক্ষণ পর তিনি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন। এরপর অভিনেত্রীকে ফোনপে খুলতে বলা হয়, নাকি সেখানেই টাকা পাঠানো হবে।

এই জায়গাতেই সন্দেহ আরও বেড়ে যায় তাঁর। তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন, এভাবে আর এগোবেন না! ফোন কেটে দেওয়ার পর আগেই পাঠানো নথিপত্রও মুছে দেন। এরপরও কয়েকবার ফোন করে তাঁকে রাজি করানোর চেষ্টা চলে বলে জানান তিনি। তখন অভিনেত্রী স্পষ্ট বলেন, কাজের ব্যাপার হলে তিনি সরাসরি স্কুলে গিয়ে কথা বলবেন। এই কথা শোনার পর আর যোগাযোগ করা হয়নি। পুরো ঘটনায় তিনি বুঝতে পারেন, পরিচিত ও সম্মানজনক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেই প্রতারণার ফাঁদ পাতা হচ্ছিল।

আরও পড়ুনঃ “এটা শুধু প্রাপ্তি নয়, বিরল একটা ঘটনা!” সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করলেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়! টলিপাড়ায় নিজের ব্যতিক্রমী যাত্রা নিয়ে কাকে কৃতিত্ব দিলেন তিনি?

ঘটনার পরে বিষয়টি চেপে না রেখে ভিডিও করে সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন মাফিন। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সতর্ক থাকতে হয়, অচেনা কারও কাছে ব্যক্তিগত তথ্য পাঠানোর আগে কতটা ভাবা দরকার, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি। এমনকি যে নাম ও নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল, সেটিও প্রকাশ্যে এনে অন্যদের সাবধান করেছেন। তাঁর কথায়, দেশের জন্য কাজ করা একটি সম্মানজনক পেশার নাম ভাঙিয়ে এভাবে প্রতারণা হওয়া সত্যিই উদ্বেগের। যাদের আমরা শ্রদ্ধা করি, দেশের জন্য যারা অবলীলায় প্রাণ দেন, তাদের ছোট করার লোকেদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন!

You cannot copy content of this page