“আমি নাম করিনি, কিন্তু সুযোগ তৈরি করেছি!” অজয় চক্রবর্তী ও কৌশিকী চক্রবর্তীর পরিচয়ের ছায়ার সঙ্গে লড়াই, বাবা-দিদির জনপ্রিয়তাই কাল হয়েছে তাঁর জীবনে? গ্রিনরুমে ঢুকতে বাধা থেকে প্রেম বিতর্ক, নিজের পরিচয় নিয়ে বি’স্ফোরক অনঞ্জন চক্রবর্তী!

বিনোদন জগতে ‘নেপোটিজম’ নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। সন্তানের সাফল্য বা ব্যর্থতার দায় সব সময়ই শিল্পী অভিভাবকদের উপর ফেলা হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই আবার আলোচনায় এসেছেন সঙ্গীতশিল্পী অজয় চক্রবর্তীর ছেলে অনঞ্জন চক্রবর্তী। সাম্প্রতিক সময়ে সমাজ মাধ্যমে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁকে নিয়ে অনেক সময় বলা হয়েছে যে বাবা বা দিদি কৌশিকী চক্রবর্তীর মতো জনপ্রিয়তা তিনি পাননি। এই মন্তব্য নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা ও কৌতূহল। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীত পরিবেশে বড় হয়েছেন অনঞ্জন। তবুও আলাদা পরিচিতি গড়ার পথে তাঁকে নানা কথা শুনতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়েই এবার মুখ খুলেছেন তিনি।

ছোটবেলার কিছু অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনঞ্জন চক্রবর্তী। তিনি জানান, বাবার সঙ্গে অনেক অনুষ্ঠানে যেতেন তিনি। একাধিকবার এমন হয়েছে যে গায়কের গ্রিনরুমে ঢুকতে গিয়ে বাধা পেয়েছেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “গ্রিনরুম”-এ বাবা ঢুকেছেন। বাউন্সারেরা আমাকে আটকে দিয়েছেন। তখন অনুরোধ করে বলেছি, ‘আমি ওঁর ছেলে। আমাকে যেতে দিন।’ এই সব শুনে অনেকে পিছন থেকে হেসেওছেন।” এই ধরনের পরিস্থিতি তাঁকে ছোট থেকেই মানসিকভাবে তৈরি করেছে বলে জানান তিনি। তবুও তিনি এসবকে নেতিবাচকভাবে নেননি।

বরং নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। সঙ্গীতজগতের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও শক্ত করেছে বলে মত তাঁর। পেশাগত জীবনে অনঞ্জন নিজেকে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মুম্বইয়ে থেকে তিনি দেশের বহু নামী সঙ্গীতশিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। গান তৈরির পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারাকে তিনি বড় অভিজ্ঞতা বলে মনে করেন। তাঁর মতে, এই কাজের মাধ্যমে সৃজনশীলতার ভিন্ন দিক দেখা যায়। অনেক গায়ক গায়িকাও পুরো প্রক্রিয়া দেখার সুযোগ পান না বলে তিনি জানান। তিনি নিজেকে শুধু নামের জন্য নয়, কাজের মানের জন্য পরিচিত করতে চান।

সাউন্ড প্রোডাকশনের ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। এটাই তাঁর পেশাগত জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে তিনি মনে করেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কিছু অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করেছেন অনঞ্জন। তিনি জানান, সামাজিক পরিচিতির কারণে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাকে। কোনও একটি মেয়েকে ভাল লেগেছে। তাঁকে প্রেমপ্রস্তাব দিয়েছি। তিনি হয়তো আমার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন পরিবার আর বাবা-দিদির জনপ্রিয়তা দেখে।” এই ধরনের অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করলেও তিনি থেমে যাননি।

বরং নিজের কাজের উপর আরও মনোযোগ দিয়েছেন। জনপ্রিয় পরিবারের সদস্য হওয়ায় অতিরিক্ত চাপও অনুভব করেছেন তিনি। তবুও তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন আলাদা রাখার চেষ্টা করেছেন। অনঞ্জন চক্রবর্তী সঙ্গীত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়েও কাজ করছেন। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে মিউজিক প্রোডাকশনের ট্রেনিংকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ জন ছাত্রছাত্রী নিজেরা গান বানাতে শিখেছেন। প্রায় ১০০ জন শিল্পী তাঁদের কাজ প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মিউজ়িক প্রোডাকশনের ট্রেনিংকে আমি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।

আরও পড়ুনঃ “টলিপাড়া রাজনীতিমুক্ত হবেই…” বাংলায় বিজেপি সরকার আশায় আত্মবিশ্বাসী অঞ্জনা বসু! তৃণমূল জমানায় টলিউডে ‘ব্যান কালচার’, ভ’য় দেখিয়ে কাজ বন্ধ, অভিনেত্রীর বিজেপি করার কারণে কটা’ক্ষ, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের সেই ‘অত্যা’চারের’ কথা ফাঁস করলেন তিনি!

প্রায় ৪৫০ জন ছাত্রছাত্রী আজ নিজের হাতে নিজের গান বানাতে শিখেছেন। প্রায় ১০০ জন শিল্পী তাঁদের কাজ মানুষের সামনে তুলে ধরার একটা প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন। আমি ‘নাম’ করিনি ঠিকই, কিন্তু আমি ‘সুযোগ’ তৈরি করেছি। গত দু’বছর ধরে আমি ৭৫ জন ছাত্রছাত্রীকে অনলাইন গানের ক্লাসে সাহায্য করছি, যাঁরা বিভিন্ন কারণে পদ্ধতিগত ভাবে গান শিখতে পারেননি।” গত দুই বছর ধরে অনলাইন ক্লাসও চালাচ্ছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য আধুনিক সংগীতকে আরও বিস্তৃত করা। নতুন প্রজন্মকে সুযোগ করে দেওয়াই তাঁর মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

You cannot copy content of this page