“অনেকের কাছে কাজ চেয়েছি, কিন্তু লাভ হয়নি…ইন্ডাস্ট্রিতে শুধু অডিশনেই কাজ মিললে ভালো হয়” দীর্ঘদিন কাজহীন অঙ্কিতা মজুমদার পালের ক্ষোভ! নতুন মুখের ভিড়ে কেন হারিয়ে যাচ্ছেন পুরোনোরা? ছোটপর্দার অন্দরমহলের অস্বস্তিকর সত্য সামনে আনলেন অভিনেত্রী!

আলো, ক্যামেরা আর করতালির ঝলকানির আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক গভীর অনিশ্চয়তা। আজ যে শিল্পী দর্শকের ঘরে ঘরে পরিচিত, কাল তিনি কাজের অপেক্ষায় দিন গুনছেন—এটাই যেন ছোট পর্দার বাস্তব চিত্র। ধারাবাহিক শেষ মানেই নতুন লড়াইয়ের শুরু। জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও কাজের নিশ্চয়তা নেই, আর সেই কারণেই বহু শিল্পীকে চুপচাপ নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়। বাংলা টেলিভিশনের পর্দার পেছনে এই অস্থিরতাই এখন বড় বাস্তবতা।

এই অনিশ্চয়তার ভিড়েই রয়েছেন বাংলা ছোট পর্দার পরিচিত মুখ অঙ্কিতা মজুমদার পাল। ‘জড়োয়ার ঝুমকো’, ‘রঙা বউ’, ‘গৌরী এলো’, ‘সাত ভাই চম্পা’ এবং ‘ভূমি কন্যা’র মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। বিশেষ করে ‘রঙা বউ’ ধারাবাহিকে তার নেতিবাচক চরিত্র এবং ‘গৌরী এলো’-তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল। ২০২৪ সালে ‘কার কাছে কই মনের কথা’ ধারাবাহিকে শেষবার তাকে দেখা গিয়েছিল। তারপর কেটে গেছে প্রায় দেড় বছর—বাংলা ধারাবাহিকে নতুন কোনো কাজের খবর নেই।

সম্প্রতি নিজের কাজ না পাওয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। তার কথায়, তিনি বহু প্রোডাকশন হাউস থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কাজের ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন বারবার। কিন্তু সেই চেষ্টার ফল মেলেনি। কোথাও স্পষ্ট উত্তর পাননি, কোথাও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন যেখানে কাজ এগোনোর সুযোগই তৈরি হয়নি। অঙ্কিতার মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে যদি অডিশন প্রক্রিয়াটাই প্রধান মাধ্যম হয়, তাহলে অনেক শিল্পীর জন্যই তা সহজ হবে। কারও ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছাড়া, শুধুমাত্র প্রতিভার ভিত্তিতে কাজ পাওয়া গেলে সেটাই সবচেয়ে ন্যায্য পথ হতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস তার।

অভিনেত্রীর বক্তব্য, তিনি একা নন—এখন অনেক শিল্পীই কাজের অভাবে ভুগছেন। বিনোদন জগতে নতুন মুখের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। প্রযোজক ও নির্মাতারা প্রায়ই নতুনদের সুযোগ দিতে আগ্রহী। ফলে পুরনো শিল্পীদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। অঙ্কিতার মতে, সুযোগ একবার পেলে তার পরবর্তী কাজের ক্ষেত্রেও যদি সবার জন্য সমান অডিশনের সুযোগ থাকে, তাহলে হয়তো এই চাপ কিছুটা কমবে।

বর্তমানে অভিনয়ের বাইরে নিজের সংসার সামলাচ্ছেন অঙ্কিতা। ছেলেকে মানুষ করার দায়িত্বও তার কাঁধে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই এখন বেশি সময় কাটছে। পাশাপাশি সমাজমাধ্যম নিয়েও খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন তিনি। তার কথায়, কোনো কারণে যদি তিনি ট্রোলের শিকার হন, তাহলে তা তাকে গভীরভাবে আঘাত করতে পারে। এমনকি তিনি ডিপ্রেশনে চলে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই কারণেই তিনি সমাজমাধ্যমে বাড়তি দেখনদারি বা শো-অফ করেন না। শুধুমাত্র নিজের কাজ সংক্রান্ত বিষয়ই পোস্ট করেন। আলোচনার কেন্দ্রে না থাকলেও, নিজের মর্যাদা ও মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “পাত্তা দিইনি, আনন্দ থামাইনি!” নাচ বন্ধ করব কেন? ‘ঋ’-এর কটাক্ষে চুপ না থেকে, নাচের ভিডিওয় দিয়েই জবাব রণজয়ের! নেটিজেনদের সমালোচনা-ট্রোলকেও একহাত নিলেন অভিনেতা! ঠিক কী বললেন?

অভিনয়ের জগতে ফেরার ইচ্ছে যে এখনও তার মনে রয়েছে, তা স্পষ্ট। তবে সেই প্রত্যাবর্তন হোক নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে—এই প্রত্যাশাতেই আপাতত অপেক্ষায় অঙ্কিতা মজুমদার পাল।

You cannot copy content of this page