“ওর মিষ্টি ব্যবহার খুব স্মার্ট লাগছে, অনুষ্কা আসার পর থেকেই নন্দিনীর খেলাটা আমার খুব ভালো লাগছে!” কদিন আগেই যাঁকে নিয়ে চরম কটা’ক্ষ, সেই নন্দিনীরই প্রশংসায় এবার পঞ্চমুখ আয়েন্দ্রী! হঠাৎ কেন বললেন “ও নিশ্চিত ফাইনালিস্ট”? আপনারাও কি একমত অভিনেত্রীর সঙ্গে?

বিগ বস বাংলার ঘরে অনুষ্কা ঘোষের ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রির পর থেকেই বদলাতে শুরু করেছে একাধিক সমীকরণ। স্প্লিটসভিলা খ্যাত অনুষ্কা ঘরে ঢুকেই রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রথমে রাজবীরকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অন্য কারও প্রভাবে নিজের খেলা যেন নষ্ট না করেন। এরপর নন্দিনীর সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেন অনুষ্কা। নন্দিনী কেন রাজবীরকে ঘিরেই নিজের খেলা চালাচ্ছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। অনুষ্কার কথায়, বিগ বসের ঘর সম্পর্ক তৈরির জায়গা নয়, এখানে প্রত্যেককে নিজের খেলা খেলতে হবে। এমনকি রাজবীর-নন্দিনীর সম্পর্ককে নকল বলেও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। আর অনুষ্কার এই প্রবেশের পরেই এবার নন্দিনীকে নিয়ে সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া মত প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী আয়েন্দ্রী রায়।

আয়েন্দ্রীর এই বক্তব্যের কারণেই নতুন করে চর্চায় এসেছে তাঁর আগের অবস্থানও। কয়েকদিন আগেই সামাজিক মাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্ট করেছিলেন অভিনেত্রী। সেই পোস্টে কারও নাম না নিলেও, নেটিজেনদের একাংশ সেটিকে নন্দিনীকে উদ্দেশ্য করে লেখা কটাক্ষ বলে দাবি করেছিলেন। সেই সময়ের প্রতিবেদনের শিরোনামেও নন্দিনীকে ইঙ্গিত করে আয়েন্দ্রীর বক্তব্যের কথা উঠে এসেছিল। তারপর বিগ বসের ঘরে নন্দিনীর আচরণ নিয়েও একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়। সৃজলার সঙ্গে তাঁর ঝামেলা, রাজবীরের সঙ্গে বারবার বচসা এবং প্রতিযোগীদের খেলা নিয়ে মন্তব্য করা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ নন্দিনীর খেলার প্রশংসা করায় আয়েন্দ্রীর নতুন বক্তব্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অনুষ্কার প্রবেশের পরই কেন নন্দিনীকে তাঁর ভালো লাগছে, সেই প্রশ্নই এখন আলোচনায়।

আয়েন্দ্রী এবার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “অনুষ্কা আসার পর থেকে কোনও কারণে নন্দিনীর খেলাটা আমার খুব ভালো লাগছে। একদম সূক্ষ্মভাবে খেলছে। ও আর রাজভীরের ঝগড়ায় জড়াচ্ছে না, অবশেষে নিজের মতো করে খেলছে। আমি আগেই বলেছিলাম একটা রিয়েলিটি চেক ওর খেলা পুরো বদলে দিতে পারে। মাঝে মাঝে ওর মিষ্টি ব্যবহারগুলোও চোখে পড়ছে। নন্দিনী এখন গেম নিয়ে ডিলের কথা বলছে, দেখতে খুব স্মার্ট লাগছে। ও নিশ্চিত ফাইনালিস্ট!” অর্থাৎ অনুষ্কার প্রবেশের পর নন্দিনীর আচরণে যে বদল আয়েন্দ্রীর চোখে পড়েছে, সেটিই তাঁর নতুন মন্তব্যের মূল বিষয়। আয়েন্দ্রীর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে রাজবীরের সঙ্গে নন্দিনীর দূরত্ব রাখার বিষয়টি।

এর আগে রাজবীর ও নন্দিনীর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিগ বসের ঘরে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। দু’জনের মধ্যে কখনও ঝগড়া, আবার কখনও ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়ার ঘটনাও দেখা গিয়েছে। এক পর্যায়ে রাজবীর তাকে ‘অ্যাসিস্টেন্ট’ বলায় নন্দিনী তীব্রভাবে রেগে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছিলেন। পরে অবশ্য রাজবীরের কাছে গিয়ে নিজের আচরণের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন নন্দিনী। সৃজলাকে ঘিরে তৈরি হওয়া ঘটনাতেও নন্দিনী আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন এবং নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন। এখন আয়েন্দ্রীর দাবি, নন্দিনী আর রাজবীরকে কেন্দ্র করে না থেকে নিজের মতো করে খেলছেন। সেই কারণেই তাঁর চোখে নন্দিনীর বর্তমান খেলায় এসেছে নতুন আকর্ষণ।

আরও পড়ুনঃ “তোমার চালাকি এবার সবাই ধরে ফেলেছে!” “সামান্য মুচকে গেলেই জুতো পরতে পারি না, এর পায়ে নাকি এত ব্যথা তাও হিল পরে দাপিয়ে বেড়ায় কীভাবে?” “পেটে ১০০টা সুঁই ফুটিয়েছে আবার ওভারি ফোলা, নিরঞ্জন পেটে জড়িয়ে কোলে তুলল তাও ব্যথা হল না কেন?” ঝগড়ার তালে ব্যথা ভুলেছেন সৃজলা? “এতদিন অন্যায় হয়েছে ভেবে সমর্থন করেছিলাম, আজকের পর আর নয়” ‘ভিকটিম কার্ড’ প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ দর্শকদের!

অন্যদিকে অনুষ্কার এন্ট্রির পর নন্দিনীর খেলা সত্যিই বদলেছে কি না, তা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘরে ঢুকেই অনুষ্কা নন্দিনীকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি কেন রাজবীরকে ঘিরে নিজের খেলা চালাচ্ছেন। নন্দিনী অবশ্য অনুষ্কার কথায় পুরোপুরি একমত হননি এবং নিজের অনুভূতিকে সত্যি বলেই দাবি করেছিলেন। এরপর অনুষ্কার সঙ্গে নন্দিনীর এই কথোপকথনকে ঘিরে রাজবীর-নন্দিনীর সম্পর্ক ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছিল। এমন পরিস্থিতিতেই আয়েন্দ্রী বলছেন, এখন নন্দিনী নিজের খেলা নিয়ে কথা বলছেন এবং তাঁর ব্যবহারেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে যাঁকে নিয়ে আয়েন্দ্রীর বক্তব্যকে ঘিরে কটাক্ষের আলোচনা হয়েছিল, সেই নন্দিনীকেই এবার ‘স্মার্ট’ খেলোয়াড় এবং সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট হিসেবে দেখছেন তিনি। ফলে আয়েন্দ্রীর এই বদলে যাওয়া মতামতও বিগ বস বাংলার আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নন্দিনী সত্যিই নিজের মতো করে খেলছেন কি না, আর আয়েন্দ্রীর অনুমান অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পৌঁছতে পারেন কি না, তা সময়ই বলবে।

You cannot copy content of this page