লক্ষ্মীপুজোর রাতে বিগ বস বাংলার ঘর থেকে ভোট আউট হয়ে বিদায় নিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ভরত কল। দীর্ঘদিন ধরে শোয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। এবার তাঁর বিদায়ের খবর সামনে আসতেই দর্শকদের একটা বড় অংশের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ। ভরত ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময় সৃজলা, মনামী, জিতু, দুর্নিবার, রাজবীর এবং নন্দিনীকে কাঁদতে দেখা যায়। শুধু ঘরের প্রতিযোগীরাই নন, ভরতের বিদায়ে মন খারাপ হয়েছে তাঁর বহু অনুরাগীরও। কারণ, একাধিকবার নমিনেশনে থাকা সত্ত্বেও এতদিন দর্শকদের ভোটে টিকে গিয়েছিলেন তিনি। তাই এবার সত্যিই তাঁর যাত্রা শেষ হয়ে যাবে, সেটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। ভরতও শো থেকে বেরিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্টার জলসা, বিগ বস বাংলা এবং সমস্ত দর্শককে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করেছেন।
ভরতের ভোট আউটের পর থেকেই নেটমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এক দর্শক লিখেছেন, “ভাবতেই অবাক লাগছে, আপনি বেরিয়ে গেলেন আর সোনামণি, নন্দিনীরা থেকে গেল।” আরেক দর্শকের কথায়, “পুরো ঘরকে সামলে রাখত এই লোকটা ফাদার ফিগার হয়ে। দরকারে বকত, আবার আদরও করত।” অন্য একজন ভরতের খেলার প্রশংসা করে লিখেছেন, “আপনিই আসল রকস্টার। এই এনার্জি, এত অসুস্থতা, এত বয়স থাকার পরেও।” ভরতের এক অনুরাগী আবার তাঁর সঙ্গে জিতু কমলের সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মন্তব্য, “আপনার আর জিতুদার বন্ডিংটা আমার খুব ভালো লাগত, আপনার খেলা আমার খুব ভালো লাগত, হয়তো সিরিয়ালে দেখতে পাব আপনাকে খুব তাড়াতাড়ি, কিন্তু বিগ বস হাউজে খুব মিস করব।” সেই দর্শক ভরতকে ভালো থাকার এবং নিজের খেয়াল রাখার কথাও জানিয়েছেন। অর্থাৎ, ভরতের বিদায়কে ঘিরে দর্শকদের একটা বড় অংশের আবেগ এবং হতাশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তবে শুধু মন খারাপেই থেমে থাকেননি দর্শকদের একাংশ। ভরতের জায়গায় সোনামণি সাহা থেকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে উঠেছে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ দাবি করেছেন, সোনামণিকে বাঁচাতেই নাকি ভরতকে এলিমিনেট করা হয়েছে। দর্শকদের একাংশের যুক্তি, পুজোর সপ্তাহে বিগ বস বাংলায় কোনও এলিমিনেশন হয়নি। এরপর ‘দাদার দরবারে’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছ থেকে সোনামণি স্টার পাওয়ায় তিনি পরের এক সপ্তাহের জন্য নমিনেশন থেকে সুরক্ষিত হয়ে যান। ফলে তাঁকে আর নমিনেট করা যাবে না এবং আরও এক সপ্তাহ শোয়ে থাকার সুযোগ নিশ্চিত হয়ে যায়। এই ঘটনাকেই সামনে রেখে নেটপাড়ার একাংশের দাবি, “বিগবস বারবার রক্ষা করছে সোনামণিকে।” তবে এগুলি দর্শকদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিক্রিয়া এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের কোনও নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি।
ভরত কলের বিদায়ে অভিনেত্রী রিমঝিম গুপ্তও নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ভরতের নমিনেশনের পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট করেন। রিমঝিম লেখেন, “ভারত কল দাদাআআ! তুমি আমাদের মন জিতে নিয়েছ। তোমাকে বের করে দেওয়াটা চরম অন্যায়।” এরপর তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। এমনকী ক্ষোভের সুরে লেখেন, “না!!! হয়তো আর বিগ বস দেখবই না।” ভরতকে তিনি সবার অভিভাবক এবং পথপ্রদর্শক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ভরত প্রত্যেকের হৃদয় জয় করেছেন এবং প্রতিযোগী হিসেবেও তিনি তাঁর কাছে চিরকাল প্রিয় থাকবেন। শেষে ভালোবাসা জানিয়ে ‘ভরতদা’কে বিদায় জানান রিমঝিম।
আরও পড়ুনঃ “গত তিনটে দুর্গাপুজোয় ছেলেকে জামাকাপড় কিনে দিতে পারিনি.. অতীতের কথাগুলো কুড়ে কুড়ে খায়” মমতা আমলে রাজনৈতিক প্রভাবের জেরে কাজ হারা’নো, আর্থিক অনটনের কথা বলতে গিয়ে নিজের জীবনের কোন অ’ন্ধকার অধ্যায় প্রকাশ্যে আনলেন সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়?
অন্যদিকে ভরতের বিদায়ের সময় বিগ বসের ঘরের আবেগঘন ছবিও দর্শকদের নজর কেড়েছে। একাধিক প্রতিযোগীকে চোখের জল ফেলতে দেখা যায়, যা থেকে বোঝা যায় ঘরের মধ্যে ভরতের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ ছিল। এর আগে বারবার নমিনেশনে থেকেও দর্শকদের ভোটে টিকে গিয়েছিলেন তিনি। তাই শেষ পর্যন্ত তাঁর বিদায় অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত হয়ে উঠেছে। এদিকে ভরত ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সকলকে ভালোভাবে খেলার পরামর্শও দেন। তিনি জানান, সব যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয় এবং একজনই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবেন। মেয়ে আরিয়ার কথা ভরত একাধিকবার নমিনেশনের সময় উল্লেখ করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই ফিরে গেলেন। এখন ভরতের অনুপস্থিতিতে বিগ বস বাংলার খেলা কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার, তবে তাঁর এলিমিনেশন যে দর্শকদের মধ্যে বড়সড় আলোচনা তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট।






