“পুরুষদের ধূ’মপান ও ম’দ্যপানের মতো ভুল অভ্যাসকে অনুকরণ করলেই নারীরা ভাবছে সমতা অর্জন” শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সচেতনতার পথেই কি আসে না প্রকৃত ‘ইকুয়ালিটি’? প্রশ্ন তুললেন ববি চক্রবর্তী! ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতে নিজেকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যুবসমাজ, কী জানালেন অভিনেতা?

বাংলা অভিনয় জগতে পরিচিত মুখ ববি চক্রবর্তী, একাধারে অভিনেতা, সমাজকর্মী এবং শিক্ষক। ২০০২ সাল থেকে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারে কাজ করে আসছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে নেশামুক্তি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে নিজেকে আরও বেশি করে যুক্ত করেছেন। বিভিন্ন মঞ্চ, স্কুল এবং আলোচনায় তিনি নিয়মিত বক্তব্য রাখেন, যেখানে সমাজের চলমান প্রবণতা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জীবনযাপন ও মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা মতামত দেন।

সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি নারী-পুরুষ সমতা এবং বর্তমান সমাজে তার ব্যাখ্যা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর মতে, “ইকুয়ালিটি” বা সমতা মানে কখনোই ভুল অভ্যাসকে কপি করা নয়। তিনি বলেন, পুরুষরা বহু বছর ধরে যে ভুলগুলো করে এসেছে যেমন ধূমপান, মদ্যপান বা মাদকাসক্তি সেগুলোকে অনুকরণ করে সমান হওয়া যায় না। বরং এই প্রবণতা সমাজের জন্য আরও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে যে, কিছু ক্ষেত্রে নারীদের মধ্যে এই ধরনের অভ্যাসের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তিনি উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন।

ববি চক্রবর্তী দাবি করেন, তাঁর এই মতামত কোনও ব্যক্তিগত ধারণা নয়, বরং বিভিন্ন চিকিৎসক, হাসপাতাল প্রশাসক এবং তাঁর পরিচিতদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফুসফুস ও লিভারের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি অল্প বয়সী মহিলা রোগীদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ১৫ বছর বা তার আশেপাশের বয়সী মেয়েদের মধ্যে এই প্রবণতা বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা বলে মনে করেন।

তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর বক্তব্য কোনও নির্দিষ্ট লিঙ্গকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে নয়। তিনি নিজেকে “মেল শভিনিস্ট” বলে মানতে নারাজ এবং বলেন, নারী-পুরুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য নয়। বরং তিনি চান, সমাজে সমতা আসুক শিক্ষার মাধ্যমে, গুণের মাধ্যমে এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশের মাধ্যমে। তাঁর মতে, “তুমি ইকুয়াল হও তোমার গুণ দিয়ে, তোমার এডুকেশন দিয়ে” এই বার্তাটাই হওয়া উচিত প্রকৃত সমতার ভিত্তি।

আরও পড়ুনঃ নায়ক হিসেবে ঝড় তুলেও দীর্ঘদিন পর্দার বাইরে অভিনেতা ফারহান ইমরোজ! প্রেম, আইনি জট, ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতি নাকি প্রত্যুষা পালের সঙ্গে বিচ্ছেদ? কেন নিজেকে অভিনয় থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি ?

শেষে তিনি তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে মেয়েদের উদ্দেশে একটি আবেদন রাখেন। তিনি বলেন, কেউ চাইলে তাঁর বক্তব্য মানতেই পারেন, আবার না-ও মানতে পারেন, কারণ প্রত্যেকের নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু নিজের শরীর, পরিবার এবং ভবিষ্যতের ক্ষতি করে কোনও কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই ভুল ধারণার বশে অন্যের খারাপ অভ্যাসকে অনুকরণ না করে, নিজের শক্তি ও সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, প্রকৃত সমতা আসে সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং সঠিক মূল্যবোধের মাধ্যমে, যা সমাজকে আরও সুস্থ ও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

You cannot copy content of this page