“চুল ঠিক আছে কিনা, পোশাক ঠিক আছে কিনা নিয়েই ব্যস্ত, এমন অভিনেতা খুব কম দেখেছি…” নতুন প্রজন্মের ‘ভুল ফোকাস’ নিয়ে বি’স্ফোরক চন্দন সেন! আজকের শিল্পীরা কি চরিত্রের গভীরতা ভুলে বাহ্যিক সাজেই আটকে, কি জানালেন অভিনেতা?

বাংলা থিয়েটার ও চলচ্চিত্র জগতের এক পরিচিত মুখ চন্দন সেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে তিনি শুধু অভিনেতা নন, একজন নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১৯৭৭ সালে মঞ্চ দিয়ে যাত্রা শুরু, তারপর ধীরে ধীরে বাংলা বিনোদন জগতে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন তিনি। গুরু উৎপল দত্ত ও রামপ্রসাদ বণিকের ছাত্র হিসেবে তাঁর অভিনয়ের ভিত তৈরি হয় দৃঢ়ভাবে।

মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র তিন ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতায় কাজ করেছেন চন্দন সেন। ৪০টিরও বেশি নাটক পরিচালনা থেকে শুরু করে একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় সবেতেই রয়েছে তাঁর ছাপ। ‘মানিকবাবুর মেঘ’ ছবির জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেও তিনি থেমে থাকেননি, বরং নিজের কাজ ও আদর্শ দিয়ে বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

সম্প্রতি এক আলোচনায় অভিনয় নিয়ে স্পষ্ট ও কড়া মন্তব্য করেন চন্দন সেন। তাঁর মতে, অনেক অভিনেতা আজও মূল বিষয়টা ভুলে যান। তাঁরা বেশি গুরুত্ব দেন বাহ্যিক বিষয়, যেমন চুল ঠিক আছে কি না, পোশাক ঠিক আছে কি না এইসব নিয়ে। অথচ আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত চরিত্রটি কতটা ঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলা যাচ্ছে।

চন্দন সেনের কথায়, একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল চরিত্রের ভেতরে ঢোকা। চরিত্রটি কীভাবে কথা বলবে, কীভাবে তাকাবে, কীভাবে ভাববে এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর উপরই নির্ভর করে অভিনয়ের সাফল্য। তিনি বলেন, খুব কম অভিনেতাকেই তিনি দেখেছেন যারা এই দিকগুলো নিয়ে সত্যিকারের চিন্তা করেন। এই জায়গাতেই বড় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ “নিরাপত্তা কি এতদিন দিচ্ছিলাম না আমরা?” “কেউ নিরাপদ ছিল না, এটা মানতে নারাজ!” রাহুলের মৃ’ত্যুর পর টলিপাড়ায় শুরু সুরক্ষা বিতর্ক, শিল্পীদের কর্মবিরতির মাঝেই বি’স্ফোরক মন্তব্য রাজ চক্রবর্তীর!

শেষ পর্যন্ত চন্দন সেন পরিষ্কার করে দেন, সমস্যার মূল জায়গা এখানেই চরিত্র বোঝার অভাব। একজন অভিনেতা যখন নিজের তৈরি করা চরিত্রকে ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারে না, তখনই অভিনয় ভেঙে যায়। আর এই ভাঙন থেকেই বোঝা যায় কে সত্যিকারের অভিনেতা আর কে শুধুই বাহ্যিক সাজসজ্জায় ব্যস্ত। তাঁর এই মন্তব্য এখন নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বাংলা অভিনয় জগতকে।

You cannot copy content of this page