বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে জানাতে কখনো পিছপা হননি অভিনেতা চন্দন সেন। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে, এবারও তিনি নিজের চিন্তা-ভাবনা ভাগ করে নিয়েছেন। রাজনীতির পক্ষে ও বিপক্ষে, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত পরিষ্কার। একদিকে যেখানে তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন, অন্যদিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতাও তাঁর কাছে অপরিহার্য।
চন্দন সেন বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি এমন একজনকে চাই, যিনি মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে ভালো সিদ্ধান্ত নেন। বিরোধীদের মতামতও শোনেন এবং যদি তা কার্যকর মনে হয়, তাহলে তা বাস্তবায়ন করেন।’’ তাঁর মতে, রাজনীতির গতি এবং কৌশল অনেকটাই নির্ভর করে দল ও প্রার্থীকে নিয়ে, তবে মতাদর্শও একেবারে তুচ্ছ নয়। তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা যখন বড় হচ্ছিলাম, তখন মতাদর্শই ছিল মূল বিষয়। কিন্তু এখন মনে হয়, প্রার্থী কী করছে, তা দেখাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হতে পারে কি না, সেটাও দেখতে হবে।’’
তিনি প্রার্থী বাছাইয়ের প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘যদি কোন প্রার্থী নির্বাচনে জিতে আসেন, তখন তাঁর প্রশিক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমরা যদি ইতিহাসে ফিরে তাকাই, যেমন বিধানচন্দ্র রায় বা জ্যোতি বসু, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল, কিন্তু তারা রাজনীতি সম্পর্কে কী জানতেন, তা আমরা জানি না।’’ তাঁর মতে, দেশের আইনে কিছু পরিবর্তন আনা উচিত, বিশেষত যখন কোনো প্রার্থী নির্বাচনে দলের প্রতীকে জিতে তারপর দল পরিবর্তন করেন। তিনি বলেন, ‘‘এটা ভোটারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
সংবিধান সংশোধন করে, আগামী ৬-৮ বছর ওই প্রার্থী অন্য কোনো দলেই যোগ দিতে পারবেন না।’’ চন্দন সেন আরও বলেন, ‘‘নির্বাচনী প্রক্রিয়া যদি দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হয়, তাহলে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে জবাবদিহি। ভোটারদের সামনে প্রার্থীর কাজের মূল্যায়ন করতে হবে, যেন তারা জানতে পারে তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য প্রার্থী কতটা প্রস্তুত।’’ তাঁর মতে, দল বদলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। ‘‘যদি কোনো প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হয়ে অন্য দলে যোগ দেন, তবে সেটা গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা,’’ বলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ গায়িকার বাড়িতে অদ্ভুত কাণ্ড! ইমন চক্রবর্তীর ড্রইং রুমে পাশাপাশি চারটি ঘড়ি, চারটিতেই দেখাচ্ছে উল্টোপাল্টা সময়! নজরে আসতেই প্রশ্ন উঠছে নেটিজেনদের মনে! এই গোলমালের পেছনে আসল কারণ কী?
এছাড়া, চন্দন সেন রাজনীতিতে অপশব্দ ব্যবহারেরও তীব্র বিরোধিতা করেন। ‘‘এটা সাংস্কৃতিক আধিপত্যের অংশ। আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের শিষ্টাচার এবং ভাষা ব্যবহারে অনেক ক্ষেত্রে নিচু মান রয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর প্রভাব ফেলছে।’’ রাজনীতিতে তারকাদের প্রভাব নিয়েও তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘‘মিমি চক্রবর্তী বা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদের ভোট পাওয়ার পিছনে দলীয় কোন্দল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ভোটের মাধ্যমে জয়ী হননি।’’ তাঁর মতে, রাজনীতিতে যদি দীর্ঘমেয়াদি উন্নতি করতে হয়, তবে শুধুমাত্র ভাতা নয়, বরং দেশের প্রাথমিক চাহিদাগুলি পূর্ণ করা উচিত, যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য এবং কর্মসংস্থান।






