ক্যা’ন্সারের সঙ্গে লড়াই করেও পর্দায় দাপট, তবুও ব্যক্তিজীবন অশান্ত চন্দন সেনের! ভেঙেছে তিন তিনটি বিয়ে? প্রথমে সুদীপা বসু, তারপর দ্বিতীয় দাম্পত্য, আর কঠিন অসুস্থতার মধ্যেই তৃতীয়বার ভালোবাসা! সব সম্পর্কে এই ভাঙনের গল্পে লুকিয়ে আছে কোন অজানা সত্য?

সাতের দশকের থিয়েটার মঞ্চ থেকে অভিনয় জগতে পথচলা শুরু করেছিলেন টলিউডের অন্যতম দক্ষ চরিত্রাভিনেতা চন্দন সেন (Chandan Sen)। নিজের অভিনয় দক্ষতা, পরিশ্রম এবং একাগ্রতার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে বাংলা ধারাবাহিক ও চলচ্চিত্র জগতে একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন। ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করেও যিনি অভিনয় ছাড়েননি, সেই চন্দন সেন আজও দর্শকদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। তবে পর্দার সাফল্যের আড়ালে তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল একেবারেই ভিন্ন গল্প।

১৯৬৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন চন্দন সেন। খুব অল্প বয়সেই, মাত্র ১৪ বছর বয়সে অর্থ উপার্জনের জন্য থিয়েটারে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর তিনি নাট্যজগতেই নিজেকে গড়ে তোলেন। ১৯৯৭ সালে একটি নাট্যদলে অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে যুক্ত হন এবং সেখানেই তার অভিনয়ের ভিত আরও মজবুত হয়। থিয়েটারই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান, যা তাকে পরবর্তী জীবনে বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করে।

চলচ্চিত্র জগতে তার আগমন হয় কিছুটা দেরিতে। ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বো ব্যারাক্স ফরেভার’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর একের পর এক বাংলা ছবিতে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করে নেন। শুধু সিনেমাই নয়, ছোট পর্দাতেও তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০০৫ সালে ‘নীল সীমানা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিষেক ঘটে তার। এরপর ‘ইষ্টিকুটুম’, ‘ইচ্ছেন নদী’, ‘অন্দরমহল’, ‘নেতাজী’, ‘খরকুটো’, ‘একাদোক্কা’-র মতো একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন।

তবে কর্মজীবনে এত সাফল্য পেলেও ব্যক্তিগত জীবনে সুখী হতে পারেননি চন্দন সেন। ১৯৯৫ সালে অভিনেত্রী সুদীপা বসুর সঙ্গে তার প্রথম বিয়ে হয়, যা পরে ভেঙে যায়। এরপর দ্বিতীয়বার মৈত্রে রায়কে বিয়ে করলেও সেই সম্পর্কও স্থায়ী হয়নি। জীবনের কঠিন সময়ে, ক্যান্সারে আক্রান্ত অবস্থায় ২০১৭ সালে তৃতীয়বার বিয়ে করেন ঋতুপর্ণাকে, যিনি পেশায় একজন কর্পোরেট কর্মী। একটি সেমিনারে তাদের পরিচয় এবং সেখান থেকেই সম্পর্কের শুরু। কঠিন সময়ে ঋতুপর্ণা তার পাশে থাকলেও, সেই দাম্পত্যও মাত্র দু’বছরের মধ্যেই ভেঙে যায়।

আরও পড়ুনঃ রাহুলের শেষ যাত্রায় অশ্রুসিক্ত রুকমা রায়! ‘দেশের মাটি’র ‘রাজা-মাম্পি’ জুটি আজও দর্শকদের স্মৃতিতে জীবন্ত! স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে বিচ্ছেদের আগেই নাকি সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন অরুণোদয়? মৃ’ত্যুর আগে নিজের মুখে জানিয়েছিলেন অভিনেতা?

আজ জীবনের এই পর্যায়ে এসে একাকীত্বই যেন তার সঙ্গী। একের পর এক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা নিয়ে এখন নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন এই গুণী অভিনেতা। তবুও তার জীবনের লড়াই, অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রতিকূলতার মাঝেও কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়, সাফল্য সবসময় সুখের সমার্থক নয়। চন্দন সেনের জীবন যেন সেই বাস্তবতারই এক গভীর প্রতিচ্ছবি।

You cannot copy content of this page