টলিপাড়ায় চলা অস্থির পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘প্রতীজ্ঞা’র ওপর। এই সিরিয়ালটি শুরু হওয়ার কথা ছিল ৭ এপ্রিল থেকে, রাত সাড়ে নটার স্লটে। দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ থাকলেও শেষ মুহূর্তে সম্প্রচার স্থগিত হয়ে যায়। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে শুটিং বন্ধের সিদ্ধান্ত। শিল্পী সংগঠন ও ফেডারেশনের ডাকে টলিউডে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে ধারাবাহিকটির শুটিং সম্পূর্ণ করা যায়নি। এই অবস্থায় চ্যানেল কর্তৃপক্ষ সম্প্রচার পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মূল কারণ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির অকাল মৃত্যু। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে শুটিং সেটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ও আর্টিস্ট ফোরাম অভিযোগ দায়ের করেছেন। কলকাতা এবং তালসারি দুই জায়গাতেই এফআইআর হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর থেকেই শিল্পী মহলে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ফলে সম্মিলিতভাবে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মবিরতির প্রভাব পড়েছে টেলিভিশনের সময়সূচীতেও। ‘প্রতীজ্ঞা’ শুরু না হওয়ায় আগের ধারাবাহিক ‘মিলন হবে কতদিনে’ একই সময়ে থাকছে। আগে ঠিক ছিল, নতুন সিরিয়াল শুরু হলে সেটির সময় বদলানো হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিবর্তন আর হচ্ছে না। দর্শকরা আপাতত আগের মতোই রাত সাড়ে নটায় পুরনো ধারাবাহিক দেখবেন। চ্যানেল কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সব কিছু ঠিক হলে নতুন করে সম্প্রচারের তারিখ জানানো হবে।
শুধু ‘প্রতীজ্ঞা’ নয়, আরও কয়েকটি নতুন ধারাবাহিক সমস্যায় পড়েছে। জি বাংলার ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’ও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। এই সিরিয়ালের শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল খুব শিগগিরই। অভিনেত্রী স্বস্তিকা ঘোষ জানিয়েছেন, প্রোমো শুটিংও এখন বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা ছিল ১৫ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে গেছে। কবে আবার কাজ শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুনঃ “চুল ঠিক আছে কিনা, পোশাক ঠিক আছে কিনা নিয়েই ব্যস্ত, এমন অভিনেতা খুব কম দেখেছি…” নতুন প্রজন্মের ‘ভুল ফোকাস’ নিয়ে বি’স্ফোরক চন্দন সেন! আজকের শিল্পীরা কি চরিত্রের গভীরতা ভুলে বাহ্যিক সাজেই আটকে, কি জানালেন অভিনেতা?
উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতির আগে ধারাবাহিকগুলির শুটিং খুব দ্রুতগতিতে চলছিল। এপিসোড জমা রাখার জন্য একসঙ্গে দুই ইউনিটে কাজ হচ্ছিল। অনেক সময় ১৪ ঘণ্টার বেশি শুটিং চলেছে বলে জানা গেছে। তবে হঠাৎ করেই সব কাজ থমকে যায়। ৭ এপ্রিল সকালে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে শিল্পীরা জড়ো হন। সেখানে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।






