“অনির্বাণের মতো আমাকেও বলা হচ্ছে ব্যান করবে, টেকনিশিয়ানদেরও থ্রে’ট করছে” ভালো করতে গেলেই হু’মকি, অভিযোগ তুললেন দেব! ‘এসিতে বসে দাদাগিরি নয়, মানুষের কথা ভাবুন’ স্বরূপ বিশ্বাসকে আ’ক্রমণ অভিনেতা-সাংসদের! টলিপাড়ায় ‘থ্রে’ট কালচার’-এর পর্দা করলেন ফাঁস?

রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে যখন ভোটের উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক তখনই টলিউডের অন্দরেও দেখা দিল নতুন মতবিরোধ। বিষয়টি ঘিরে এবার মুখোমুখি অভিনেতা ও তৃণমূল সাংসদ দেব এবং টেকনিশিয়ানদের সংগঠনের শীর্ষ নেতা স্বরূপ বিশ্বাস। টেকনিশিয়ানদের জন্য ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প চালু করা নিয়ে শুরু হয়েছে এই বিতর্ক, যা ইতিমধ্যেই টলিপাড়ায় বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিয়ে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে মতভেদ।

সম্প্রতি টলিউডের টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ নেন অভিনেতা দেব। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানান যাতে টেকনিশিয়ানদের এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানানো হলে টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োতে একটি বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়, যেখানে বহু টেকনিশিয়ান নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেন। তবে এই উদ্যোগকে ঘিরেই প্রশ্ন তোলেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর দাবি, আগে যে ক্যাশলেস মেডিক্লেম সুবিধা ছিল, সেটিই টেকনিশিয়ানদের জন্য বেশি কার্যকর ছিল এবং স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে একই সুবিধা পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সংগঠনের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

Dev, Raghudakat, Kunal Ghosh, Negative Campaign, Paid Propaganda, Tollywood Controversy, Bengali Cinema, Theatre Conflict, Dev Reaction, jealousy, Durga Puja Release, দেব, রঘু ডাকাত, কুণাল ঘোষ, অপপ্রচার, নেগেটিভিটি, টলিউড বিতর্ক, বাংলা সিনেমা, প্রেক্ষাগৃহ দখল, দেবের প্রতিক্রিয়া, ঈর্ষা, পুজোর ছবি

স্বরূপ বিশ্বাসের এই মন্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে দেব সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, স্বরূপ বিশ্বাসের বক্তব্যের উত্তর সবচেয়ে ভালো দিতে পারেন তাঁর বড় দাদা অরূপ বিশ্বাস, যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্যজুড়ে প্রচার করেছেন। দেবের কথায়, “যেখানে কোটি কোটি মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন, সেখানে এই প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা দরকার।” একই সঙ্গে তিনি জানান, অনেক টেকনিশিয়ানের বীমা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা তাঁর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। সেই কারণেই তিনি উদ্যোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ “প্রায় বছর কুড়ি পালন করি না, জন্মদিন আর আগের মতো নেই” বিশেষ দিনে দুঃখের স্মৃতিতে ডুব অভিনেতার! হারানোর পর বদলে গেছে এই দিনের মানে, জানালেন ঋজু বিশ্বাস?

এই প্রসঙ্গেই দেব কটাক্ষ করে বলেন, “এসি ঘরে বসে আমি কত বড় দাদা আর আমি কী দাদাগিরি করতে পারি, সেটা থেকে বেরিয়ে এসে টেকনিশিয়ানদের কথা ভাবা দরকার।” তাঁর মতে, যারা প্রতিদিন শুটিং ফ্লোরে টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে কাজ করেন, তারাই প্রকৃত সমস্যাটা বুঝতে পারেন। তিনি আরও বলেন, অনেক টেকনিশিয়ান দিন আনে দিন খায় এবং হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে যায়। তাই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হতে পারে।

দেব আরও দাবি করেন, বেশ কিছু টেকনিশিয়ান তাঁর কাছে এসে জানিয়েছেন যে তারা এই ক্যাম্পে নাম নথিভুক্ত করতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ নাকি তাদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে এতে ভবিষ্যতে কাজ হারাতে হতে পারে বা তাদের ‘ব্যান’ করা হতে পারে। এই প্রসঙ্গে দেব বলেন, “মানুষের ভালো করার জন্য যদি আমাকে ব্যান করা হয়, তাহলে ব্যান করুক। কিন্তু টেকনিশিয়ানদের ভয় দেখিয়ে আটকানো ঠিক নয়।” তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে এই ধরনের ‘থ্রেট কালচার’ বন্ধ হওয়া দরকার এবং সবাইকে একসঙ্গে টেকনিশিয়ানদের স্বার্থের কথা ভাবতে হবে। একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই এই উদ্যোগ অনুমোদন করে তিনি হাজার হাজার টেকনিশিয়ানের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

You cannot copy content of this page