“উনি আমার বাবা, আমি ওঁর ছেলে…রাজনীতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু এই সম্পর্ক কোনওদিন বদলাবে না!” কলকাতায় ফিরেই আর এক মুহূর্ত দেরি নয়, মিঠুনকে দেখতে হাসপাতালে ছুটলেন দেব! আবেগঘন বার্তায় কী জানালেন? এখন কেমন আছেন তিনি?

লাদাখ থেকে কলকাতায় ফিরেই হাসপাতালে ছুটলেন অভিনেতা দেব। তাঁর আগামী ছবি ‘দেশু সাত’-এর একটি গানের শুটিংয়ের জন্য লাদাখে গিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন ছবির নায়িকা শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ও। শুক্রবার দুপুরে কলকাতায় ফেরার পর রাতেই মিঠুন চক্রবর্তীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে পৌঁছে যান দেব। মিঠুনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে দীর্ঘদিনের, তা নতুন নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা নানা বিতর্ক কোনওদিনই সেই সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে দেবও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ের উপর নির্ভরশীল নয়।

মিঠুনকে দেখে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেব বলেন, “মিঠুনদা যেই দলে থাকুন না কেন, মিঠুনদা আমার বাবার মতো। ছিল, আছে আর থাকবে। এবং আমি ওঁর ছেলের মতো।” মিঠুনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেব আরও বলেন, “আমি কামনা করব যে উনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাক। আর যেন ওঁকে হাসপাতালে থাকতে না হয়। সুস্থভাবে কাজ করুক। আগামীদিনেও আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। সেটা যেন আমরা সুস্থভাবে করতে পারি।” পরে হাসপাতাল থেকে মিঠুনের সঙ্গে দেখা করার একটি ছবিও সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন দেব। সেখানে তিনি লেখেন, “আপনি সবসময়ই আমার কাছে একজন বাবার মতো। আপনার সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং আপনার প্রাপ্য সবকিছুই যেন আপনি পান, এই কামনাই করি।”

দেব ও মিঠুনের সম্পর্কের উষ্ণতা এর আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে। ‘প্রজাপতি’ এবং ‘প্রজাপতি ২’ ছবিতে তাঁদের জুটি যেমন দর্শকদের পছন্দ হয়েছিল, তেমনই এই জুটি নিয়ে বাংলার রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় মিঠুন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকায় দেবের দল তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয়। এমনকী, ‘প্রজাপতি’ ছবিকে নন্দনে জায়গা না দেওয়া নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে কুণাল ঘোষের সঙ্গেও দেবের মতানৈক্য তৈরি হয়েছিল। তবে এত বিতর্কের পরেও মিঠুনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে সরে আসেননি দেব। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে মিঠুনকে বরাবরই নিজের বাবার মতো সম্মান করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, দেবের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সম্প্রতি নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। খবর অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন দেব। যদিও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য দেননি তিনি। প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে যাঁরা বর্তমানে এনসিপির সঙ্গে রয়েছেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও সেখানে দেবকে দেখা যায়নি। এর কারণ হিসেবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, সেই সময় দেব লাদাখে ছিলেন। তবে রাজনীতির এই সমীকরণ কখনও দেব ও মিঠুনের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রভাবিত করেনি। লাদাখ থেকে ফিরেই হাসপাতালে মিঠুনকে দেখতে যাওয়ার ঘটনাতেও সেই সম্পর্কেরই ছবি আরও একবার সামনে এল।

আরও পড়ুনঃ মাত্র পাঁচ মাসেই রণজয় ও শ্যামৌপ্তির দাম্পত্য ভাঙনের নেপথ্যে তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি? সূত্রের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার এক প্রভাবশালীর সঙ্গেই নাকি রয়েছে শ্যামৌপ্তির ঘনি*ষ্ঠতা? এতদিন দোষ গিয়েছিল অভিকার ঘাড়ে! এবার নতুন দাবি ঘিরে তোলপাড় টলিপাড়া! অবশেষে সামনে এল সেই ব্যক্তির পরিচয়?

জানা গিয়েছে, মিঠুন চক্রবর্তীর ডান হাতে একটি ছোট অস্ত্রোপচার হয়েছে। প্রায় দু’বছর আগে তাঁর ডান হাতে চোট লাগায় সেখানে একটি প্লেট বসানো হয়েছিল। পুরনো সেই প্লেটটি বের করার জন্যই বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে কলকাতার বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন অভিনেতা। শুক্রবার সকালেই তাঁকে দেখতে হাসপাতালে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন মিঠুন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল ও আশঙ্কামুক্ত। এর মধ্যেই লাদাখ থেকে ফিরেই দেবের হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়া এবং মিঠুনকে নিজের বাবার সঙ্গে তুলনা করার ঘটনা তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে ফের আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Dev Adhikari (@imdevadhikari)

You cannot copy content of this page