টলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে এবার একেবারে জাতীয় স্তরের স্বীকৃতির তালিকায় নাম উঠে গেল মেগাস্টার দেবের (Dev)! অভিনয় এবং জনসেবার দীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে ভারতীয় ডাকবিভাগের প্রকাশিত ডাকটিকিটে জায়গা পেল তাঁর নাম ও প্রতিকৃতি! এই খবর সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত অনুরাগীরা। দেব নিজেও সমাজ মাধ্যমে বিষয়টি ভাগ করে নিয়ে জানিয়েছেন, এই সম্মান তাঁর কাছে শুধু পেশাগত সাফল্য নয় বরং মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন।
প্রসঙ্গত, ডাকটিকিটটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল উৎসবে। এই জায়গাটির সঙ্গে দেবের সম্পর্ক শুধুই সাংসদ হিসেবে নয়, একজন মানুষের মতো করে পাশে থাকারও। তাই নিজের নির্বাচনী এলাকাতেই এমন সম্মান পাওয়া তাঁর কাছে যে আলাদা গুরুত্ব বহন করে, তা সহজেই স্পষ্ট হয়েছে। ডাকটিকিটে দেবের প্রতিকৃতি ও তাঁর অবদানের উল্লেখ থাকায়, এটি তাঁর জীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে উঠে এসেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, বাংলা চলচ্চিত্রে দেবের পথচলা শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় দুই দশকের আগে। মুম্বাইতে দীর্ঘদিন বাবার সঙ্গে কাজ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলায় ফিরে, টলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ ছিল না। এক সময় ঠিক করে বাংলা বলতে না পারা, বিভিন্ন বিতর্কে পরিপূর্ণ যাত্রাপথে এসেছে সাফল্য, ব্যর্থতা, সমালোচনা সবই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ভিন্ন ধারার গল্পেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।
শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, প্রযোজক হিসেবেও বাংলা ছবিতে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, অভিনয়ের বাইরেও দেবের পরিচয় তৈরি হয়েছে একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে। ঘাটালের সাংসদ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সমস্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। অনেকের মতে, এই সামাজিক দায়বদ্ধতাই তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে এবং এই সম্মানের পথ আরও প্রশস্ত করেছে।
আরও পড়ুনঃ “শেষে তোমার সন্তান নয়, কাজই তোমায় বাঁচিয়ে রাখবে!” “হিরোইন সুলভ চেহারা নয়, তাই ইন্ডাস্ট্রি আমায় হারালো!” অভিজ্ঞতার আলোকে স্পষ্ট বক্তব্য স্বাগতা মুখার্জির! নিজের লড়াইকে সামনে রেখে, গ্ল্যামারের আড়ালের কোন কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরলেন তিনি?
দেবের এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমাজ মাধ্যমে শুভেচ্ছার বন্যা। টলিউডের সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক, সবাই এই অর্জনকে দেখছেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের গর্ব হিসেবে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম, মানুষের সঙ্গে সংযোগ আর নিজের জায়গায় অবিচল থাকার ফল হিসেবেই এই ডাকটিকিটকে দেখছেন অনুরাগীরা। দেবের কেরিয়ারে এটি যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, তা বলাই বাহুল্য।






