মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। ইরান ও ইজরায়েল এর সংঘাত নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। একের পর এক সামরিক হামলার জেরে আরব বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে হাজার হাজার যাত্রী বিদেশের মাটিতে আটকে পড়েছেন, যাঁদের মধ্যে শতাধিক ভারতীয় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে বহু মানুষের, তৈরি হয়েছে উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার আবহ।

এই অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে বিনোদন ও ক্রীড়াজগতেও। সূত্রের খবর, অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ছেলে ইউভানকে নিয়ে ছুটি কাটাতে দুবাই গিয়েছিলেন, সেখানেই আটকে পড়েছেন তিনি। একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরত ফারিয়া। বলিউড অভিনেত্রী সোনল চৌহান এবং ভারতের জোড়া অলিম্পিক পদকজয়ী ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু ও আবু ধাবি বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন। নির্ধারিত সময়ে দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি কারও।

ইরানের সামরিক অভিযানের পরপরই আবু ধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এ বাজতে শুরু করে সতর্কতার অ্যালার্ম। হঠাৎ পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দ্রুত টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা জোরদার করতে নামানো হয় ন্যাশনাল গার্ডকে। তাঁরা যাত্রীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে ভবনের ভেতরেই নিরাপদে অবস্থান করার নির্দেশ দেন, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
আরও পড়ুনঃ “আমি কোয়েলকে সম্মান করি, কিন্তু এই সিদ্ধান্তে কষ্ট পেয়েছি!” শাসক দলের প্রার্থী তালিকায় নাম উঠতেই ক্ষোভ-হতাশায় মুখ খুললেন রুদ্রনীল ঘোষ! মানুষের ভালোবাসা, এত বছরের গড়া ইমেজে কি সত্যিই কালি পড়ল? রাজনীতির ময়দানে নামলেই বদলে যাবে কি সম্মানের সমীকরণ?
কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রথমে সাময়িকভাবে এবং পরে সম্পূর্ণভাবে বিমান পরিষেবা বাতিল করা হয়। প্রায় দু ঘণ্টা ধরে অনিশ্চয়তার পর জানানো হয়, কোনও উড়ান ছাড়বে না। ফলে চার মহাদেশের সঙ্গে সংযোগ কার্যত থমকে যায়। এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার বহু গন্তব্যে যাওয়ার যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থায় এই অচলাবস্থা বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ আবু ধাবি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র।
এরপর টার্মিনালের ভেতরে বাড়তে থাকে অস্থিরতা। খাবারের দোকানগুলিতে লম্বা লাইন পড়ে যায়, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে পরিবারগুলি উদ্বেগে অপেক্ষা করতে থাকেন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাননি। সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা কবে কাটবে, সে দিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার যাত্রী।






