সম্প্রতি অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরবানায় থাকতে যোগ্যতা লাগে’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে বিনোদন মহল সর্বত্র তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই মন্তব্যের পর থেকেই আরবানায় বসবাস করা একাধিক তারকার জীবনযাপন নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আবহেই নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত ভাগ করে নিলেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। বর্তমানে তাঁরাও আরবানার বাসিন্দা হলেও, এই আবাসনে থাকার কারণ যে একেবারেই অন্য, তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন এই তারকা দম্পতি। একই সঙ্গে তাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন, নতুন বাড়িতে আসার গল্প এবং পুরনো স্মৃতির কথাও তুলে ধরেছেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই কৌশিক ও চূর্ণীর পরিচয় এবং পরে প্রেমের শুরু। সেই পুরনো দিনের কথা স্মরণ করে চূর্ণী জানান, কৌশিক ছিলেন অত্যন্ত নাছোড়বান্দা প্রেমিক। প্রথম থেকেই তাঁকে বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল পরিচালকের। চূর্ণীর কথায়, কৌশিক একসময় বলেছিলেন, “তোকে আমি বিয়ে করেই ছাড়ব। আর যদি বিয়ে না করতে পারি, তাহলে বিবাহিত চূর্ণীর বাড়ির পাশেই থাকব।” এত বছর পরেও সেই ঘটনার কথা মনে করে দু’জনেই হাসিঠাট্টা করেন। বর্তমানে তাঁদের সুখের সংসার, পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও একে অপরের বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন তাঁরা।
দম্পতির একমাত্র ছেলে উজান গঙ্গোপাধ্যায়ও এখন বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। পড়াশোনায় মেধাবী উজান অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার কাজও করছেন এবং ইতিমধ্যেই নিজের ছবি তৈরি করেছেন। অন্যদিকে বহু বছর ধরে গড়িয়ার চারতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন কৌশিক ও চূর্ণী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দু’জনেরই হাঁটুর সমস্যা বাড়তে থাকায় লিফ্টযুক্ত একটি আবাসনে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিচিতদের অনেকেই স্ট্যান্ড অ্যালোন ফ্ল্যাট না কেনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাই নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা এবং কমপ্লেক্সের পরিবেশ বিবেচনা করেই তাঁরা নতুন বাড়ির খোঁজ শুরু করেন।
আরও পড়ুন: “আগে প্রেগন্যান্ট হয়েছি, তারপর বিয়ে করেছি, এটা আমার কাছে কখনও সমস্যা ছিল না…মাতৃত্ব ও বিয়ে দুটো সম্পূর্ণ আলাদা!” বিয়ের সাড়ে ৩ মাসে ছেলের মা হওয়ার পর সাহসী মন্তব্যে নতুন বি’তর্কের কেন্দ্রে সুস্মিতা রায়! ‘এত যখন উচ্চচিন্তাধারা সম্পন্ন, ম্যাটারই যখন করে না তখন গর্ভাবস্থায় বিয়ের নিয়ে প্রহসন করলেন কেন?’ কটাক্ষ নেটিজেনদের!
কোভিডের সময় নতুন বাড়ির সন্ধান করতে গিয়েই আরবানার এই ফ্ল্যাটটি পছন্দ হয় কৌশিকের। সেই সময় তুলনামূলক কম দামে ফ্ল্যাট পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কেনার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। তবে চূর্ণীর কাছে বিষয়টি সহজ ছিল না। গড়িয়ার পুরনো বাড়ির সঙ্গে তাঁর অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে ছিল বলে নতুন ফ্ল্যাট নিয়ে বিশেষ উৎসাহ ছিল না। এমনকি চুক্তিপত্রে সই করার দিনই প্রথমবার তিনি নতুন ফ্ল্যাটটি দেখতে যান। নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময় কোনও নতুন আসবাবও কেনেননি তাঁরা। পুরনো বাড়ির সমস্ত আসবাবই সঙ্গে নিয়ে গিয়ে নতুন ফ্ল্যাটে সাজিয়েছেন। তাঁদের কথায়, ওই আসবাবগুলি পরিবারের সদস্যের মতো, তাই সেগুলোর সঙ্গে আলাদা আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।
আরবানায় থাকলেও তার চাকচিক্য নিয়ে তাঁদের কোনও বাড়তি আকর্ষণ নেই বলেই জানিয়েছেন কৌশিক ও চূর্ণী। কৌশিক বলেন, “আমাদের ফ্ল্যাটটা থেকে আরবানার চাকচিক্য দেখা যায় না। দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে শুধু দেখা যায় দিগন্ত বিস্তৃত জমি আর মাঠ।” সেই প্রাকৃতিক দৃশ্যই তাঁদের সবচেয়ে বেশি টানে। অন্যদিকে চূর্ণী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি এখনও গড়িয়াহাটের ফুটপাথ থেকে জামা কিনে পরি!” তাঁর কথায়, জনপ্রিয় মুখ হওয়া বা কোনও বিশেষ আবাসনে থাকা দিয়ে মানুষের যোগ্যতা বিচার করা যায় না। এখনও গড়িয়ার পুরনো বাড়ির জন্য তাঁর মন কাঁদে। তাই আরবানায় থাকলেও সেই নিয়ে কোনও বাড়তি গর্ব বা মাতামাতি তাঁদের জীবনে নেই।






