“এটা করবে না, ওটা করবে না.. মেয়েকে ছাড়া থাকতে পারত না, আমাদের স্পেস দেওয়া হত না” “জীবনে ব্যক্তিগত বলে কিছুই ছিল না, আমরা খুব কম সময়ই একা থাকতে পেরেছি” প্রবাহর দাবিতে নতুন করে সরগরম নেটপাড়া! ফের প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সত্যিই মায়ের অতিরিক্ত গা ঘেঁষাঘেঁষি ভেঙে দিল দেবলীনা ও প্রবাহর সম্পর্ক?

নেটপ্রভাবী তথা গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’ (Debolina Nandy) এবং পেশায় পাইলট ‘প্রবাহ নন্দী’র (Prabaha Nandy) সম্পর্ক ঘিরে গত কয়েক মাসে কম আলোচনা হয়নি। নানান অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং সামাজিক মাধ্যমে চলা বিতর্কের মধ্যেই এবার দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে মুখ খুলেছেন প্রবাহ। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁদের দাম্পত্য জীবনের এমন কিছু দিক তুলে ধরেছেন, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দেবলীনার মাকে কেন্দ্র করে করা তাঁর একাধিক মন্তব্য ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। প্রবাহর দাবি, তাঁদের সম্পর্কে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তার বড় অংশ জুড়েই ছিল পরিবারের এক সদস্যের অতিরিক্ত উপস্থিতি।

আর সেই কারণেই সম্পর্কের ভিত ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে তাঁর ইঙ্গিত। সাক্ষাৎকারে প্রবাহ বলেন, “আমাদের বিয়েতে কোনও সমস্যা ছিল না। প্রধান সমস্যা ছিল ওঁর মায়ের সব কিছুতে ঢুকে পড়া।” তাঁর দাবি, বিয়ের আগেও খুব কম সময়ই তিনি এবং দেবলীনা একা কোথাও যেতে পেরেছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেবলীনার মা তাঁদের সঙ্গে থাকতেন। প্রবাহর কথায়, “বিয়ের আগেও খুব কম জায়গায় আমি আর দেবলীনা একসঙ্গে যেতে পেরেছি। অধিকাংশ জায়গায় ওঁর মা সঙ্গে যেতেন। আমাদেরকে স্পেস দেওয়া হতো না।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কথা বললেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়টি তাঁদের সম্পর্কে আরও প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

প্রবাহ আরও দাবি করেছেন, শুধু উপস্থিতিই নয়, অনেক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও দেবলীনার মায়ের প্রভাব ছিল যথেষ্ট বেশি। তাঁর বক্তব্য, “দেবলীনার মায়ের সব কিছুতে জুড়ে যাওয়ার কারণে অনেক সময়ে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট হতো।” এমনকি তিনি এও বলেন, “আমি দেখেছি দেবলীনার মা কিছু ক্ষেত্রে ওঁকে ব্ল্যাকমেল করতেন। এটা না করলে, ওটা না করলে, শোয়ে সঙ্গে যাবেন না, এই ধরনের।” যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে দেবলীনা বা তাঁর পরিবারের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি, তবু প্রবাহর এই বক্তব্য নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তিনি যখন স্পষ্টভাবে বলেন যে তাঁদের দাম্পত্য জীবনের প্রধান সমস্যাটাই ছিল এই বিষয়টি, তখন অনেকের মধ্যেই কৌতূহল বেড়েছে।

তবে একইসঙ্গে প্রবাহ এটাও পরিষ্কার করেছেন যে তিনি কখনও দেবলীনাকে তাঁর মা এবং স্বামীর মধ্যে কাউকে বেছে নিতে বলেননি। তাঁর কথায়, “এটা কোনওদিন দেবলীনাকে বলা হয়নি, হয় মাকে ছেড়ে দাও, না হলে আমাদের ছেড়ে দাও। এটা সম্পূর্ণ বানিয়ে বলা হচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, দেবলীনার মায়ের চেহারা, জীবনযাপন বা ব্যক্তিগত কোনও বিষয় নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল না। বরং তাঁর বক্তব্য, “ওঁর মাকে দেখতে কেমন, সেটা নিয়ে আমার কোনও সমস্যা ছিল না, তার প্রমাণ হলো, ওঁর মা কেমন, তা দেখেই তো আমি বিয়ে করেছি!” অর্থাৎ সমস্যাটা কোনও ব্যক্তিগত অপছন্দের ছিল না, বরং সম্পর্কের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তির অতিরিক্ত উপস্থিতি নিয়েই ছিল বলে দাবি তাঁর।

আরও পড়ুনঃ লিডিং হিরো বলে কথা! ‘বাবা-মায়ের জোরে নয়, নিজের চেষ্টায় ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করেছি!’ “অনেক বড় হিরো, যার সিনেমার বক্স অফিস কালেকশন ২ হাজার টাকা হয়!” বনির কথা শুনে ক’টাক্ষ নেট পাড়ার! বনির লড়াইয়ের গল্প জানেন?

এই সাক্ষাৎকার সামনে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একটি দাম্পত্য সম্পর্কে ব্যক্তিগত পরিসরের গুরুত্ব ঠিক কতটা? আবার কেউ কেউ মনে করছেন, মেয়ে যদি মায়ের খুব কাছের হয়, তাহলে সেটাকে সবসময় নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয়। তবে প্রবাহর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে, “আমাদেরকে স্পেস দেওয়া হতো না” এবং “প্রধান সমস্যা ছিল ওঁর মায়ের সব কিছুতে ঢুকে পড়া”। তাহলে কি সত্যিই মায়ের অতিরিক্ত গা ঘেঁষাঘেঁষিই দেবলীনা এবং প্রবাহর সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেছিল? নাকি গল্পের অন্য কোনও দিক এখনও সামনে আসা বাকি? কী মনে হয় আপনাদের?

You cannot copy content of this page