ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ‘মিঠুন চক্রবর্তী’ (Mithun Chakraborty) ৭৬ বছরে পা দিলেন। ১৬ জুন তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছায় ভরে উঠেছে অনুরাগীদের সামাজিক মাধ্যম। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য সাফল্য, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক অধ্যায় পেরিয়েও তিনি এখনও বাঙালির কাছে সমান জনপ্রিয়। এই বিশেষ দিনে অভিনেতার বহু বছরের বন্ধু ও বিশিষ্ট অভিনেত্রী ‘মমতা শঙ্কর’ (Mamata Shankar) তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা কথা সামনে আনলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রায় পাঁচ দশকের পরিচয়ের পরও মিঠুনের স্বভাবের কোনও বদল হয়নি। তারকাখ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতে ভালোবাসেন। সেই কারণেই জন্মদিনকে কখনও বড় অনুষ্ঠান বা প্রচারের বিষয় বানান না তিনি।
মমতাশঙ্কর জানান, তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়েছিল প্রায় ৫০ বছর আগে, মৃণাল সেন পরিচালিত ‘মৃগয়া’ ছবির সেটে। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, “মিঠুনকে চিনি সেই কবে থেকে…৫০ বছর পেরিয়ে গিয়েছে চেনাশোনার। মিঠুন আজও সেই একইরকম রয়ে গিয়েছে। হইচই করে, এর-ওর পিছনে লাগে, স্টারডমের পরোয়া না করেই। এত বড় তারকা হয়েও ও কোনওদিনও নিজের জন্মদিন সাড়ম্বরে পালন করেনি। শুধু ও নয়, ওর পরিবারের সবার ক্ষেত্রেই এই কথাটা খাটে। পরিবারের সঙ্গেই একান্তে এই দিনটুকু ও উদযাপন করে।” মমতা শঙ্করের মতে, জনপ্রিয়তা যতই বাড়ুক, পরিবারকেই সবসময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন মিঠুন।
বন্ধুর মানবিক দিক নিয়েও বিশেষভাবে কথা বলেছেন মমতা শঙ্কর। তিনি জানান, জীবনের শুরুর দিনগুলোতে যখন মিঠুনের এত নাম, খ্যাতি বা আর্থিক সামর্থ্য ছিল না, তখনও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ছিল প্রবল। পরবর্তীকালে সাফল্য পাওয়ার পর সেই মানসিকতা আরও বড় পরিসরে প্রকাশ পেয়েছে। শুধু মানুষের জন্য নয়, পশুপাখির প্রতিও তাঁর ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধের কথা উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশের পর মিঠুনকে নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও জানান তিনি। মমতাশঙ্কর বলেন, “অন্যের সমস্যাকে ও খুব প্যাশনেটলি নিজের করে নেয়। তাই তো যখন ও বিজেপি-তে যোগদান করে ঘুরে-ঘুরে প্রচার শুরু করেছিল, আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম এই ভেবে যে ও যেন অতিরিক্ত খাটুনিতে অসুস্থ না হয়ে পড়ে।”
দীর্ঘ সময় পরে ‘প্রজাপতি’ ছবিতে আবার একসঙ্গে কাজ করেছিলেন মিঠুন ও মমতাশঙ্কর। অভিনেত্রী জানান, এত বছর পর শুটিং ফ্লোরে দেখা হলেও তাঁদের সম্পর্কের উষ্ণতায় কোনও পরিবর্তন আসেনি। আগের মতোই হাসি-ঠাট্টা এবং খুনসুটিতে মেতে উঠেছিলেন মিঠুন। মমতাশঙ্কর বলেন, তাঁর স্বামী চন্দ্রোদয় ঘোষের সঙ্গেও মিঠুনের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার সঙ্গে যতবার, যেখানে দেখা হয়েছে আমার পরিবারের কথা, ছেলেদের খোঁজখবর নিয়েছে। আন্তরিকভাবেই নিয়েছে।” এই আন্তরিকতাই মিঠুনকে অন্যদের থেকে আলাদা করে বলে মনে করেন তিনি। ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাঁর চরিত্রের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য বলেও উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুনঃ “তখন মা ও আমার দু’জনেরই চোখে জল…আমাদের লিফট পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন” মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিনে স্মৃতিচারণ ঐন্দ্রিলার! কোন সেই ঘটনা, যা আজও চোখ ভিজিয়ে দেয় অভিনেত্রীর? শুনলে আবেগপ্রবণ হবেন আপনিও!
মিঠুনের স্ত্রী যোগিতা বালির প্রসঙ্গও উঠে আসে এই সাক্ষাৎকারে। মমতাশঙ্কর বলেন, “যোগিতা বালির সঙ্গে প্রথমবারের জন্য যখন দেখা হয়েছিল, সেদিনই বুঝেছিলাম মিঠুনের জন্য ও-ই একেবারে পারফেক্ট। জোর গলায় বলতে পারি, আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে কোনও ‘ইল ফিলিং’ বা বিন্দুমাত্র অস্বস্তিবোধ নেই।” সম্প্রতি মিঠুন-কন্যার বাগদানের খবরেও আনন্দ প্রকাশ করেন তিনি। তবে সেই অনুষ্ঠান নিয়েও একটি বিশেষ তথ্য দেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “ওদের পরিবার আড়ম্বরে বিশ্বাস করে না। তাই মিঠুন-কন্যার বাগদান কিন্তু আর পাঁচজন তারকা-সন্তানের বাগদানের মতো জাঁকজমকপূর্ণ হয়নি। এটাও দেখার মতো।” সবশেষে প্রিয় বন্ধুর জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে মমতা শঙ্কর বলেন, “ওর জন্মদিনে প্রার্থনা করি, মিঠুন যেন সবাইকে নিয়ে দুরন্ত ও আনন্দে থাকেন। যেভাবে তিনি আজীবন মানুষের বিপদে বারংবার পাশে দাঁড়িয়েছেন, ঈশ্বর যেন ওঁর সেই ভাল কর্মের সুফল ওঁকে ফিরিয়ে দেন।”






