“আমার দ্বারা কোনোদিনও সু’ইসা*ইড করা হবে না, কারণ…” পরিচালক হিসেবে পথচলার মাঝেই কেন এমন স্বীকারোক্তি মানসী সিনহার? এই কথার আড়ালে কীসের ইঙ্গিত দিলেন অভিনেত্রী-পরিচালক?

বাংলা বিনোদন জগতে ‘মানসী সিনহা’র (Manasi Sinha) নামটা আজ আর নতুন করে পরিচয়ের দাবি রাখে না, কিন্তু এই জায়গায় পৌঁছনোর রাস্তাটা যে খুব সোজা ছিল, তা নয়। অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা ছোটবেলা থেকেই, প্রায় শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো স্বাভাবিক। থিয়েটারের মঞ্চে হাতেখড়ি, পাশে মায়ের ছায়ায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল অভিনয়ের ইচ্ছা, শৃঙ্খলা আর দায়িত্ববোধ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন নাট্যদলে কাজ করতে করতেই তিনি শিখে নিয়েছিলেন, অভিনয় শুধুই আলোয় ভেসে থাকা নয়, বরং নিয়মিত পরিশ্রম আর ধৈর্যের পরীক্ষা!

প্রসঙ্গত, তাঁর কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন নাটকের মঞ্চে কাজ করতে করতেই এক খ্যাতনামা পরিচালকের নজরে পড়েন তিনি। সেখান থেকেই বড়পর্দার সুযোগ আসে এবং প্রথম ছবিতেই দর্শকের মনে দাগ কাটতে সক্ষম হন। তবে সেই সাফল্যের পরও দীর্ঘদিন তাঁকে ওই ছবির পরিচয়ের মধ্যেই আটকে থাকতে হয়েছে। বলুন তো কোন ছবি? ঠিক ধরেছেন, ‘আলো’! বড়পর্দায় কাজ অনিয়মিত হলেও মানসী থেমে যাননি। টেলিভিশন, থিয়েটার, প্রায় সব মাধ্যমেই নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন।

নিজের মতো করে জায়গা বানিয়েছেন স্থায়ীভাবে। অনেকে যেখানে কেরিয়ারকে একরৈখিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, মানসীর পথটা সেখানে একটু আলাদা। তিনি নিজেই বারবার বলেছেন, তাঁর যাত্রাটা উল্টো স্রোতের মতো। বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দায় আসা, আবার সেখান থেকে নতুন পরিচিতি তৈরির ওঠানামার মধ্যেই তৈরি হয়েছে তাঁর অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। এই পথচলা তাঁকে শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও পরিণত করেছে। পরিচিতি পেতে দেরি হলেও, আজ যে ভালোবাসা আর সম্মান তিনি পেয়েছেন, তার ভিতটা তৈরি হয়েছে এই দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্য দিয়েই।

উল্লেখ্য, অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার স্বপ্ন যে তাঁর মনে অনেকদিন ধরেই ছিল, তা তিনি কখনও লুকোননি। সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নেয় ২০২৪ সালে, যখন তিনি প্রথমবার পরিচালকের আসনে বসেন। ছবিটি শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যই পায়নি, বরং দর্শকের কাছেও আলাদা করে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিল। পরিচিত ও দক্ষ অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করেও তিনি নিজের ভাবনাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পেরেছিলেন, যা তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। এই পর্যায়ে এসে দায়িত্ব যে বহুগুণ বেড়েছে, সেটাও তিনি স্বীকার করেন।

আরও পড়ুনঃ “ব্যাঙাচির লেজের মতো, কখন খসে পড়ে বলা যায় না!” স্থায়ী চাকরি ছেড়ে অভিনয়ে আসা!শ্বশুরমশাইয়ের কটাক্ষ বদলে দিয়েছিল জীবনের মোড়? ‘ব্যাঙাচির লেজ’ থেকে রূপোলি পর্দার নায়ক, সাফল্যের শিখরে আবির চট্টোপাধ্যায় শোনালেন অনুপ্রেরণার গল্প!

সম্প্রতি তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, পরিচালনার চাপ বাড়ায় কখনও কি অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা মনে হয়? সেই প্রসঙ্গে জীবনদর্শনের সারকথা বললেন তিনি। স্পষ্টভাবে জানালেন, “এটা আমার চরিত্রের দোষ বা গুণ যেটাই বলা হোক, কিন্তু আমি মাঝে পথে অসমাপ্ত ফেলে রেখে চলে যাই না! আমি যে জিনিসটা একবার ধরি, সেটা শেষে না হওয়া পর্যন্ত কোনও কথা নেই। ঠিক সেই জন্যই আমার দ্বারা কোনোদিনও সু’ইসা*ইড করা হবে না, কারণ আমি এস্কেপিস্ট নই!” এখানে আবেগের চেয়ে বেশি করে ধরা পড়েছে তাঁর দৃঢ়তা, দায়িত্ববোধ আর জীবনের প্রতি এক ধরনের সৎ লড়াইয়ের মনোভাব।

You cannot copy content of this page