“ব্যাঙাচির লেজের মতো, কখন খসে পড়ে বলা যায় না!” স্থায়ী চাকরি ছেড়ে অভিনয়ে আসা!শ্বশুরমশাইয়ের কটাক্ষ বদলে দিয়েছিল জীবনের মোড়? ‘ব্যাঙাচির লেজ’ থেকে রূপোলি পর্দার নায়ক, সাফল্যের শিখরে আবির চট্টোপাধ্যায় শোনালেন অনুপ্রেরণার গল্প!

বিনোদন জগতে তারকাদের সাফল্য একদিনে ধরা দেয় না। রূপোলি পর্দার ঝলকানির আড়ালে থাকে বছরের পর বছর ধরে চলা অজস্র পরিশ্রম, অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই আর নিজেকে বারবার ভেঙে গড়ে তোলার গল্প। বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে সেই পথ ততটাই কঠিন। অনেক সময় নিজের কাছের মানুষদেরও বোঝাতে হয়—এই পথ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, আবার কতটা স্বপ্নের।

ঠিক সেই কঠিন পথ ধরেই আজ বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ আবির চট্টোপাধ্যায়। কখনও গোয়েন্দা, কখনও পুলিশ, আবার কখনও একেবারে সাধারণ মানুষের চরিত্রে—বছরের পর বছর ধরে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে চলেছেন তিনি। ফেলুদা হোক বা অন্য কোনও চরিত্র, আবিরের অভিনয়ে আলাদা করে একটা বিশ্বাসযোগ্যতা খুঁজে পান দর্শক।

শুধু বড়পর্দা নয়, ছোটপর্দা ও ওয়েব—সব জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখেছেন আবির। গল্পনির্ভর ছবিতে তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকের প্রত্যাশা বেড়ে যায়। চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও তিনি বরাবরই সচেতন। ফলে জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে একজন দক্ষ অভিনেতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তবে এই সাফল্যের আগে ছিল এক বড় টার্নিং পয়েন্ট। একটা সময় স্থায়ী চাকরি ছেড়ে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। নিজের পরিবার পাশে থাকলেও শ্বশুরবাড়ির তরফে ছিল সংশয়। অভিনয়জগতের অনিশ্চয়তা নিয়ে শ্বশুরমশাই একদিন তাঁকে বলেছিলেন, “তোমার কাজটা অনেকটা ব্যাঙাচির লেজের মতো, কখন খসে পড়ে কেউ বলতে পারে না।” কথাটা কঠিন হলেও বাস্তবতার ছোঁয়া ছিল তাতে।

আরও পড়ুনঃ “আমি জানি, ঐন্দ্রিলা আমাদের চারপাশে আজও আছে!” “অনেক কষ্টের দিনের পর এই দিনটা এসেছে” প্রয়াত বোনের স্মৃতি বুকে নিয়েই, প্রেমের মরশুমেই আইনি বিয়ে সারলেন ঐশ্বর্য শর্মা! বড় মেয়ের বিশেষ দিনে আবেগ সামলাতে পারলেন না মা শিখা শর্মাও!

সেই সন্দেহ, সেই আশঙ্কাকে পেরিয়েই আজ আবির চট্টোপাধ্যায়। নিজেই জানিয়েছেন, অভিনয়ের অনিশ্চয়তা তিনি বুঝতেন, তবুও দর্শকদের ভালোবাসা তাঁকে এগিয়ে চলার সাহস দিয়েছে। আজ তাঁর কেরিয়ারের দিকে তাকালে বোঝা যায়—ঝুঁকি নিয়েই কখনও কখনও স্বপ্ন সত্যি হয়।

You cannot copy content of this page