“কোনও কন্যার উপর আ’ঘাত হলে আমরা আগেও রাস্তায় নেমেছি, এখনও নামব…যতই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করুক” বারুইপুরের নাবালিকার সঙ্গে নৃ’শংসতার প্রতিবাদে মমতার মোমবাতি মিছিলে শামিল ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়! আর জি কর কাণ্ডে কেন অভয়ার জন্য এমন আন্দোলন হয়নি? প্রশ্ন উঠতেই কী জবাব দিলেন অভিনেত্রী?

বারুইপুরের ১২ বছরের নাবালিকার উপর নৃশংস অত্যাচার ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে এখনও উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যেমন রাস্তায় নেমেছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও চলছে তীব্র চাপানউতোর। শাসক-বিরোধী তরজার পাশাপাশি এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন বিনোদন জগতের একাধিক ব্যক্তিত্বও। সোমবার বিকেলে নিজের বাড়ি থেকে মোমবাতি মিছিল করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই কর্মসূচিকে ঘিরে যেমন সমর্থন মিলেছে, তেমনই বিরোধীদের তরফেও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। সেই আবহেই মমতার পাশে দাঁড়িয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী ও তৃণমূল সমর্থক ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়।

ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই জানিয়ে এসেছেন, ভালো-খারাপ সব পরিস্থিতিতেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকবেন। সোমবারের মোমবাতি মিছিলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, এই কর্মসূচি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল না। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাধার মুখে পড়েন। এরপরই তিনি প্রতিবাদের বার্তা দিতে রাস্তায় নামেন। ময়নার কথায়, বাংলার বহু মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই মিছিলে সামিল হয়েছেন এবং নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দিদি নামেননি কেন, তার থেকেও বড় কথা হচ্ছে দিদি কিন্তু গিয়েছিলেন। আরজি করের ঘটনাতেও তিনি পরিবারের পাশে ছিলেন, এখনও আছেন।” তাঁর দাবি, কোনও মুখ্যমন্ত্রীই নিজের রাজ্যে এমন নৃশংস ঘটনা দেখতে চান না। তিনি আরও বলেন, “বারুইপুরের ঘটনাটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, অত্যন্ত নৃশংস। বাংলার মানুষ এমন ঘটনা কোনওদিন দেখেনি। দিদি শান্তির পক্ষে, তিনি শান্তিপূর্ণভাবেই নির্যাতিতার বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁকে আটকানো হয়েছে, সেটা বাংলার মানুষ দেখেছে।” পাশাপাশি ময়না জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেই ফোনে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আরজিকরের সময়ও আমরা মোমবাতি হাতে পথে নেমেছিলাম। কিন্তু পরে সেই ঘটনাকে রাজনৈতিক চক্রান্তের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, তারই প্রতিবাদ করেছি।” তাঁর আরও দাবি, সেসময় সিআইডি যাঁকে গ্রেফতার করেছিল, পরবর্তীতে সিবিআই তদন্তেও একই ব্যক্তির নাম উঠে আসে। পাশাপাশি তিনি বর্তমান রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “গতকাল দুপুর থেকে আমরা রাস্তায় আছি। অথচ যারা এখন ক্ষমতায় রয়েছে, তারা নীরব ছিল। বারুইপুরের মতো ভয়াবহ ঘটনার পরও তাঁদের তৎপরতা দেখা যায়নি।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত কয়েক মাসে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং নারী সুরক্ষার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

আরও পড়ুনঃ “শুধুমাএ দু’জনের পদবী এক বলেই নয়, দশ বছর আগে আমার বিয়েতে ওনাকে দেখে সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিল…” এতদিন ছিল গোপনে, বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ফাঁস করলেন গায়িকা! জানেন, সম্পর্কে লিলি চক্রবর্তী কে হন লগ্নজিতা চক্রবর্তীর?

ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “এই বাংলার মাটি প্রতিবাদ করতে জানে। কোনও কন্যার উপর আঘাত হলে আমরা আগেও রাস্তায় নেমেছি, এখনও নামব, ভবিষ্যতেও নামব।” তাঁর অভিযোগ, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকানোর বদলে অপরাধীদের আটকান। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, অপরাজিতা বিল কার্যকর করুন।” তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। সেই কারণেই তিনি দাবি করেন, নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার লড়াই ভবিষ্যতেও চলবে।

You cannot copy content of this page