রুপোলি পর্দার ঝলমলে আলো আর নিখুঁত মেকআপের বাইরে মিমি চক্রবর্তী যে একেবারেই সাধারণ, তা তিনি বহুবার প্রমাণ করেছেন। কখনও পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, কখনও আবার নিজে হাতে রান্না করা কিংবা বাগানের যত্ন নেওয়া, এই সবকিছুই তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। সম্প্রতি নিজের এক অদ্ভুত অথচ মজার শখের কথা প্রকাশ করে নেটদুনিয়াকে চমকে দিয়েছেন অভিনেত্রী। মিমি জানালেন, ঘরের কাজের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ হল বাসন মাজা। শুনতে অবাক লাগলেও, এই কাজেই নাকি তিনি সবচেয়ে বেশি মানসিক শান্তি খুঁজে পান।
বড় পর্দায় তাঁকে যতটা গ্ল্যামারাস এবং আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়, বাস্তব জীবনে তিনি ঠিক ততটাই সহজ সরল। শুটিংয়ের ব্যস্ততা না থাকলে ঘরের ছোটখাটো কাজ নিজে হাতে করতে ভালোবাসেন মিমি। বাসন মাজা ছাড়াও রান্না করা, ঘর গুছিয়ে রাখা কিংবা নিজের বাগান পরিষ্কার করাতেও তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাঁর মতে, এই কাজগুলো তাঁকে মাটির কাছাকাছি থাকতে শেখায় এবং কাজের চাপে ক্লান্ত মনকে হালকা করে দেয়। তারকা জীবন আর ঘরোয়া জীবনের এই ভারসাম্যই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মিমি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাসন মাজতে তাঁর দারুণ ভালো লাগত। সুযোগ পেলেই নাকি তিনি রান্নাঘরে ঢুকে পড়তেন এই কাজে। এমনকি এই শখের জন্য মায়ের কাছে বকাও খেতে হয়েছে তাঁকে। তবুও তাঁর আগ্রহ কমেনি। বরং ছোট বয়স থেকেই এই অভ্যাস তাঁর মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি এনে দিত বলে জানান অভিনেত্রী।
মিমির কথায়, ছোটবেলায় আজকের মতো এত রকম বাসন মাজার সাবান ছিল না। তখন নারকেলের ছোবা দিয়েই বাসন মাজা হত। সেই সময় মজা করে তাঁর মা বলতেন, সারাজীবন বুঝি বাসনই মাজতে হবে। আজ সেই কথাই যেন হাসিমুখে মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর কাছে এই অভ্যাস কোনও বাধ্যবাধকতা নয়, বরং আনন্দের অংশ। নিজের শর্তে বাঁচতে এবং ছোট ছোট কাজের মধ্যেই সুখ খুঁজে নিতে তিনি অভ্যস্ত।
আরও পড়ুনঃ অভিনেতার এক কথায় ছেড়েছিলেন জীবনের প্রিয় জিনিসটা, আজও স্বামীর সবচেয়ে বড় শক্তি শর্মিলি! স্ত্রীর ত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে টোটা রায়চৌধুরীর সাফল্য! ২৫ বছরের দাম্পত্যে, কীভাবে তিনি হয়ে উঠলেন আদর্শ জীবনসঙ্গিনী?
মিমির এই শখ আসলে প্রমাণ করে, তারকাদের জীবনও সাধারণ মানুষের থেকে খুব একটা আলাদা নয়। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও তিনি সাধারণত্বকে আঁকড়ে ধরে রাখতে ভালোবাসেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর নতুন ছবি ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল। ছবির প্রচারের মাঝেই ভাইরাল হয়েছে এই ভিডিয়ো এবং মিমির এই ঘরোয়া দিক আরও একবার মন জিতে নিয়েছে অনুরাগীদের।






