বিনোদন জগতের তারকাদের জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে নানা অপূর্ণতা, কষ্ট আর আফসোসের গল্প। খ্যাতি, অর্থ, সম্মান সবকিছু অর্জন করেও অনেক সময় জীবনের কিছু ছোট্ট স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। সাধারণ মানুষের মতো তারকারাও কখনও প্রতারণার শিকার হন, কখনও বিশ্বাসভঙ্গের যন্ত্রণা বয়ে বেড়ান। সেই সব অভিজ্ঞতা তাঁদের জীবনে এমন ছাপ ফেলে যায়, যা বহু বছর পরেও ভুলে থাকা সম্ভব হয় না। বলিউড ও টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনেও এমনই একটি অপূর্ণ স্বপ্ন আজও রয়ে গেছে নিজের শহর কলকাতায় একটি বাড়ি তৈরি করার স্বপ্ন।
‘ডিসকো ড্যান্সার’ খ্যাত মিঠুন চক্রবর্তী, কয়েক দশক ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। টলিউড ও বলিউড দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই তাঁর সমান সাফল্য। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় তিনি। বর্তমানে পরিবার নিয়ে মুম্বইয়ে নিজের বাড়িতে থাকলেও কাজের সূত্রে তাঁকে নিয়মিত কলকাতায় আসতে হয়। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্ক বহু পুরনো। শৈশব-কৈশোর কেটেছে নদীয়ায়, পরে উচ্চশিক্ষার জন্য এসেছিলেন কলকাতায়। অথচ এত দীর্ঘ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও আজও কলকাতায় তাঁর নিজের নামে কোনও বাড়ি নেই।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে মিঠুন চক্রবর্তী জানান, তিনি একবার নয়, দু-দুবার কলকাতায় বাড়ি করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই প্রতারণার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। অভিনেতার কথায়, “দু-দুবার বাড়ি করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে মানুষ। এখনও আট লাখ টাকা চিটিং করেছে। মামলা করেছি। পাঁচ-ছ’লাখ টাকা এখনও ফেরত পাইনি।” তাঁর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, মানুষের প্রতি বিশ্বাসও ভেঙে গিয়েছিল সেই সময়। বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার আর্থিক হিসাব আজও পুরোপুরি মেটেনি।
শুধু টাকা হারানোই নয়, আরও একটি অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। মিঠুন জানান, একবার জমি কেনার সমস্ত টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পর তাঁকে জানানো হয়েছিল যে সব কাগজপত্র ঠিক রয়েছে। কিন্তু বাড়ি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করতে গিয়ে প্রশাসনের কাছে জানতে পারেন, জমির নথিতে জাল সই ব্যবহার করা হয়েছে। অভিনেতার কথায়, সংশ্লিষ্ট আধিকারিক তাঁকে বলেন, “এটা কার সই? মালিককে নিয়ে আসুন, জেলে পুরব, জালিয়াতি করেছে।” অর্থাৎ তাঁকে সম্পূর্ণ ভুয়ো কাগজপত্র দেখিয়ে প্রতারণা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি মনে করতে শুরু করেন, হয়তো ভাগ্যই চান না যে তাঁর কলকাতায় নিজের বাড়ি হোক।
আরও পড়ুনঃ টলিউডের জ্যেষ্ঠ পুত্রের দরজায় স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে বৈঠকে হাজির অমিত শাহ, সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! কী নিয়ে চলল বিশেষ আলোচনা? সুপারস্টারের পদ্ম শিবিরে যোগদানের জল্পনা আরও জোরালো?
বারবার প্রতারণার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর কলকাতায় বাড়ি তৈরির ইচ্ছা কার্যত ছেড়েই দিয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী। এখন কাজের প্রয়োজনে শহরে এলে তিনি হোটেলে থাকেন, কখনও আবার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বাড়িতে আশ্রয় নেন। তবুও বাংলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা বা টান এতটুকুও কমেনি। বরং তিনি বারবারই বলেছেন, বাংলার মানুষই তাঁকে আজকের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু জীবনের এই একটি অপূর্ণ ইচ্ছা নিজের শহরে নিজের একটি বাড়ি আজও অধরাই রয়ে গেছে। খ্যাতি, সম্মান আর সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও এই না-পাওয়ার গল্পই যেন মনে করিয়ে দেয়, জীবনের সব স্বপ্ন অর্থ বা জনপ্রিয়তা দিয়ে পূরণ করা যায় না






