“ওঁর বিষয়ে বিশেষ কিছু জানি…” “খুবই মিশুকে ছিল, ওঁর সঙ্গে খুব একটা কাজ করিনি, একটাই ছবিতেই দেখেছি…” মিঠু মুখার্জির মৃ’ত্যুর খবরে ভেঙে পড়লেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়! কণ্ঠে ঝরে পড়ল আক্ষেপ, ‘মৌচাক’-এর সেই সহঅভিনেত্রীকে নিয়ে ঠিক কী বললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী?

টলিপাড়াকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পারি দিলেন মিঠু মুখার্জি, ৭১ বছর বয়সে প্রয়াত বাংলার স্বর্ণযুগের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন ধরে ক্যা*ন্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। অবশেষে রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী। তাঁর মৃ’ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে টলিউডে। বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও নিজের অভিনয়ের পরিচয় তৈরি করেছিলেন মিঠু। একসময় পর্দায় তাঁর উপস্থিতি দর্শকের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। তবে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও দর্শকের স্মৃতিতে আজও পরিচিত মুখ হয়েই ছিলেন তিনি।

মিঠু মুখার্জির প্রয়াণের খবর শুনে শোকপ্রকাশ করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। ‘মৌচাক’ ছবিতে মিঠুর সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি। সহঅভিনেত্রীর মৃ’ত্যুর খবর সাবিত্রী প্রথমে জানতে পারেন সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকেই। খবরটি শুনে প্রথমে তিনি কিছুটা চমকে যান, পরে নিজেকে সামলে মিঠুর কথা স্মরণ করেন। আজকাল ডট ইনকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সাবিত্রী জানান, মিঠুর সঙ্গে তাঁর খুব বেশি কাজের সুযোগ হয়নি, মাত্র একটি ছবিতেই তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। তবে সেই অল্প সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে মিঠুর অভিনয় এবং ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা ছিল। তিনি বলেন, ‘‘ওঁর সঙ্গে আমার বেশি কাজ করা হয়নি, একটি ছবিতেই একসঙ্গে ছিলাম।

তবে খুব ভাল অভিনয় করতেন, মানুষ হিসেবেও খুব ভাল ছিলেন। খুব মিশুকে স্বভাবের মেয়ে ছিলেন। ওঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অবশ্য বিশেষ কিছু জানি না, কিন্তু এমন খবর সত্যিই খুব খারাপ লাগছে।’’ মিঠুর মৃত্যুর খবর আগেই নিশ্চিত করেছিলেন প্রযোজক ও পরিচালক প্রবীর রায়। তাঁর কথায়, মিঠু একসময় মুম্বইয়ে থাকতেন, পরে কয়েক বছর আগে কলকাতায় ফিরে এসেছিলেন। তবে অভিনয় থেকে তিনি বহু বছর আগেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। প্রবীর রায় তাঁর পুরনো কাজগুলির কথাও স্মরণ করেন। তিনি জানান, মিঠু একসময় একের পর এক ভালো ছবিতে অভিনয় করেছিলেন এবং তাঁর সমসাময়িক বহু শিল্পীও ইতিমধ্যে চলে গিয়েছেন। সুমিত্রা এবং জয়শ্রীর নামও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রবীর রায় বলেন, ‘‘মুম্বইতে থাকার পর কয়েক বছর আগে কলকাতায় ফিরে এসেছিলেন মিঠু। অনেক বছর ধরেই কাজের বাইরে ছিলেন। অথচ একটা সময়ে কত ভাল ভাল কাজ করেছেন। তাঁর সময়ের অনেকেই আর নেই, সুমিত্রা, জয়শ্রী সকলেই চলে গিয়েছেন।’’ ১৯৫৫ সালের ১৯ জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন মিঠু মুখার্জি। ১৯৭১ সালে চিত্ত বসুর পরিচালনায় ‘শেষ পর্ব’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় তাঁর অভিনয়ের শুরু। এরপর ১৯৭৩ সালে দীনেন গুপ্ত পরিচালিত ‘মর্জিনা আবদুল্লাহ’ ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় করে দ্রুত পরিচিতি পান তিনি। সেই সাফল্যের পর ‘নিশিকন্যা’, ‘মৌচাক’ এবং ‘স্বয়ংসিদ্ধা’র মতো ছবিতে অভিনয় করেন মিঠু। ১৯৭৩ সালের ‘নিশিকন্যা’, ১৯৭৪ সালের ‘মৌচাক’ এবং ১৯৭৫ সালের ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ তাঁকে বাংলা ছবির পরিচিত মুখ করে তোলে। বিশেষ করে ‘মৌচাক’ এবং ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ ছবিতে রঞ্জিত মল্লিকের বিপরীতে তাঁর অভিনয় দর্শকের প্রশংসা পেয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ “ভীষণ দিলদরাজ আর বড় মনের মেয়ে ছিল, খেতে ও খাওয়াতে ভালবাসত, কিন্তু…” “একবার কালীপুজোয় মিঠুর বাড়ি গেছিলাম…ওর এইভাবে চলে যাওয়াটা…” হারালেন বহু পুরনো সহকর্মী ও বন্ধুকে, মিঠু মুখার্জির প্রয়াণে চোখে জল নিয়েই স্মৃতিচারণায় রত্না ঘোষাল! বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ভাগ করে নিলেন ‘মৌচাক’-এর অভিনেত্রীর জীবনের অনেক অজানা কথা?

বাংলা ছবির পাশাপাশি দুলাল গুহ পরিচালিত ‘খান দোস্ত’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রেও আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯০ সালে আবার পর্দায় ফিরেছিলেন মিঠু মুখার্জি। চন্দ্র বারোট পরিচালিত সফল ছবি ‘আশ্রিতা’ ছিল তাঁর শেষ পর্দার কাজ। এরপর আর কোনও ছবিতে দেখা যায়নি তাঁকে। অভিনয় থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে গিয়ে দীর্ঘদিন অনেকটাই অন্তরালে ছিলেন তিনি। তবু তাঁর অভিনীত চরিত্র এবং ছবিগুলি দর্শকের স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি। বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের এই পরিচিত অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর তাই অনুরাগী এবং বিনোদন জগতের বহু মানুষকে শোকাহত করেছে। একসময়ের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর প্রয়াণে সহকর্মী থেকে শুরু করে তাঁর দীর্ঘদিনের দর্শক, সকলেই ফিরে দেখছেন তাঁর অভিনয়জীবনের সেই পরিচিত অধ্যায়।

You cannot copy content of this page