“আজকের পৃথিবীতে সত্যি বলে কিছু নেই…আমি চিনি খাই না, তাই মিষ্টি কথাও বলি না” বাবা হয়ে নিজ স্বার্থে সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে ভিক্টিম কার্ড খেলছেন! ‘দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা’ চাওয়ার সমালোচনার মাঝেই কড়া জবাব পরমব্রতের!

আসন্ন ১২ জুন মুক্তি পেতে চলেছে নতুন ছবি ‘আবার হাওয়া বদল’। ছবির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee)রুদ্রনীল ঘোষের (Rudranil Ghosh) জুটি। তবে ছবি মুক্তির আগে দুই অভিনেতাকে একসঙ্গে প্রচারে না দেখা যাওয়ায় শুরু হয়েছে নানান জল্পনা। সম্প্রতি টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রুদ্রনীল ও পরমব্রত। সেই বৈঠকে পরিচালক ও প্রযোজক গিল্ডের প্রতিনিধির ভূমিকায় ছিলেন পরমব্রত। সেখানকার কিছু আলোচনা নাকি তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে। ফলে বর্তমানে তাঁরা আলাদা আলাদা ভাবে ছবির প্রচারে অংশ নিচ্ছেন বলেই গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

যদিও এই বিষয়ে দুই অভিনেতার কেউই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে এই আলোচনার মাঝেই বেশি চর্চায় উঠে এসেছে বৈঠকে পরমব্রতের কিছু বক্তব্য। সেখানে তিনি নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। অভিনেতার দাবি, তিনি রাজনীতির মানুষ নন। ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা থেকেই একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণে একসময় তাঁকে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছিল। দীর্ঘ সময় হাতে কাজ ছিল না বলেও জানান তিনি। সেই কঠিন সময়েই তাঁর জীবনে আসে নতুন দায়িত্ব।

Abar Hawa Bodol

অভিনেতার কথায়, সংসার ও পরিবারের কথা ভেবেই তাঁকে পরে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করতে হয়েছিল। এই মন্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয় সমালোচনা। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাঁর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ ২০২১ সালের প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং দাবি করেন, সেই সময় তাঁর সন্তানের জন্ম হয়নি। তাই তিনি কাদের কথা ভেবে ক্ষমা চেয়েছিলেন, সেই প্রশ্নও উঠতে থাকে। পাশাপাশি অতীতের একটি বিতর্কিত সামাজিক মাধ্যম পোস্ট নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, সেই পোস্টে তিনি বিজেপির পরাজয় এবং তৃণমূলের জয়ের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন।

সমালোচকদের একাংশের দাবি, ভোট-পরবর্তী অশান্তির সময় ওই ধরনের পোস্টকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ফলে বর্তমানে তাঁর অবস্থান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ছবির প্রচারে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন পরমব্রত। সেখানে তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়, সদ্যোজাত সন্তানকে সামনে এনে তিনি কি সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন? উত্তরে অভিনেতা বলেন, “আমি চিরকাল ঈশ্বরে বিশ্বাসী, তবে গত দু-তিন বছরে সেটার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে শুরু করেছে। আমি মনে করি প্রত্যেকটা মানুষের নিজ নিজ ধর্মের ঈশ্বরকে ডাকার ধরন আলাদা হলেও অধিকার সমান হওয়া উচিত।

আমার রাজনৈতিক অবস্থান, ঈশ্বরে বিশ্বাস বা ধর্ম নিয়ে চিন্তাধারায় কোনও পরিবর্তনই আসেনি। তবে বাবা হওয়ার পর এগুলো আরও তীব্র হয়েছে। আমি আরো মাটির কাছাকাছি এসেছি, জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন এসেছে।” এরপর সমালোচনার জবাবে পরমব্রত আরও বলেন, “আজকের পৃথিবীতে সত্যি বলে কিছু নেই। সত্যিটা শোনার সময় বা দেখার মতো ইচ্ছে কারোর নেই। মানুষ হিমবাহের চূড়া দেখে সম্পূর্ণটা বিচার করে এবং নিজের ধারণাটাকে সর্বসম্মুখে আনার তাড়ায় থাকে। এই পরিস্থিতিতে যদি আমি তাকে বোঝাতে চাই কোনটা কি পরিপ্রেক্ষিতে বলা, সেটা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুনঃ পাপিয়ার সিদ্ধান্তে ভাঙতে চলেছে আর্টিস্ট ফোরামও! তিন মাস পেরিয়েও মেলেনি উত্তর, ফোরামের বিলুপ্তি ঘটলে কি কিনারা হবে না রাহুলের মৃ’ত্যুরহস্যের? মুখ খুললেন, সহকারী সম্পাদক দেবদূত ঘোষ! কী জানালেন তিনি?

তাই লোকে যা ভাবছে ভাবুক, তারা যদি মনে করে ভিক্টিম কার্ড খেলেছি তো তাই ঠিক। তবে যারা আমার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারগুলো শুনেছেন, তারা জানেন আমি কোন সময় ঠিক কতটা লড়াই করেছি, কতটা অত্যাচারিত হয়েছি। সেই লোকের সংখ্যা হয়তো কম হবে, তবে একটা সময়ের পর আর কাউকেই উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই আবারো বলছি, অত্যাচারিত হয়ে দাঁতে দাঁত চিপে সন্তানের দিকে তাকিয়েই ক্ষমা চেয়েছি! আমি চা-কফিতে চিনি খাই না, তাই সুগার-কোট করে কথাও বলতে পারি না।” অভিনেতার এই বক্তব্য ঘিরে এখনও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, আর তার মধ্যেই মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘আবার হাওয়া বদল’, সেখানেও তিনি দায়িত্ববান পিতা!

You cannot copy content of this page