বিনোদন জগতের অভিনেতা–অভিনেত্রীরা যখন তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রেম বা জীবনের অজানা অধ্যায় নিয়ে মুখ খোলেন, তখন তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আলাদা কৌতূহল তৈরি করে। পর্দার বাইরের এই অনুভূতির গল্পগুলো অনেক সময় দর্শকদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে নিতে সাহায্য করে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ শিল্পীদের মুখে শোনা শৈশব বা কৈশোরের স্মৃতি যেন আরও বেশি আবেগ ছুঁয়ে যায়। সেই তালিকাতেই এবার নিজের প্রথম প্রেমভাবের কথা অকপটে ভাগ করে নিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের অন্যতম ভরসাযোগ্য নাম পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। হাস্যরস হোক বা আবেগঘন চরিত্র—সবেতেই সমান সাবলীল তিনি। বয়স কখনও তাঁর কাজের গতি কমাতে পারেনি। আজও একের পর এক ছবিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের কাছেও অনুপ্রেরণা। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্ব, জীবনদর্শনও বরাবরই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ছোটবেলার এক অজানা অনুভূতির কথা তুলে ধরেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, কিশোর বয়সে তাঁর এক বান্ধবীর সঙ্গে খেলাধুলো করতে করতেই মনের মধ্যে এক আলাদা ভাবের জন্ম হয়। তখন অবশ্য ‘প্রেম’ শব্দটির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল না, কিন্তু অনুভূতিটা যে আলাদা—সেটা বুঝতে পারতেন অভিনেতা।
অভিনেতার কথায়, সেই বান্ধবী যদি কোনও দিন খেলতে না আসত, ছোট্ট পরান খুব রেগে যেতেন। মনে মনে তাকে বকুনিও দিতেন। কেন সে আসেনি, তা না জেনেই ধরে নিতেন হয়তো শরীর খারাপ করেছে। এমনকি ভাবতেন, উল্টোপালটা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সেই অভিমান, সেই দুশ্চিন্তাই আজ ফিরে তাকিয়ে বুঝতে সাহায্য করেছে—ওটাই ছিল আদলে অভিনেতার প্রথম প্রেমভাব।
আরও পড়ুনঃ “নিখুঁত শুধু প্রকৃতি, আমরা জন্ম থেকেই দিশাহারা…ভুল পথে হাঁটতেই থাকি!” ভাঙন আর ভুলেই গড়া মানুষ! বিতর্কের পর নীরবতা ভেঙে সায়ক সমাজ মাধ্যমে ফিরতেই, সব্যসাচীর আবেগী পোস্ট! দাদার লেখায় কি ভাইয়ের প্রতি নীরব সমর্থন?
সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেই স্বীকার করেন, সময়ের সঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড় হতে হতে তিনি বুঝেছেন, শৈশবের সেই একসঙ্গে খেলা করা বান্ধবীর প্রতিই বোধহয় অজান্তেই প্রেম করে ফেলেছিলেন। সহজ, নির্ভেজাল এই স্মৃতিচারণ যেন প্রমাণ করে—প্রেমের অনুভূতি বয়স বা সংজ্ঞার ধার ধারে না, সে নিঃশব্দে এসেই হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।






