কয়েকদিন আগের ঘটনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘সায়ক চক্রবর্তী’কে (Sayak Chakraborty) ঘিরে যে ঝড় উঠেছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি পুরোপুরি। পার্ক স্ট্রিটের রেস্তোরাঁয় খাবার অর্ডার নিয়ে গণ্ডগোল, তারপর সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি ভিডিও মিলিয়ে বিষয়টি দ্রুতই বড় আকার নেয়। ধর্মীয় পরিচয় টেনে মন্তব্য করার কারণে তিনি প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন। অনেকে প্রশ্ন তোলেন তাঁর বক্তব্যের ধরণ নিয়ে, কেউ কেউ আবার সরাসরি অভিযোগ করেন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ানোর। বিতর্ক বাড়তেই সায়ক হঠাৎ করেই নিজেকে সামাজিক মাধ্যম থেকে সরিয়ে নেন।
সেই বিরতির পর গতকাল সায়ক চক্রবর্তী যখন আবার সমাজ মাধ্যমে ফিরলেন, তাঁর পোস্টে ছিল অদ্ভুত নীরবতা! না কোনও বক্তব্য, না ব্যাখ্যা, শুধু প্রকৃতির ছবি। প্রজাপতি, কাঠবিড়ালি, জলের উপর শাপলা, আকাশে চাঁদের মতো কিছু দৃশ্য যেন শব্দহীন এক মানসিক অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। যিনি সাধারণত কথা বলতে ভালোবাসেন, তাঁর এই চুপ করে থাকা অনেকের নজর কেড়েছে। এই নীরবতার কিছুক্ষণের মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তাঁর দাদা, সাংবাদিক সব্যসাচী চক্রবর্তী।
তিনি নিজের প্রোফাইলে লেখক রণজিৎ দাশ-এর কবিতার ছবি ভাগ করে নেন। সেখানের কয়েকটি লাইন ছিল, “আমরা নি’খুঁত নই, কিন্তু আমরা জন্ম থেকেই প’ঙ্গু, বে’ঢপ, মূ’র্খ এবং দি’শাহারা। আমরা ধূ’র্ত, জা’লিয়াত, ভ’ঙ্গুর, ভি’খারি…আমাদের ভু’লগুলি কি মা’রাত্ম’ক নি’খুঁত!” লেখাটিতে মানুষের অপূর্ণতা, ভুল, ভাঙন আর আত্মবোধের কথা বলা হয়েছে। যেখানে প্রকৃতিকে ‘নিখুঁত’ বলা হলেও মানুষকে বলা হয়েছে দিশাহারা, ভুলে ভরা! সরাসরি কিছু না বলেও এই পোস্ট যেন ভেতরের এক মানসিক টানাপোড়েনের প্রতিফলন, এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
প্রসঙ্গত, পোস্টটি নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়ে যখন কেউ একজন কমেন্টে সায়ক এবং তার খোঁজ নিলে, সব্যসাচী উত্তর দেন, “আমার দু’জনেই ভালো থাকার চেষ্টা করছি।” সংক্ষিপ্ত হলেও এই বাক্যে ছিল ক্লান্তি, ছিল লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। ভাইয়ের বিতর্কে সরাসরি জড়াতে চাননি তিনি, এই কথা আগেই জানিয়েছিলেন। তবু এই লেখাটি শেয়ার করা অনেকের কাছেই অন্যরকম বার্তা বহন করছে। যেখানে সমালোচনা নয়, বরং মানসিক পাশে থাকার এক নিঃশব্দ ভঙ্গি। উল্লেখ্য, সায়ককে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা ছিল তীব্র।
আরও পড়ুনঃ “অভিনেতার ‘অহংকার’ জিনিসটা থাকা দরকার, নিজেকে সহজলভ্য ভাবলে হবে না!” “জনতাকে শুধু সম্মান করো, ইন্ডাস্ট্রিতে অসম্মানের যোগ্য লোকের অভাব নেই!” নতুন প্রজন্মকে পরামর্শ, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সুদীপা বসুর! মন্তব্যে পরোক্ষভাবে খোঁচা দিলেন কাদের?
রেস্তোরাঁয় ভুল বোঝাবুঝি থেকে শুরু করে ধর্মীয় সংবেদনশীলতার জায়গায় পৌঁছে যায়। সেই ঘটনার পরই তিনি নিয়মিত ভ্লগ, ব্র্যান্ড প্রমোশন, বন্ধ করে দেন। এই প্রেক্ষাপটে দাদার পোস্টটাই যেন বেশি অর্থবহ হয়ে উঠছে। তিনি বরাবরই ভাইকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন, আবার প্রয়োজনে পাশে থেকেছেনও। এবারও সরাসরি কিছু না বললেও, তাঁর শেয়ার করা লেখাটি যেন মনে করিয়ে দিল, মানুষ ভুল করে, তবু সম্পর্কের জায়গা থেকে কেউ কেউ পাশে থাকেন পাহাড়ের মতো। ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট না হলেও বার্তাটা ছিল ব্যক্তিগত, গভীর এবং নিঃশব্দ সমর্থনের।






