টলিপাড়ায় চাঞ্চল্য! প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উঠল চু’রির অভিযোগ! ‘বিবেকের কাছে একবারও মনে হল না?’ খোলা চিঠিতে বি’স্ফোরক পরিচালক সুমন ঘোষ! ঠিক কী ঘটেছে?

টলিউডের অন্যতম পরিচিত পরিচালক সুমন ঘোষ হঠাৎই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন। ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘কাদম্বরী’, ‘বসু পরিবার’ এবং ‘নোবেল চোর’-এর মতো প্রশংসিত ছবির নির্মাতা সরাসরি অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলেছেন। যদিও অভিযোগটি কোনও আইনি বিষয় নিয়ে নয়, বরং দীর্ঘদিনের সৃজনশীল ভাবনা ও বিশ্বাসকে ঘিরে। নিজের বক্তব্যে সুমন জানান, গত আড়াই বছর ধরে তিনি একটি বিশেষ চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছিলেন। সেই প্রকল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে প্রথম থেকেই তিনি প্রসেনজিৎকে ভেবেছিলেন। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অভিমান’-এর প্রচার সামগ্রী দেখার পরই তাঁর মনে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এরপরই তিনি নিজের অভিমান প্রকাশ্যে আনেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা চিঠির শুরুতেই সুমন লেখেন, “প্রিয় বুম্বাদা, অত্যন্ত ভারী মন নিয়ে তোমায় এই চিঠি লিখছি। শিল্পের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে এমন কিছু প্রশ্ন বুকে চেপে বসেছে, যা আমার মতো একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে বিচলিত করছে। সৃজনশীলতা বা শিল্পের মূল ভিত্তি কী? শুধুই একটা চূড়ান্ত সৃষ্টি, নাকি সেই সৃষ্টি তৈরি হওয়ার পেছনের পারস্পরিক বিশ্বাস, সততা ও নৈতিকতা?” এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই তিনি নিজের হতাশা ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরেছেন। পরিচালকের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তাঁর পরিকল্পিত ছবি ‘স্টার’ নিয়ে প্রসেনজিতের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছিলেন। শুধু গল্প নয়, চরিত্রের বিভিন্ন স্তর, তার চেহারা, মানসিক অবস্থা এবং উপস্থাপনা নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছিল তাঁদের মধ্যে।

সুমনের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘অভিমান’-এর টিজার ও ট্রেলার প্রকাশ্যে আসার পর তিনি তাঁর নিজের পরিকল্পিত চরিত্রের সঙ্গে একাধিক মিল খুঁজে পান। তাঁর দাবি, দু’টি গল্প এক নয়, কিন্তু কেন্দ্রীয় চরিত্রের নির্মাণে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, একজন সুপারস্টারের জীবনের দুই ভিন্ন সময়কে দেখানো, তার হঠাৎ জনসমক্ষে থেকে হারিয়ে যাওয়া, ভগ্নপ্রায় ও নির্জন পরিবেশে বসবাস, শারীরিক ও মানসিক ভেঙে পড়ার চিত্র, নিজের অতীত পরিচয়ের প্রতীক ধ্বংস করা এবং একজন বিশ্বস্ত ম্যানেজারের উপস্থিতি, এই সব বিষয় তাঁর পরিকল্পিত চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তাই এই মিলগুলো দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর মতে, বিষয়টি কেবল কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।

তবে পরিচালক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ছবির নির্মাতা বা অন্য কারও বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত অভিযোগ নেই। তাঁর বক্তব্য মূলত প্রসেনজিতের প্রতি। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে নিজের ভাবনা একজন অভিনেতার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পর অন্তত বিষয়টি তাঁকে জানানো উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। সেই কারণেই চিঠিতে তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেছেন, “যদি ধরেও নিই এগুলো কেবলই ‘coincidence’ বা কাকতালীয়, তবুও তোমার তো ‘Star’-এর স্ক্রিপ্টটি প্রায় মুখস্থ ছিল। বিবেকের কাছে একবারও কি মনে হলো না যে আমাকে অন্তত জানানো উচিত ছিল?” এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই তিনি শিল্পীসুলভ সততা এবং পারস্পরিক সম্মানের বিষয়টি সামনে আনতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, নতুন নির্মাতাদের জন্য এই ধরনের ঘটনা হতাশাজনক হতে পারে।

সুমন আরও জানিয়েছেন, তিনি এখনও ‘অভিমান’ ছবিটি দেখেননি। তাই তিনি দর্শকদেরই বিষয়টি বিচার করার অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যদি তাঁর ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত। কিন্তু যদি তাঁর অভিযোগের মধ্যে সত্যতা থাকে, তাহলে তাঁর নিজের পরিকল্পিত ছবিটি আর তৈরি করা সম্ভব হবে না। কারণ দর্শকদের কাছে সেটি নতুন বলে মনে হবে না। এই কারণেই তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁর মতে, এটি কপিরাইটের প্রশ্নের চেয়ে বেশি বিশ্বাস এবং পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ “রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করে টাকা নিয়ে আয়…” মাত্র ৪ বছরের নাতনিকে চরম ‘শাস্তি’ দিয়েছিলেন রত্না চট্টোপাধ্যায়ের! বহু বছরের পুরনো ক্ষ’ত আজও দগ’দগে! মায়ের বিরুদ্ধে বি’স্ফোরক অভিযোগে চোখ ভিজল, প্রসেনজিতের বোন পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের!

চিঠির শেষ অংশে সুমন ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণ শিল্পীদের উদাহরণ টেনে প্রসেনজিতের প্রতি নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “এই ইন্ডাস্ট্রির বহু নামী এবং কিংবদন্তি শিল্পীর সাথে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে, যেমন সৌমিত্রকাকু, মিঠুনদা, শর্মিলা ঠাকুর বা অপর্ণা সেন। এঁদের কাছ থেকে প্রফেশনাল এথিক্স শেখা উচিৎ। এঁদের কারও কাছ থেকে এমন আচরণ অবিশ্বাস্য। তাই তোমার মতো একজন সিনিয়র অভিনেতার কাছ থেকে এই চরম অসৌজন্যমূলক উপেক্ষা এবং অনৈতিক আচরণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক।” এই বক্তব্য সামনে আসার পর থেকেই টলিউডে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এই অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।

You cannot copy content of this page