“শিল্পীদের দাঁড় করালেই ভোট আসে না, প্রমাণিত হলো!” “১৫ বছর আগে রাজ্য এমন ছিল না, মমতাকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু…” হারের পর দলকেই খোঁচা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের?

বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর নতুন করে চর্চায় উঠে এল অভিনেত্রী তথা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য। ভোটের আগে তৃণমূলের হয়ে একাধিক সভা ও প্রচারে তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা গিয়েছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ভোটেও দলের হয়ে প্রচারে অংশ নেন তিনি। কিন্তু ফল প্রকাশের পর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রচনা বেশ খোলামেলা সুরে কথা বলেন। সেখানে তিনি দলের প্রচার কৌশল, শিল্পীদের ভূমিকা এবং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নিয়ে স্পষ্ট মত জানান। তাঁর বক্তব্য সামনে আসতেই তা নিয়ে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে রচনা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি শ্রদ্ধা করতাম, আজও করি ভবিষ্যতেও করব।” তিনি জানান, দলনেত্রীর ডাকে অনেক শিল্পীই প্রচারে গিয়েছিলেন এবং সেই আহ্বান এড়িয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। তাঁর কথায়, “উনি ডাকলে শিল্পীরা না বলতে পারতেন না।” তবে এখানেই তিনি ভোটের ফল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন। রচনার মতে, শুধু তারকাদের সামনে আনলেই ভোট নিশ্চিত হবে, এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কিন্তু যেটা ভুল হয়ে গেল সেটা হল শিল্পীদের দাঁড় করালেই যে ভোটটা আসবে, এই চিন্তা ভাবনাটা ভুল হয়ে গেল।”

রচনা আরও বলেন, মানুষের ভোটের সিদ্ধান্তে শুধুমাত্র তারকাখ্যাতি কাজ করে না। তিনি মনে করেন, ভোটাররা নিজেদের মতো করে বিচার করেন এবং বাস্তব পরিস্থিতি দেখে মত দেন। সেই কারণেই প্রচারে বহু পরিচিত মুখ থাকলেও প্রত্যাশিত ফল আসেনি। তাঁর মন্তব্য, “শিল্পীরা আসলেই ভোট বাক্সে ভোট পড়ে না, সেটা প্রমাণিত হয়ে গেল।” এই বক্তব্যকে অনেকেই নির্বাচনী ফলাফলের পর আত্মসমালোচনা হিসেবেই দেখছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে তারকাদের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। কিন্তু রচনার মতে, শুধুমাত্র জনপ্রিয় মুখ সামনে এনে মানুষের মন জয় করা যায় না।

এদিকে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নিয়েও রচনা সরব হন। তিনি জানান, গত কয়েক বছরে ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতির প্রভাব বেড়ে গিয়েছিল বলে অনেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন। বিভিন্ন শিল্পীর মুখে আগেও এমন অভিযোগ শোনা গিয়েছে যে, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতের সঙ্গে না থাকলে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হত। এমনকি কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, শুধুমাত্র তৃণমূলের হয়ে কথা না বলায় কিছু শিল্পীকে কাজ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। রচনা জানান, অতীতে পরিস্থিতি এমন ছিল না। তাঁর মতে, বিনোদন জগতের কাজের পরিবেশ একসময় অনেক বেশি স্বাভাবিক ও পেশাদার ছিল।

আরও পড়ুনঃ “দিদিকে বলব, আমি তোকে বুঝে নিচ্ছি” মমতা জমানায় ঔ’দ্ধত্য দিগন্ত বাগচীর! অভিনেতার বিরুদ্ধে হুম’কির অভিযোগ, সরব পারমিতা মুন্সী! ক্ষমতার জোরে কেন চুপ করাতে চেয়েছিলেন? পরিচালক মুখ খুলতেই, ফের অভিনেতার ‘দাদাগিরি’র অভিযোগে তোলপাড় টলিপাড়া!

পুরনো দিনের কথা তুলে তিনি বলেন, “১৫ বছর আগে কোন রাজনৈতিক দল এসে ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রি চালাতে না।” তখন সবাই নিজেদের মতো কাজ করতেন বলেও জানান তিনি। রচনার কথায়, “আমরা নিজেদের মতো কাজ করেছি। ফোরাম, ইম্পার প্রেসিডেন্ট কাজ করত।” তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিভাগের আলাদা সংগঠন ছিল এবং দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্দেশ মেনেই কাজ চলত। তাঁর বক্তব্য, “সব ফিল্ডের আলাদা আলাদা ফোরাম ছিল, তাদের হেড যিনি থাকতেন, তাঁর কথা অনুযায়ী কাজ করত সকলে।” শেষে তিনি যোগ করেন, “এত অশান্ত পরিবেশ আগে ছিল না। খুব শান্তিতে আমরা কাজ করছিলাম। কিন্তু বিগত কিছু বছরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেটা মেনে নিতে পারেনি অনেকেই।”

You cannot copy content of this page