“যুব সমাজের ক্ষমতায়ন, শিল্প-সংস্কৃতি এবং শিক্ষা…কেউ কথা রাখেননি, দিদি রেখেছে!” একদিকে ১০হাজার কোটি লোক, অন্যদিকে বিরোধী! দিদিই জিতবে, সিঙ্গুর মঞ্চ থেকে দাবি রচনা ব্যানার্জির! সভাস্থলেই জনতার তোপে বিদ্ধ অভিনেত্রী?

বিনোদন জগতে দীর্ঘকালের খ্যাতির পর বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে তথা মমতা ব্যানার্জি হাত ধরে রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় হয়েছেন রচনা ব্যানার্জি। বড়পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে তিনি সবসময়ই দর্শকের মন জয় করেছেন, এবার সেই সমর্থনকে রাজনীতির পথে কাজে লাগাতে চাইছেন। সিঙ্গুরে ২৮ তারিখের সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিনোদন এবং সমাজসেবা একে অপরের পরিপূরক। এখানে তিনি সরাসরি রাজনীতির মঞ্চে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং এলাকার মানুষদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছেন।

সভায় রচনা ব্যানার্জি সরাসরি এবং খোলাখুলি ভাষায় বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দিদি একমাত্র কথা রেখেছেন, আর কেউ রাখেননি।” এছাড়া এলাকার উন্নয়ন, শিল্প-সংস্কৃতি এবং শিক্ষার প্রসঙ্গে নানা বিষয় তুলে ধরেন। শিল্পের গুরুত্ব, যুব সমাজের ক্ষমতায়ন এবং নারীদের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, রাজনীতিতে তার সঙ্গেই থাকবে মানুষের কল্যাণ। এবং তিনি জানিয়েছেন “মানুষের ভালোবাসা আর বিশ্বাসে, দিদি আবারও আসবে”।

সভায় রচনা ব্যানার্জি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “দিদির প্রতি আমার শ্রদ্ধা শতভাগ আছে।” তিনি বলেন, যত দিন যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের দল ততটাই শক্তিশালী হচ্ছে। সভায় যে মানুষগুলো উপস্থিত হয়েছেন, যদি তারা নিজেদের ভোট তৃণমূল কংগ্রেসকে দেয়, তাহলে শুধুই হুগলিতে নয়, সারা বাংলাতেই আবার তৃণমূল জয় লাভ করবে। একদিকে দশ হাজার কোটি মানুষের বিশ্বাস, অন্যদিকে বিজেপি সরকার — এই দুই দিক নিয়ে লড়াই শুরু হবে এখন থেকেই।

রচনা ব্যানার্জি কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ইডি ও সিবিআইকে নিয়ে মন্তব্য করেন এবং বলেন, “এই ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।” সভায় তিনি কেন্দ্রের নীতিমালার বিরোধিতা করেন এবং ভোটের গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি দর্শকদের মনে করান যে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ “এক নেপালি মেয়ে আমাকে এমন তাড়া করল…” ভুল ধারণা থেকে বড় বিপদ! আচমকা কী ঘটেছিল যে ভয়ানক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল রোহান ভট্টাচার্যকে? অভিনেতার জানালেন, সেই তরুণীর সঙ্গে স্মরণীয় অভিজ্ঞতার কথা!

তবে এই সভায় সবকিছু মসৃণ হয়নি। অনেক দর্শক রচনার দিকে কটাক্ষ করেছেন। কেউ বলেছেন, “জঘন্য আপনি, এই সরকার এবং চোরেদের হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন, মানে আপনিও একজন চোর।” কেউ বলেন, “শুধু ধর্ম নিয়ে কথা বলছেন, শিল্প নিয়ে কিছু বলুন।” এমন মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, চোরেদের উপর আবারও বিশ্বাস রাখা উচিত নয়। এই প্রতিক্রিয়ার মধ্যেও রচনা ব্যানার্জি নিজের বক্তব্যে দৃঢ় রয়েছেন।

You cannot copy content of this page