টলিউডের এক জনপ্রিয় অভিনেতার অকাল মৃ’ত্যু যেন পুরো বিনোদন জগতকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার সীমান্তবর্তী তালসারি সৈকতে, ম্যাজিক মোমেন্টস্ প্রযোজনা সংস্থার ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-এর শুটিংয়ের সময় ‘রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Rahul Arunoday Banerjee) আচমকাই ডুবে যান। তিনি ছিলেন জীবনের ভোরে, কেরিয়ার উজ্জ্বল সময়ে। ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা কোনো কাজে আসেনি। এই আকস্মিক ঘটনা শুধুমাত্র পরিবার নয়, সহকর্মী, ভক্ত এবং পুরো শিল্পজগৎকে শোকের সাগরে ডুবিয়েছে।
এই মৃ’ত্যু শুধুই শোকের নয়, অনেক প্রশ্নও তৈরি করেছে। কীভাবে এমন এক নিরাপত্তাহীন পরিবেশে শুটিং চলছিল, দায়িত্ব কোথায়, এবং কারা এই ঘটনায় দায়ী, এসব নিয়েই এখন আলোচনার ঘূর্ণি। সেই আলোচনার মাঝেই সামাজিক মাধ্যমে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় প্রযোজক রানা সরকার (Rana Sarkar)। তিনি লিখেছেন, “লীনা গাঙ্গুলি ও তার প্রোডাকশনের কর্মীরা যে মিথ্যে কথা বলেছেন সেগুলো তো প্রমাণ হয়ে যাবে। আমার জানা নেই এই মিথ্যে কথা বলার শাস্তি কী বা কে দেবে।”
রানা সরকারের কথায় স্পষ্ট, শুধুই এফআইয়ার করলেই কাজ শেষ হবে না। তিনি জানিয়েছেন, “এফআইআর করলে রাহুলের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে, ঠিক ভুল সব জানা যাবে। কিন্তু যারা মিথ্যে কথা বলে সবাইকে বিভ্রান্ত করলো তাদের শাস্তি কিভাবে হবে? নাকি তারা এই মিথ্যে দিয়েই বেঁচে যাবে?” এই প্রশ্ন যেন সবার মনের ভেতর ধরাশায়ী হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, “ড্রোন ফুটেজ এখনো পাওয়া যায়নি, শুটিং স্ক্রিপ্ট পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, আরো অনেক কিছু তথ্য জানা যাচ্ছে যেটায় বোঝা যায় ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে।”
প্রযোজনা সংস্থার দোষ কিংবা উদাসীনতা কেবল একটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। “যে প্রোডাকশন ম্যানেজার গাফিলতিতে একজনের মৃ’ত্যু ঘটলো তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে ফেডারেশন? তার পদ্ধতিই বা কী? পুলিশ-এর কাছে এফআইআর করা ছাড়াও অনেক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আছে। আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশনকে অনুরোধ করবো এই বিষয়ে দৃষ্টি দিতে। আজ বিকেলে পদযাত্রায় এই দাবি উঠুক…” রানা সরকারের এই বক্তব্য শুধু অভিযোগ নয়, বরং একটি ন্যায়ের ডাক, যেন শিল্পজগত এবং কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ তুলে ধরার চেষ্টাও।
আরও পড়ুনঃ “খুব ভালো অভিনেতা ছিল…’পিয়া রে’ গানটা শুনলেই ওর কথা মনে পড়ছে” মৃ’ত্যুর পরে প্রথম ছবির নায়কের ভূয়সী প্রশংসায় রাজ চক্রবর্তী! “রাহুল না সব বলে গেছে, তাই চুপ থাকুন!” “একটা নোং’রা ছেলের কথা আপনার মনে পড়ছিল? স্ট্রেঞ্জ!” বেঁচে থাকতে বদনাম ও এখন সুনাম, পরিচালকের দ্বিচারিতায় নেটপাড়ায় সমালোচনা!
উল্লেখ্য, এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভালো যে প্রযোজনা সংস্থা জলে শুটিং এর কথা অস্বীকার করলেও সংবাদ মাধ্যম করতে জানা গিয়েছিল ধারাবাহিকেও জলে ডুবে নায়েকের মৃ’ত্যুর চিত্রনাট্য লেখা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী শুটিং করতে গিয়েই কি এই পরিণতি? সেই প্রমাণ মুহূর্তেই কি পুড়িয়ে দেওয়া হলো ক্রিপ্ট? সবচেয়ে বড় কথা, এই ঘটনাটা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, শিল্পীর জীবন কখনও তুচ্ছ নয়। নিরাপত্তা, মর্যাদা, দায়িত্ব, এই তিনটি শব্দ এখন যেন নতুন অর্থ পেয়ে গেছে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু শুধু শোক নয়, সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করুক এটাই আশা।






