“দেবের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত রাজনীতি চলছে”, “বনিকে হিরো বানাতে হল মালিকদের হু’মকি দিচ্ছেন মা” ইম্পা বৈঠকের পর, পিয়া সেনগুপ্তকে নিশা’না করে সমাজ মাধ্যমে একাধিক বি’স্ফোরক পোস্ট রাণা সরকারের! টলিপাড়ায় নতুন করে শুরু বিতর্ক!

টলিপাড়ায় (Tollywood Controversy) আবারও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কয়েক দিন আগে স্ক্রিনিং কমিটির ভেতরের কিছু ঘটনা বাইরে আসতেই দেবকে (Dev) ঘিরে আলোচনার ঝড় ওঠে। সেই সময়ই শোনা গিয়েছিল ছবি মুক্তির বার্ষিক ক্যালেন্ডার নিয়ে বৈঠকের মধ্যে নাকি দেবের সঙ্গে অভিনেতা প্রসেনজিতের তর্কাতর্কি হয়, এমনকি কথাবার্তা নিয়ে অপমানের অভিযোগও ওঠে। তখন দেবের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন প্রযোজক রাণা সরকার (Rana Sarkar)। সেই পুরনো বিতর্কের আবহই যেন আবার ফিরিয়ে আনলেন তিনি নতুন একটি পোস্টে।

এইবার তাঁর নিশানায় সরাসরি ইম্পা সম্পাদক পিয়া সেনগুপ্ত। রাণা তাঁর পোস্টে ইঙ্গিত করেন, স্ক্রিনিং কমিটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও পিয়ার কিছু সিদ্ধান্ত নাকি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল। এমনকি তিনি প্রশ্ন তোলেন, কমিটির ভেতরের নানান বিষয় বাইরে ফাঁস হয়ে যাওয়ার দায় কার। পাশাপাশি আরও অভিযোগ তোলেন যে নিজের ছেলে বনি সেনগুপ্তর ছবি হলগুলোতে চালানোর জন্য নাকি চাপ দেওয়া হয়েছে। এইসব বিষয় প্রকাশ্যে বলা উচিত কি না, না কি চুপ করে থাকা উচিত? এই প্রশ্ন তুলেই মূলত তিনি সেই পোস্ট করেন।

প্রসঙ্গত, এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক বৈঠকের ঘটনাও। ছবি মুক্তির ক্যালেন্ডার তৈরি করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা ঠিকমতো কার্যকর হয়নি বলে হল মালিকদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই ইম্পার অফিসে একটি বৈঠক ডাকা হয়, যেখানে পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস-সহ প্রযোজক এবং পরিবেশকরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই রাণার পুরনো একটি ফেসবুক পোস্টের প্রসঙ্গ ওঠে। পিয়া সেই পোস্টের সমালোচনা করে বলেন, যখন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষ কাজের অভাবে সমস্যায় আছেন, তখন এমন মন্তব্য করা দায়িত্বজ্ঞানহীন।

সভায় উপস্থিত অনেকেই নাকি সেই পোস্টের নিন্দাও করেন। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই আবার নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে সরব হন রাণা। প্রথম পোস্টে বনিকে খোঁচার পর, দ্বিতীয় পোস্টে তিনি সরাসরি দাবি করেন, গোটা পরিস্থিতির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। তাঁর মতে, রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রাইম টাইমে অন্তত একটি বাংলা সিনেমার শো চালানোর কথা বলা হলেও কিছু হল মালিক সেটি মানতে চাইছেন না। তাঁর প্রশ্ন, একটি বাংলা ছবির শো না চললে কি সত্যিই পুরো হল বন্ধ করে দিতে হয়? অন্য ভাষার ছবিগুলো কি তখন চলছে না?

আরও পড়ুনঃ “কয়েকটা গা’লাগাল না এলে মনটা খারাপ লাগে, আনন্দই পাই না” ট্রো’লারদের অপেক্ষায় থাকেন গায়ক! কে কে বিতর্ক থেকে আজও, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার কটাক্ষে প্রতিক্রিয়া রূপঙ্কর বাগচীর!

তিনি আরও দাবি করেন, যেসব হল বন্ধ থাকার কথা বলা হচ্ছে তার মধ্যে কয়েকটিতে নাকি সংস্কারের কাজও চলছে। রাণার বক্তব্য অনুযায়ী, আসল সমস্যা অন্য জায়গায়। সামনে কয়েকটি বড় বাজেটের হিন্দি ছবির মুক্তি রয়েছে, আর সেই কারণেই বাংলা ছবির জন্য নির্দিষ্ট শো দিতে অনীহা তৈরি হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি আরও ইঙ্গিত করেন, দেবের ছবিগুলো যাতে স্বাধীনতা দিবস, দুর্গাপুজো বা বড়দিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মুক্তি না পায়, সেই লক্ষ্যেই নাকি চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, এটি শুধু একজন অভিনেতার বিরুদ্ধে নয়, বরং বাংলা সিনেমা ও সরকারের নির্দেশের বিরুদ্ধেও এক ধরনের রাজনৈতিক খেলা হতে পারে।

You cannot copy content of this page