গত রবিবার আনন্দপুরের ওয়াও মোমো (Wow Momo) কারখানায় যে ভয়াবহ অ’গ্নিকাণ্ড ঘটে, তার রেশ এখনও কাটেনি। প্রায় দু’দিন পেরিয়ে গেলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে দেরি হয়েছে আর তার মধ্যেই একের পর এক মৃ’ত্যুসংবাদ সামনে আসছে। প্রথমে ১১ জনের মৃ’ত্যুর খবর মিললেও, পরে আরও পাঁচজনের দে’হ উদ্ধার হওয়ায় সরকারি হিসেব অনুযায়ী মৃ’তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬! তবু ছবিটা এখানেই থেমে নেই, এখনও ৩০ জন নিখোঁজ বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁদের অনেকেই রাতে থাকা শ্রমিক বা কারখানার মধ্যেই বসবাস করতেন। ফলে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে, সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও এক ভয়ানক অভিযোগ! স্থানীয় সূত্রের দাবি, চুরির আশঙ্কায় রাতে কাজ করা শ্রমিকদের বাইরে থেকে তালা দিয়ে রাখা হতো। সেই দিন আচমকা আ’গুন ছড়িয়ে পড়তেই ভেতরে আটকে থাকা বহু মানুষ বেরোবার সুযোগই পাননি। কেউ ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে, কেউ আ’গুনে পু’ড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুমান। এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শ্রমিকদের সুরক্ষা আর প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে। কিন্তু ঘটনার পর এত সময় কেটে গেলেও, সেই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর এখনও অধরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই দুর্ঘটনা নিয়ে সমাজের নানা স্তরের মানুষ নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। রাজনীতি থেকে সংস্কৃতি, সব জায়গাতেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সমাজ মাধ্যমে সরব হয়েছেন টলিউডের পরিচিত মুখেরা। এই প্রেক্ষাপটেই অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের (Riddhi Sen) একটি পোস্ট নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কৌশিক সেনের পুত্র ঋদ্ধি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন আমাদের সামাজিক ভণ্ডামি আর সুবিধাবাদী নীরবতা নিয়ে, যা এই ধরনের শ্রমিক মৃ’ত্যুর পরে বারবার চোখে পড়েছে।
ঋদ্ধি তাঁর লেখায় তীব্র অথচ ঠান্ডা ব্যঙ্গের মাধ্যমে দেখিয়েছেন, কীভাবে আমরা ভরা পেটের খিদের জন্য খালি পেটের মানুষের মৃ’ত্যুকে গুরুত্ব দিই না! তিনি আরও লিখেছেন, চিন্তার কিছু নেই আমাদের অফুরন্ত ক্ষুধার জন্য ওয়াও মোমোর ব্যবসা আরও বাড়বেই, নাম বদলে গেলেও কিছু এসে যায় না। ‘ওয়াও মোমো’ থেকে ‘নাও মোমো’ নামে কী আসে যায়? কিন্তু তারপরই তিনি আঙুল তুলেছেন মৃ’তদের পরিচয়ের দিকে। “কোন লা’শের পদবী কী, ধর্ম কী?” এই বিচারেই নাকি ঠিক হয় আমাদের প্রতিক্রিয়া, শিরোনাম আর প্রশাসনিক তৎপরতা!
আরও পড়ুনঃ “আমাকে কেউ খোঁজে না, সবাই ভুলেই গেছে!” “ছবিকে ছবিই ভাবে, আর ব্যবসার দৃষ্টিতে দেখে না!” দশকের পর দশক পর্দায় অনন্য ছাপ রেখেছেন, আজ চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন নিমাই ঘোষ! অবশেষে অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হলেন চরিত্রাভিনেতা?
শ্রমিকের পরিচয় ডিকশনারিতে নেই বলেই, তাঁদের মৃ’ত্যুতে আমরা নির্বিকার। নিজের লেখায় ঋদ্ধি মনে করিয়ে দেন, “আমাদের জীবনযাপনের গতি। আমরা চাই ফাস্ট ফুড, ফাস্ট ডেলিভারি, ফাস্ট লিভিং। সেই দ্রুততার দাম যে কারও জীবনের বিনিময়ে চোকাতে হচ্ছে, সেটা আমরা দেখতে চাই না। তথ্য আজ সবচেয়ে দ্রুত পৌঁছয়, না চাইলেও সব খবর বিছানায় শুয়েই পেয়ে যাই। দু’দিন আফসোস করি, টিভির সামনে বসে ‘ছিঃ’ বলি, সমাজের অবক্ষয় নিয়ে মাথা নাড়ি। তারপর তৃতীয় দিন থেকেই আবার নতুন স্টল খোলা, নতুন নামে ব্যবসা চলা, সবকিছুতে আমরা নিজেদের মতো করে সাহায্য করি।” আপনারা কতটা সহমত তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে?






