‘শারদোৎসব’ নয়, বলতে হবে ‘দুর্গাপুজো’! “‘শারদোৎসব’ বললে যদি ধর্মীয় পরিচয় মুছে যায়, তাহলে রবীন্দ্রনাথের বইয়ের নামও বদলাতে হবে?” ভালো তৃণমূল ও খারাপ তৃণমূলের মতোই ব্যাপারটা? শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের পর ঋদ্ধির কটা’ক্ষে তুঙ্গে বিতর্ক!

‘শারদোৎসব’ না ‘দুর্গাপুজো’, এই শব্দের ব্যবহার নিয়েই এবার নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্গাপুজোর মণ্ডপের পাশে বামেদের বইয়ের স্টলে ‘শারদোৎসব’ লেখা নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দুর্গাপুজোকে ‘শারদোৎসব’ বলে উল্লেখ করলে উৎসবটির ধর্মীয় পরিচয়কে ছোট করে দেখানো হয়। পুজো কমিটিগুলির কাছেও তিনি বিষয়টি দেখার আবেদন জানান। কোনও কমিউনিস্ট সংগঠন পুজোর সময় বইয়ের স্টল করলে সেখানে ‘দুর্গাপুজো’ লেখা হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখার কথাও বলেন তিনি। বামপন্থীদের একাংশ সনাতন ধর্মকে শুধু সংস্কৃতির অংশ হিসেবে তুলে ধরতে চায় বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। এই মন্তব্যের পরেই সমাজ মাধ্যমে পাল্টা সরব হন অভিনেতা ঋদ্ধি সেন।

শুভেন্দুর বক্তব্যের পর ঋদ্ধি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি বইয়ের ছবি পোস্ট করেন। বইটির নাম ‘শারদোৎসব’ এবং লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ছবিতেই তা স্পষ্ট দেখা যায়। বইটির সঙ্গে ‘বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়’-এর প্রকাশনা সংক্রান্ত তথ্যও দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ ‘শারদোৎসব’ শব্দটি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে, সেই বিষয়টিই নিজের পোস্টের মাধ্যমে সামনে আনেন অভিনেতা। তাঁর পোস্টের বক্তব্য ছিল, যদি ‘শারদোৎসব’ শব্দকে সরিয়ে শুধু ‘দুর্গাপুজো’ বলা হয়, তাহলে অন্য কিছু পরিচিত শব্দও কি একইভাবে বদলে দেওয়া হবে? এই প্রসঙ্গেই ভোটের পর শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানকে ‘ঘুষ গ্রহণ অনুষ্ঠান’ বলে অভিহিত করার ব্যঙ্গাত্মক তুলনা টানেন তিনি। ঋদ্ধির সেই মন্তব্য সামনে আসতেই সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক।

ঋদ্ধির বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল শব্দের ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের দিকে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কোনও একটি শব্দের সঙ্গে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় জুড়ে দিয়ে সেটির ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তোলা কতটা যুক্তিসঙ্গত। তাঁর পোস্টে রবীন্দ্রনাথের ‘শারদোৎসব’ বইয়ের ছবি ব্যবহার করাও সেই বক্তব্যেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ছবিটি সামনে আসার পর তাঁর সহকর্মী এবং অনুরাগীদের মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একই সঙ্গে ‘শারদোৎসব’ শব্দটির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবহার নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিতর্কটি তাই শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে আটকে থাকেনি, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তুলেছে। শুভেন্দুর মন্তব্যের পর ঋদ্ধির এই পাল্টা পোস্ট সেই বিতর্ককে আরও প্রকাশ্য করে তুলেছে।

এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যের পর আরও একটি পুরনো বিষয় সামনে এসেছে। বেশ কয়েক বছর আগে দুর্গোৎসবের সময় শুভেন্দু নিজেই সমাজ মাধ্যমে ‘শারদ’ শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন বলে সেই পুরনো পোস্টের কথা উঠে এসেছে। সেই পোস্ট এখনও সমাজ মাধ্যমে রয়েছে বলেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানের ‘শারদোৎসব’ নিয়ে আপত্তির সঙ্গে অতীতের সেই শুভেচ্ছাবার্তার তুলনা টানা হচ্ছে। অন্যদিকে শুভেন্দু শুধু শব্দের ব্যবহার নিয়েই নয়, পুজোর আয়োজনকে সনাতনী ঐতিহ্য মেনে করার উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে তাই দুর্গাপুজোর ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক অর্থ এবং শব্দের ব্যবহার, তিনটি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। এর মধ্যেই ঋদ্ধির রবীন্দ্রনাথের বই তুলে ধরা পোস্ট বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আরও পড়ুনঃ ভোররাতে আচমকাই ঘুম ভাঙল উত্তম কুমারের! স্বপ্নে এসেছিলেন স্বয়ং বিঘ্নহর্তা শ্রী গণেশ! মহানায়ককে কী বিশেষ নির্দেশ দেন তিনি? কী এমন দেখেন স্বপ্নাদেশে যে রাতারাতি বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন বিগ্রহ? কীভাবে ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে শুরু হল গনেশ পুজো? জানুন সেই অলৌকিক কাহিনী, যা আজও শুনলে গায়ে কাঁটা দেয়!

সব মিলিয়ে ‘শারদোৎসব’ শব্দটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে সমাজ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, অন্যদিকে অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের পাল্টা মন্তব্য, দুইয়ের জেরে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা চলছে। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শারদোৎসব’ বইয়ের প্রচ্ছদ সামনে এনে ঋদ্ধির প্রশ্ন তোলার ধরনটি নজর কেড়েছে। শুভেন্দুর বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর পুরনো ‘শারদ’ শুভেচ্ছাবার্তার প্রসঙ্গও একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে ‘শারদোৎসব’ শব্দটি ঘিরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ধর্মীয় পরিচয় এবং বাংলা সংস্কৃতির ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে এই বিতর্ক কোথায় গিয়ে থামে, এখন সেদিকেই নজর। তবে আপাতত ঋদ্ধির পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

You cannot copy content of this page