বিনোদন জগতে নতুন একটি সমস্যা ক্রমশ দাপট দেখাচ্ছে – তা হল ‘ব্যান কালচার’। পশ্চিম বাংলার টলিউড শিল্পীদের মধ্যে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যেখানে শুধু একজন শিল্পী নয়, বরং পুরো ইউনিটের টেকনিশিয়ান, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিচালকরা প্রভাবিত হচ্ছেন। এই ধরনের কালচার শিল্পীদের সৃজনশীলতা ও কাজের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের প্রজেক্টগুলোর ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। অনেক সময় এমন নির্দেশনা আসে যে কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে কাজ করতে দিলে টেকনিশিয়ানরা অংশ নেবে না। ক্যামেরার আড়ালের এই দ্বন্দ্ব সাধারণ মানুষের চোখে না পড়লেও শিল্পীদের জীবনে মাঝেমধ্যে চরম সংকট হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। তিনি বলেছেন, “আজকের ব্যান কালচারের জন্য আমাদের মতো শিল্পীরা কাজ করতে পারছে না। অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রুদ্রনীল ঘোষসহ অনেক প্রিয় সহকর্মীও এই পরিস্থিতির কারণে দূরে সরে গেছেন। এটা শুধুমাত্র একজনের ক্ষতি নয়, পুরো ইউনিটের ওপর প্রভাব ফেলে। আমরা সবাইকে চারগুণ ভেবে পরবর্তী কাজ নিতে বাধ্য হচ্ছি।” ঋদ্ধি মনে করেন, ব্যান কালচারকে কেবল একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধভাবে দেখা ভুল। এই প্রথা শিল্পী সমাজের সঙ্গে যুক্ত সবার ওপর প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও জানান, তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে, একটি ছবিতে কাজ করার সুযোগ পাননি। সুমন ঘোষের প্রজেক্টে টেকনিশিয়ানরা তাকে সমর্থন না দেওয়ায় অংশ নিতে পারেননি। ঋদ্ধি বলেন, “এমন পরিস্থিতি শুধু আমার ক্ষতি করছে না, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও টেকনিশিয়ানদেরও প্রভাবিত করছে। আমাদের পেশার প্রকৃতি ক্ষণস্থায়ী – এক মাসে কাজ আসে, পরের ছয় মাস খালি থাকে। কাজ বন্ধ হলে পরিবারের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে যায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের ব্যান কালচার শিল্পীর সৃজনশীল স্বাধীনতাকে সীমিত করে এবং পুরো শিল্পমাধ্যমের পরিবেশকে বিষাক্ত করে।
ঋদ্ধি সেন মনে করেন, এই সমস্যার সমাধান শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমরা যেখানেই থাকি, সেটা ইন্ডাস্ট্রি বা রাজনীতির চাপে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সমাজেরও একটি প্রতিফলন। মানুষ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজস্ব মত প্রকাশ করে এবং যদি কারোর সাথে মতবিরোধ হয়, তা অবিলম্বে ব্লক বা ট্রোল করার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। তাই আমাদের শিল্পজগতে স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি।”
আরও পড়ুনঃ “খেলা খেলতে সবাই পারে, নোং’রা খেলাটা…” “আমি সব জানতাম, তবু ওকে গ্রহণ করেছি!” প্রাক্তন স্বামী সব্যসাচী এবং সায়কের তোলা ‘বহুগা’মিতা’র অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা সরব সুস্মিতার নতুন স্বামী শুভাশিস!
শেষে, ঋদ্ধি আশাপ্রকাশ করেছেন যে, শিল্পীরা এখনো সচেতনভাবে ও সাহসের সঙ্গে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। থিয়েটার ও অন্যান্য সৃজনশীল প্রকল্পে শিক্ষাদান ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি চেষ্টা করছেন এই পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে। তিনি বলেন, “আমাদের কাজ হলো সৃজনশীলতা বজায় রাখা। শিল্পীরা নিজের মত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে শিল্পমাধ্যম প্রকৃত অর্থে সমৃদ্ধ হয়। এটা আমাদের পেশার প্রাকৃতিক অধিকার।” এছাড়াও অভিনেতা জানিয়েছেন “ কোন জায়গায় ক্ষমা চাওয়ার কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছি না” সুতরাং নিজের মতই কাজ করে যেতে হবে।






