তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা ছবির অন্যতম জনপ্রিয় মুখ তিনি। পর্দায় যেমন শক্তিশালী চরিত্রে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন, তেমনি ব্যক্তিজীবন ও ইন্ডাস্ট্রির নানা অভিজ্ঞতাও তাকে বারবার আলোচনায় এনেছে। দীর্ঘ কেরিয়ারে সাফল্যের পাশাপাশি নানা টানাপোড়েনও দেখেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত খোলাখুলি জানালেন টলিউডের অন্দরের রাজনীতি, সহকর্মীদের ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত কষ্টের কথা—যা শুনে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে ইন্ডাস্ট্রি মহলে।
সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণা স্পষ্ট বলেন, তিনি নিজে রাজনীতি বোঝেন না—না বাস্তব রাজনীতি, না সিনেমার অন্দরমহলের রাজনীতি। তাঁর কথায়, “আমি আমার জীবনের রাজনীতিই বুঝি না, সিনেমার রাজনীতিও বুঝি না। সেই জন্য অনেক সময় দুঃখ পাই, কষ্ট পাই।” দীর্ঘদিন ইন্ডাস্ট্রিতে থাকার পরও এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী। অনেক সময় তিনি চুপ করে গিয়েছেন, কারণ কাউন্টার করা বা প্রকাশ্যে কিছু বলা তাঁর স্বভাব নয়।
এ প্রসঙ্গে একাধিক অভিজ্ঞতার কথাও শোনান তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, অনেকেই তাঁর সরলতার সুযোগ নিয়েছে। তাঁর কথায়, তিনি যাদের সাহায্য করেছেন বা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরে নিজের সুবিধামতো অন্য পথে চলে গেছেন। তখনই তাঁর মনে হয়েছে, যেন তাঁকে ‘মই’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ঋতুপর্ণা বলেন, “আমি কাউকে ঠকাইনি। কিন্তু অনেক সময় মনে হয়েছে, কেউ কেউ আমাকে ব্যবহার করে নিজের পথ তৈরি করেছে। তখন খুব কষ্ট লাগে, কিন্তু আমি চুপ করে যাই।”
আরও পড়ুনঃ “মঞ্চকে ‘মাচা’ বলে অপমান করবেন না…এই টাকা দিয়েই যেমন আমার পেট চলেছে, অনেকের বাড়ি-গাড়িও হয়েছে” শিল্পী হয়েও অন্যের শিল্প সাধনাকে তাচ্ছিল্য! মঞ্চভিত্তিক অনুষ্ঠানকে ছোট করে দেখার প্রবণতা নিয়ে সরব, গায়িকা কেকা ঘোষাল!
সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। একজন বড় পরিচালকের ছবিতে তাঁর অভিনয় করার কথা ছিল। গল্প লেখা থেকে শুরু করে ফটোশুট—সবকিছুই নাকি তাঁকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছিল। কিন্তু পরে একদিন সংবাদপত্রে তিনি দেখেন, সেই ছবিতে অভিনয় করছেন অন্য এক অভিনেত্রী। বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টের হলেও তিনি কাউকে কিছু বলেননি। কারণ সেই পরিচালকের প্রতি তাঁর সম্মান ও ভালোবাসা এতটাই বেশি যে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি।
সাক্ষাৎকারে রাজনীতি প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ঋতুপর্ণা। তিনি জানান, রাজনৈতিক মহল থেকে নানা সময়ে তাঁর নাম নিয়ে কানাঘুষো শোনা গেলেও সক্রিয় রাজনীতিতে আসার কোনও ইচ্ছে তাঁর নেই। তাঁর কথায়, একজন শিল্পী হিসেবে এখনও অনেক কাজ বাকি। অভিনয়, প্রযোজনা, নাচ এবং লেখালেখি—এই সবকিছু নিয়েই তিনি এগোতে চান। তাই রাজনৈতিক ময়দানে নামার বদলে শিল্পের মাধ্যমেই মানুষের কাছে পৌঁছতে চান তিনি।






“মঞ্চকে ‘মাচা’ বলে অপমান করবেন না…এই টাকা দিয়েই যেমন আমার পেট চলেছে, অনেকের বাড়ি-গাড়িও হয়েছে” শিল্পী হয়েও অন্যের শিল্প সাধনাকে তাচ্ছিল্য! মঞ্চভিত্তিক অনুষ্ঠানকে ছোট করে দেখার প্রবণতা নিয়ে সরব, গায়িকা কেকা ঘোষাল!