টলিউড ফেডারেশনের নির্বাচন ঘিরে এই মুহূর্তে টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বর বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। স্বরূপ বিশ্বাস জমানার অবসানের পর এবারের ভোটপর্বকে কেন্দ্র করে বিনোদন দুনিয়ার কর্মীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। তবে এই টলিপাড়ার অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের আবহের মাঝেই আচমকা প্রবেশ ঘটেছে রাজ্য রাজনীতির। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে হঠাৎই বসেছে লোহার ব্যারিকেড। শুধু তাই নয়, চারিদিকের নিরাপত্তা জোরদার করতে সেই বাড়ির রেলিং অনেকটাই উঁচু করে দেওয়া হয়েছে। এই আকস্মিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা লৌহকপাট বসানো নিয়ে এবার সরাসরি মুখ খুললেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।
রবিবার কাজের সূত্রে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে হাজির হয়ে এই গরম ইস্যুতেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে এই ধরণের সুরক্ষা বলয় ও ব্যারিকেড দেওয়ার প্রসঙ্গে রূপাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি সাফ জানান যে এই ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না। সাধারণ ঢঙে উত্তর দিয়ে অভিনেত্রী আরও বলেন, কেন এমন রেলিং হুট করে উঁচু করা হলো, তা যাঁরা এই কাজ করিয়েছেন একমাত্র তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। এরপরই রাজ্য রাজনীতির অন্য একটি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে সরব হতে দেখা যায় এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে।
জ্ঞানেশ কুমারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদের একজোট হয়ে প্রতিবাদ করার প্রসঙ্গে কড়া ও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। রূপার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় থেকে যে কেউ যেকোনো বিষয়ের যৌক্তিক বিরোধিতা করতে পারেন, কারণ এটি সবার নাগরিক অধিকার। গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বললেও আন্দোলনের নামে কোনো ধরণের অনভিপ্রেত হিংসা ছড়ানোকে কোনোভাবেই সমর্থন করেননি রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি মনে করেন, বিরোধিতা বা প্রতিবাদের ধরণ সবসময় এমন হওয়া উচিত যার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও ইতিবাচক সমাধান সূত্র খুঁজে বের করা যায়। যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সেটির ভালো এবং মন্দ দিক বিচার করতে শেখা এবং গভীরভাবে ভাবা দরকার।
আন্দোলনের নামে এমন কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করা একদমই ঠিক নয় যেখানে প্রকাশ্য রাস্তায় পুলিশদের মারধর খেতে হয়। বিশেষ করে ডিউটিরত মহিলা পুলিশ কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করা যে সুস্থ গণতান্ত্রিক কোনো পদ্ধতি হতে পারে না, তা স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেন তিনি। অন্যদিকে, চলতি ফেডারেশন নির্বাচন নিয়ে তিনি জানান, এবার সম্পূর্ণ নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনেই ভোটগ্রহণ পর্ব চলছে। অতীতে অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের জমানায় টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে যা যা বেনিয়ম ঘটেছিল, তা যে স্টুডিওর বেশিরভাগ টেকনিশিয়ানই ভালোভাবে নেননি, তাও মনে করিয়ে দেন রূপা। ফেডারেশন নির্বাচনের দ্বিতীয় দিনে ভোটদান পর্ব খতিয়ে দেখতে স্টুডিওতে সশরীরে হাজির হন টলিউডের মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী।
সামগ্রিকভাবে টেকনিশিয়ানদের ভোটদান পর্ব একেবারে শান্তিপূর্ণভাবে চললেও বেশ কিছু অব্যবস্থাপনার ছবি সামনে এসেছে। তাড়াহুড়োর চোটে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আনতে ভুলে যাওয়া বা ভোটার কার্ড জমা না দেওয়ায় অনেকের নামই চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তালিকায় নাম না পেয়ে এদিন স্টুডিওর এক ভোটার ক্ষোভে ও দুঃখে মিঠুনের সামনেই কান্নাকাটি শুরু করে দেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মহাগুরু তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি সামাল দেন এবং সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, তিনি বিষয়টিকে অনেক বড় করে বুঝিয়েছেন। মিঠুন সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, “কেউ দুঃখ করিস না কেউ কষ্ট পাস না, যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের নিয়ে বসব”।
আরও পড়ুনঃ রাজবীরের কান্না ছাপিয়ে মেগা টুইস্ট! বিগ বসের ‘সিক্রেট রুম’ আসলে কী? সেখানে কি খেলা থেকে ছুটি, নাকি রয়েছে ফেরার সুযোগ? গোপন কক্ষে বন্দি নন্দিনীর আসল পরিণতি কী? তিনি কি শুধুই দর্শক, নাকি বাকিদের ভাগ্য বদলানোর ক্ষমতা রয়েছে তাঁর হাতে? জেনে নিন এই রহস্যময় ঘরের আসল সমীকরণ!
কেন নাম বাদ গেল তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত ভুয়া ও মৃত কার্ড বাতিল করার আশ্বাস দেন তিনি। চলতি ভোটের এই টানটান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাদানুবাদের ঊর্ধ্বে উঠে টলিপাড়া পেল এক দুর্দান্ত সিনেমাটিক চমক। দীর্ঘদিন পর রুপোলী পর্দায় একসাথে জুটি বাঁধতে চলেছেন দুই মেগাস্টার মিঠুন চক্রবর্তী ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। স্টুডিও চত্বরে দাঁড়িয়ে রূপার লড়াকু ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করতে গিয়ে মিঠুন জানান যে রূপা এখনও অভিনয়ে ও কাজে ভীষণভাবে সক্রিয়। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মহাগুরু নিজেই খোলসা করেন যে খুব তাড়াতাড়ি তাঁরা দুজনে নতুন একটি বাংলা ছবিতে একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে চলেছেন। ফেডারেশনের ভোটের ফলাফল বা সমীকরণ যাই হোক না কেন, মিঠুন ও রূপার এই একসাথে পর্দায় ফেরার মহাকায় ইঙ্গিত টলিউডের বিনোদনপ্রেমী দর্শকদের মধ্যে এক নতুন উন্মাদনা ও খুশির হাওয়া তৈরি করেছে।






