“পকেটে ফোন নিয়ে অভিনয়…মনে হয় এক থাবড়া মা’রি!” নতুন শিল্পীদের নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন শুভাশিষ মুখোপাধ্যায়! সমাজ মাধ্যম ও প্রযুক্তির আসক্তিতেই হারাচ্ছে মনোযোগ, প্রতিভা? বর্তমান প্রজন্মকে কোন কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন অভিনেতা?

বর্তমান যুগে স্মার্টফোন যেন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। একসময় যে পৃথিবীকে জানতে বই বা সংবাদপত্রের ওপর নির্ভর করতে হত, এখন তা এক মুঠো হাতের মধ্যেই বন্দি। তবে এর উল্টো দিকটাও কম ভয়ঙ্কর নয়। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার মানুষের মনোযোগ বা ফোকাস নষ্ট করছে এটা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। কাজের মাঝে, পড়াশোনার ফাঁকে, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও ফোনের নোটিফিকেশন যেন সবকিছুর উপর প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে বাস্তব জীবনের প্রতি মনোযোগ কমে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।

এবার এই বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা শুভাশিষ মুখোপাধ্যায়। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহুমুখী অভিনেতা তিনি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি টলিউডে কাজ করছেন। মূলত তার অসামান্য কমিক টাইমিংয়ের জন্য নব্বইয়ের দশকের বাংলা ছবিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তবে শুধুই কমেডি নয়, তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। অভিনয় জগতে আসার আগে জীবিকার তাগিদে সেলসম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন যা তার সংগ্রামের এক বড় উদাহরণ।

শুধু হাস্যরস নয়, সিরিয়াস চরিত্রেও নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন শুভাশিষ । ‘হারবার্ট’ ছবিতে তার অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। আবার ‘মহালয়া’ ছবিতে কিংবদন্তি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নতুন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ‘কালপুরুষ’, ‘শিল্পান্তর’ কিংবা সাম্প্রতিক ‘হত্যাপুরী’-তেও তার অভিনয় নজর কেড়েছে। বর্তমানে তিনি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও সমানভাবে সক্রিয়, ‘তানসেনের তানপুরা’ বা আসন্ন ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’-এর মতো প্রজেক্টে কাজ করছেন। পাশাপাশি ‘অতি উত্তম’ ও ‘যমালয়ে জীবন্ত ভানু’-র মতো ছবিতেও তাকে দেখা গেছে সম্প্রতি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শুভাশিষ মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পকেটে ফোন নিয়ে অভিনয় করা তার একেবারেই সহ্য হয় না। তার কথায়, “মনে হয় থাবড়া মারি!” নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অভিনয় করতে গেলে ফোন বাড়িতে রেখে আসা উচিত। বারবার ফোনে মন দিলে কোনও কাজই ভালোভাবে করা সম্ভব নয়। এমনকি তিনি একটি শুটিং ফ্লোরের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন, যেখানে দেখেছেন শট শেষ হতেই সবাই ফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। সেই প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, “এদের অভিনয় করার দরকার নেই, এরা বাড়িতেই থাকতে পারে।”

আরও পড়ুনঃ “আমি আর ঋদ্ধিমা দায়িত্ব নিলাম…” আবেগঘন কণ্ঠে গৌরবের অঙ্গীকার! বড় দাদা রাহুলকে হারানোর পর মন শক্ত করছেন সব্যসাচী পুত্র! প্রয়াত অভিনেতার জন্য কোন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন দম্পতি?

সবশেষে বলা যায়, প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের দক্ষতা ও মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতার এই মন্তব্য নতুন প্রজন্মের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। অভিনয় হোক বা অন্য কোনও কাজ সাফল্য পেতে হলে একাগ্রতা এবং নিষ্ঠা সবচেয়ে জরুরি। ফোনের দুনিয়া থেকে কিছুটা দূরে সরে বাস্তবের কাজে মন দেওয়াই হতে পারে সঠিক পথ।a

You cannot copy content of this page