বাংলার রাজনীতিতে বড় পালাবদলের দিনে ফের আলোচনায় অভিনেতা সোহেল দত্ত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ের পর বিজেপির তরফে শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা বার্তা দেন তিনি। আর সেই পোস্ট ঘিরেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, কিছুদিন আগেও তিনি তৃণমূলের হয়ে প্রচারে দেখা গিয়েছিলেন। তারও আগে শুভেন্দু অধিকারীকে বিশ্বাস করা ভুল ছিল বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন। তাই রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়ে নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকেই তাঁর এই পদক্ষেপকে ‘ঘর ওয়াপসি’ বলে ব্যাখ্যা করছেন। আবার কেউ কেউ একে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন।
সোহেল দত্তর পরিচিতি মূলত শিশুশিল্পী হিসেবে। অভিনয় জগতের সেই পরিচিত মুখ ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। সেই সময় টলিউডের একাধিক তারকাও গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন। সোহেলের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সুসম্পর্কও তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বেশিদিন সেই সম্পর্ক টেকেনি। মাত্র দু’বছরের মধ্যেই দল ছাড়েন তিনি। পরে জানান, বিজেপির নীতি ও আদর্শের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। তাঁর কথায়, দলের ভাবনার সঙ্গে মন থেকে কোনওদিন একাত্ম হতে পারেননি।
দল ছাড়ার সময় শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন সোহেল। তিনি বলেছিলেন, “উনি আমার বাড়িতে এসে মা-বাবাকে বলে যান, আপনার ছেলের দায়িত্ব আমার। যদিও বাবা-মা বারণ করেছিল। কিন্তু আমি একটা ভুল করে বসি শুভেন্দু অধিকারীকে বিশ্বাস করে।” আরও বলেন, “আমি আসলে বিজেপিতে গিয়েছিলাম রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে। গিয়ে বুঝলাম, বড় ভুল করেছি।” একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ ছিল, “ওই দলের নীতিগত আর্দশ কোনও দিনও মন থেকে মেনে নিতে পারিনি। এছাড়াও ওঁরা শিল্পীদের সম্মান করতে পারেন না।” সেই সময় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তৃণমূলে ফিরে স্বস্তি পেয়েছেন।
এরপর ধীরে ধীরে তাঁকে প্রাক্তন শাসক দলের একাধিক কর্মসূচিতে দেখা যায়। ২০২৫ সালের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। এমনকী প্রকাশ্যে “দিদিতেই শান্তি” বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের হয়ে ভোটপ্রচারে অংশ নেন সোহেল। ফলে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, তিনি পুরোপুরি ঘাসফুল শিবিরেই সক্রিয়। কিন্তু নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর ছবিটা আবার বদলে যায়। বিজেপির জয়ের পর তাঁর নতুন অবস্থান নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে।
৮ মে অমিত শাহ শুভেন্দু অধিকারীর নাম বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করার পর ফেসবুকে পোস্ট করেন সোহেল। সেখানে তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন! এবং আশা করছি, তিনি বাংলা ও বাংলার সিনেশিল্পের উন্নতিসাধনের জন্য সবকিছু করবেন।” প্রথম পোস্টে শুভেন্দুর সঙ্গে পুরনো একটি ছবিও শেয়ার করেছিলেন তিনি। তবে সেই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেলে নেটমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন অভিনেতা। অনেকেই তাঁকে ‘পাল্টিবাজ’ বলে কটাক্ষ করেন। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুভেন্দুর সঙ্গে শেয়ার করা ছবিটি সরিয়ে দেন সোহেল দত্ত।






