“সিস্টেমের মধ্যেই রয়েছে গলদ! কিছু একটা ঘটলেই সেই কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে আসে!” রাহুলের মৃ’ত্যুতে বি’স্ফোরক অভিনেত্রী সোহিনী সরকার!

রাহুলের আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন সোহিনী সরকার। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে আমাদের চারপাশের সিস্টেমের একাধিক ত্রুটি ও অবহেলার চিত্র। তিনি মনে করেন, কোনও দুর্ঘটনা ঘটলেই সামনে আসে অসংখ্য ফাঁকফোকর, অথচ তার আগে সব কিছুই আড়ালে থেকে যায়। আমরা যেন সমস্যার গভীরে না গিয়ে উপর থেকে ঢেকে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, আর সেই কারণেই বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।

এই ঘটনার পর অনেকেই পথে নেমে প্রতিবাদে সামিল হলেও, সেই আন্দোলনের মধ্যেও ছিল আবেগ ও দিশাহীনতা। সোহিনীর মতে, এক সময় মনে হয়েছিল আসল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে সবাই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই বেশি চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। অথচ মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছিল দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা। তবুও তিনি স্বীকার করেন, এই পরিস্থিতি আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে নিরাপত্তা প্রশ্নে আমরা এখনও অনেকটাই পিছিয়ে।

শুটিং সেটে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি নতুন নয় বলেও উল্লেখ করেন সোহিনী। তাঁর দাবি, প্রায় সব অভিনেতাকেই কখনও না কখনও দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে, বিশেষ করে আউটডোর শুটিংয়ের সময়। তিনি মনে করেন, যথাযথ অনুমতি নেওয়া হলে হয়তো এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত, কারণ সংশ্লিষ্ট জায়গাটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসন সাধারণত এমন ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেয়, কিন্তু নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার ফলেই এমন অঘটন ঘটেছে বলে তাঁর ধারণা।

রাহুলের মৃত্যু ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও গুজব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। কেউ বলছেন শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল, কেউ দাবি করছেন রাহুল নিজেই জলে নেমেছিলেন, আবার কেউ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তবে সোহিনীর মতে, এই সব কথার অনেকটাই ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, একাধিক মানুষের অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতাই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী।

আরও পড়ুনঃ “১০-১২ দিন বিছানা থেকে উঠতেই পারিনি…জীবনের অনেকটা সময় নষ্ট করেছি” মা’দকের নে’শায় জনপ্রিয়তার শিখর থেকে হারিয়ে যান রাহুল অরুণোদয়! মৃ’ত্যুর আগেই সেই অন্ধকার অধ্যায় জানিয়ে গিয়েছিলেন অভিনেতা? কোনও রিহ্যাব না গিয়ে নিজেকে মূলস্রোতে কীভাবে ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি ?

ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গেও নিজের মত প্রকাশ করেছেন সোহিনী সরকার। তিনি বলেন, আর্থিক সাহায্য হয়তো প্রয়োজন, বিশেষ করে রাহুলের পরিবারকে ভবিষ্যতে এগিয়ে নিয়ে যেতে, কিন্তু কোনও অর্থই একজন মানুষের অসময়ের চলে যাওয়ার ক্ষতি পূরণ করতে পারে না। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রকৃত দায় কার এবং সেই উত্তর আদৌ সামনে আসবে কিনা, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়।

You cannot copy content of this page