অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু যেন এখনও মেনে নিতে পারছে না টলিউড। হঠাৎ করেই ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যু নয়, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির ভিতরকার বাস্তবতাকে সামনে এনে দিয়েছে। শোক, ক্ষোভ, বিভ্রান্তি সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, ভেতরের ছবিটা যে অনেক জটিল, তা এবার যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তাঁর কথায়, এতদিন ধরে যে নিয়ম-কানুনের কথা বলা হচ্ছে, তা তিনি নিজের অভিজ্ঞতায় কোনওদিন দেখেননি। “সবাই বলছে নিয়ম ছিল, কিন্তু খাতায়-কলমে আমি কখনও দেখিনি”এই বক্তব্যে স্পষ্ট তাঁর ক্ষোভ। তিনি আরও বলেন, একটা প্রাণ চলে যাওয়ার পর হঠাৎ করে সবার মধ্যে সচেতনতা জাগা খুবই বেদনাদায়ক। আগে কেন এই উদ্যোগ দেখা যায়নি, সেটাই তাঁর বড় প্রশ্ন।
রাহুলের মৃত্যুর পর ইন্ডাস্ট্রিতে মিছিল, প্রতিবাদ, মিটিং সবই চলছে। কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যেই শ্রীলেখা খুঁজে পাচ্ছেন এক ধরনের দ্বিচারিতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কোনও মিছিল বা মিটিংয়ে যাননি, কারণ তিনি আগে পুরো বিষয়টা বুঝতে চেয়েছেন। তাঁর মতে, ক্যামেরার সামনে অনেকেই সহানুভূতি দেখালেও, তার কতটা সত্যি আর কতটা ‘দেখানো’, সেটা বোঝা কঠিন। “কে সত্যি আর কে মুখোশ পরে আছে, সেটা আলাদা করা এখন খুব কঠিন” এই কথাতেই উঠে আসে তাঁর হতাশা।
শুধু আবেগ নয়, বাস্তব দিকটাও তুলে ধরেছেন শ্রীলেখা। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন টেকনিশিয়ানরা। বড় শিল্পীরা হয়তো কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও সামলে নিতে পারবেন, কিন্তু লাইটম্যান, স্পটবয়দের মতো মানুষদের কাছে প্রতিদিনের আয়টাই ভরসা। “৬০০-৮০০ টাকা না পেলে তাদের সংসারই চলে না” এই বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই আন্দোলনগুলোর মধ্যে তাদের কথা কতটা ভাবা হচ্ছে?
আরও পড়ুনঃ কর্মবিরতি প্রত্যাহার, কাল থেকে ফের শুরু হবে শুটিং! মঙ্গলবার বৈঠকের পরই বড় সিদ্ধান্ত টলিউডে! রাহুলের মৃ’ত্যুতে অভিযুক্তদের নিয়ে চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত! দেওয়া হলো এক মাসের কোন বিশেষ শর্ত?
সবশেষে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের আরও গভীর সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেছেন অভিনেত্রী। সরাসরি স্বরূপ বিশ্বাসের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেকেই ভয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন না। কেউ প্রতিবাদ করলে পরে চাপে পড়ে তা ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন। তাঁর মতে, সমস্যাটা সাময়িক নয়, বরং গোড়ায় গলদ রয়েছে। শুধু মিছিল বা স্ট্রাইক করে এই সমস্যার সমাধান হবে না, আগে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। রাহুলের মৃত্যুর পর যে এত আলোচনা, এত বক্তব্য সামনে আসছে, তার মধ্যেও নানা ব্যক্তিগত স্বার্থ বা উদ্দেশ্য কাজ করছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর কথায় পরিষ্কার, এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির বহুদিনের চাপা সমস্যাকে সামনে এনে দিয়েছে।






