পকেটে টাকা ছিল না, পেটে ভাত জোটানোই ছিল কঠিন, —চপ ভেজে চলত জীবন! কঠিন সময় পেরিয়ে আজ টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম নাম সুপ্রিয় দত্ত! অভিনেতার সংগ্রামের গল্প জানলে চোখ ভিজবে আপনার

ঝাঁ চকচকে আলো, ক্যামেরার ফ্ল্যাশের আড়ালে লুকিয়ে থাকে বহু সংগ্রামের গল্প। টলিউডের পরিচিত মুখ সুপ্রিয় দত্তের জীবনও তেমনই এক বাস্তব গল্প, যা শুনলে অনেকেই নিজের জীবনের ছায়া খুঁজে পাবেন। আজ যাঁকে বড় পর্দায় কিংবা ছোট পর্দায় সাবলীল অভিনয়ে দেখে দর্শক মুগ্ধ হন, তাঁর শৈশব কিন্তু কেটেছে টানাটানির মধ্যেই। অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, তবুও স্বপ্ন দেখার সাহস কখনও হারাননি তিনি।

গ্রামের এক গরিব মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম সুপ্রিয় দত্তের। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন, কিন্তু সংসারের বাস্তবতা তাঁকে খুব তাড়াতাড়িই বড় করে দেয়। আর্থিক অনটনের কারণে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পেটে ভাত জোটানোই তখন ছিল প্রধান লড়াই। এমনকি চপ-ভাজার দোকানেও কাজ করেছেন তিনি।

জীবনের মোড় ঘোরে যখন তিনি কলকাতায় এসে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন। মঞ্চের আলো-আঁধারিতে নিজের জায়গা খুঁজে নিতে শুরু করেন সুপ্রিয়। থিয়েটারের অভিনয়েই ধরা পড়ে তাঁর স্বাভাবিক প্রতিভা। সেখানেই তাঁর কাজ নজরে আসে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর। এরপরই সুযোগ আসে বড় পর্দায় কাজ করার। প্রথম ছবির অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর কাছে স্বপ্নপূরণের মতো—যা ধীরে ধীরে তাঁকে পৌঁছে দেয় মূলধারার সিনেমায়।

২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চিরদিনই তুমি যে আমার ছবির মাধ্যমে দর্শকের কাছে আরও পরিচিত হয়ে ওঠেন সুপ্রিয় দত্ত। এরপর চ্যালেঞ্জ, সেদিন দেখা হয়েছিল, লে ছক্কা, দুই পৃথিবী—একাধিক সফল ছবিতে নানা চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। নায়িকার বাবার চরিত্র হোক বা খলনায়ক, আবার কখনও হালকা ফানি চরিত্র—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অভিনয়ে ধরা পড়েছে পরিণত দক্ষতা। বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দাতেও সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ একটা বছর কেটে যাওয়ার মুখে, এখনও হানিমুনে গিয়ে উঠতে পারলাম না! বিয়ের বর্ষপূর্তির আগে তীব্র আ’ক্ষেপ শ্বেতার, রুবেলের কাজ আর সংসারের মাঝেই হাঁপিয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী?

এতটা পথ পেরিয়েও সুপ্রিয় দত্ত আজও নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবেই ভাবতে ভালোবাসেন। তাঁর কথায়, “সফলতাকে কখনও মাথায় তুললে চলবে না, পায়ের তলায় রাখতে হয়।” অভাবের দিনগুলো তাঁকে শিখিয়েছে বিনয় আর ধৈর্য। সেই শিক্ষাই আজও তাঁর চলার পথের দিশা। গ্রামের গরিব পরিবারের সেই ছেলেটি আজ টলিউডের পরিচিত মুখ—তবুও মাটির সঙ্গে সংযোগটাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।

You cannot copy content of this page